আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম(আপডেট)

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম(আপডেট)

বাংলাদেশে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) হলো নাগরিক পরিচয়ের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। অনেক সময় বাসা‑ঠিকানা বদলে যায় বা আগের ঠিকানায় ভুল থাকে — তখন নিজের ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে ওঠে। ঠিকানা পরিবর্তন মানে শুধু ঠিকানা ফিল্ড‑এ সংশোধন নয়, অনেক সময় নতুন এলাকায় ভোটার এলাকা (constituency) বদলানোর কাজও হতে পারে।

এই পোস্টে আমরা বিস্তারিত জানবো—
✔️ ঠিকানা পরিবর্তনের ধরন।
✔️ অনলাইন ঠিকানা সংশোধনের সীমাবদ্ধতা।
✔️ ভোটার এলাকা পরিবর্তনের (Migration) স্টেপ‑by‑স্টেপ নিয়ম।
✔️ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস।
✔️ আবেদন জমা ও সময় ← সবই সহজভাবে জানানো হয়েছে ।

ঠিকানা পরিবর্তনের ধরন

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা বদলাতে মূলত দুইটি অংশ থাকে:

1) ঠিকানার ছোটখাটো সংশোধন

এতে বাসা নম্বর, হোল্ডিং নাম্বার, পোস্ট অফিস/পোস্ট কোড ইত্যাদি ছোটখাটো তথ্য অনলাইনে সংশোধন করা যায়। তবে এটি শুধুমাত্র NID‑এর বর্তমান ঠিকানা অংশে করা হয়, ভোটার এলাকা বদলায় না।

2) ভোটার এলাকা বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন

যদি আপনি এক জেলার এলাকাজুড়ে থাকতে থাকেন বা ভোটার হিসেবে নতুন এলাকায় যোগ দিতে চান, তাহলে এটি অনলাইনে করা যায় না — আপনাকে ভোটার মাইগ্রেশন ফরম‑১৩ (Form‑13) পূরণ করে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

 অর্থাৎ ছোটখাটো ঠিকানা সংশোধন অনলাইনে করা যায়, কিন্তু পুরো ভোটার এলাকা বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হলে ফরম‑১৩ পদ্ধতি must।

অনলাইনে ঠিকানা সংশোধন (বর্তমান ঠিকানা)

অনলাইনে শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানার কিছু তথ্য — যেমন বাসা নম্বর, পোস্ট অফিস এবং পোস্ট কোড‑এর ভুল সংশোধন করা যায়।

অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের ধাপ (সাধারণ):
  1. NID Service ওয়েবসাইটে যান
    প্রথমে নির্দিষ্ট নির্বাচন কমিশনের NID Service Portal‑এ যান এবং আপনার তথ্য দিয়ে লগ‑ইন/রেজিস্ট্রেশন করুন।

  2. প্রোফাইল/ঠিকানা ট্যাব সিলেক্ট করুন
    লগ‑ইন করে “Address” বা “ঠিকানা” অপশনে যান এবং সংশোধন করতে চান এমন তথ্য ঠিকভাবে টাইপ করুন।

  3. প্রমাণপত্র আপলোড করুন
    নতুন ঠিকানা সংশোধনের জন্য কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিত প্রমাণপত্র (যেমন utility bill/হোল্ডিং ট্যাক্স) স্ক্যান করে আপলোড করতে হতে পারে।

  4. ফি প্রদান ও আবেদন সাবমিট
    সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য ফি (≈230 টাকা) প্রদান করে আবেদন সাবমিট করুন।

  5. আবেদন রিভিউ ও অনুমোদন
    আবেদনটি সংশ্লিষ্ট অফিসে রিভিউ‑তে যাবে এবং সফল হলে অনলাইনে সংশোধিত ঠিকানা যুক্ত NID কার্ড ডাউনলোড বা future re‑issue করা যাবে।

 অনলাইনে ঠিকানা সংশোধন মানে শুধুমাত্র NID‑এর ভিতরের ঠিকানার কোন ভুল ঠিক করা — ভোটার এলাকা বদলায় না।

ভোটার এলাকা বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন (Migration)

যদি আপনি নতুন ঠিকানায় ভোট দিতে চান বা পুরো স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান — তাহলে এটি অনলাইনে করার পরিবর্তে ভোটার Migration Form‑13 পূরণ করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

ধাপ‑by‑ধাপ
  1. Migration Form‑13 সংগ্রহ
    • উপজেলা/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অফিস থেকে Form‑13 সংগ্রহ করুন।

  2. ফরম‑১৩ পূরণ করুন
    • ফরমের প্রথম অংশে আপনার NID নম্বর, জন্ম তারিখ, বর্তমান ঠিকানা লিখুন।
    • দ্বিতীয় অংশে নতুন ঠিকানা ও নির্বাচন এলাকা লিখুন।

  3. প্রমাণপত্র জুড়ে দিন
    • নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন নাগরিকত্ব সনদ/চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, utility bill/হোল্ডিং ট্যাক্স) সংযুক্ত করুন।

  4. নির্বাচন অফিসে জমা দিন
    • Form‑13‑সহ সব কাগজপত্র উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিন এবং আবেদন গ্রহণের রসিদ নিন।

  5. নির্বাচন কমিশন যাচাই‑বাছাই
    • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদন যাচাই করবেন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  6. নতুন ঠিকানায় NID/ভোটার কার্ড পাওয়া
    • অনুমোদন হলে নতুন ঠিকানা সহ NID কার্ড রিইস্যু করা হয় — যা পরে আপনি সংগ্রহ বা ডাউনলোড করতে পারবেন।

ঠিকানা পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

✔️ আপভাবে ঠিকানা সংশোধনের / এলাকা পরিবর্তনের আবেদন রিভিউ‑এ কিছু সপ্তাহ/মাস সময় নিতে পারে।

ফি:
✔️ ঠিকানা সংশোধনের অনলাইন আবেদন: প্রায় 230 টাকা (সংশোধন ফি)।
✔️ এলাকা পরিবর্তন শেষে কার্ড re‑issue ফি: প্রায় 230 টাকা।

প্রশ্ন‑উত্তর

প্রশ্ন ১: অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন কি সবকিছু করা যায়?
➡️ অনলাইনে শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানার ছোটখাটো সংশোধন করা যায় — ভোটার এলাকা বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে Migration Form‑13 অফিসে জমা দিতে হবে।

প্রশ্ন ২: ঠিকানা পরিবর্তনে কি ফি লাগে?
➡️ ঠিকানা সংশোধনে সাধারণত ≈230 টাকা লাগে। এলাকা পরিবর্তন শেষে নতুন কার্ড রিইস্যু করতে আবার ফি দিতে হয়।

প্রশ্ন ৩: ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন কতদিনে অনুমোদিত হয়?
➡️ সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন ৪: ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য কি ইউনিয়ন/চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট লাগবে?
➡️ হ্যাঁ — নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্র যেমন চেয়ারম্যান/নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট বা utility bill ইত্যাদি লাগতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম খুবই সুসম্পন্ন ও ধাপে ধাপে সহজ। অনলাইনে আপনি শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানার ছোট সংশোধন করতে পারবেন, আর যদি নতুন এলাকায় ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে চান, তাহলে Migration Form‑13 নিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

সঠিক কাগজপত্র, ফি এবং ধাপগুলো পূরণ করে আবেদন দিলে নতুন ঠিকানা সহ NID কার্ড রিইস্যু করে নেওয়া যায় — যা আপনার নাগরিক পরিচয়কে আরও আপডেটেড রাখবে।

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now