বাংলাদেশে সরকার বিভিন্ন ধরণের ভাতা কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে — যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, অনগ্রসর ও হিজড়া সম্প্রদায়ের ভাতা ইত্যাদি। আগে এসব ভাতার জন্য অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু ২০২৫‑২৬ অর্থবছর থেকে অধিকাংশ ভাতার আবেদন এখন অনলাইনে করা হচ্ছে, ফলে আপনি নিজ ঘর থেকে খুব সহজে আবেদন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন-২০২৬ HSC ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা
কোন কোন ভাতার জন্য অনলাইন আবেদন করা যায়?
Bangladesh‑এর সমাজসেবা অধিদপ্তর (DSS)‑এর মাধ্যমে বর্তমানে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে নিচের ভাতাগুলোর জন্য—
-
🧓 বয়স্ক ভাতা
-
👩🦰 বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা
-
♿ প্রতিবন্ধী ভাতা
-
🏳️🌈 হিজড়া ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ভাতা
-
🍵 চা‑শ্রমিক ভাতা
-
🎓 অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষাবৃত্তি
👉 আবেদন সময় সাধারণত নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার মধ্যে খোলা থাকে (যেমন ১৩ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর) — তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত খেয়াল রাখুন।
কোন সিদ্ধান্তে আপনি ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
প্রতিটি ভাতার জন্য কিছু যোগ্যতা শর্ত থাকে। সাধারণত—
✔️ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে
✔️ প্রার্থীর অ্যাকটিভ মোবাইল নম্বর ও মোবাইল ব্যাংকিং/ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
✔️ পূর্বে যদি অন্য সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে আর আবেদন গ্রহন নাও হতে পারে।
ভাতা অনলাইন আবেদন — ধাপ অনুযায়ী গাইড
✅ ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
👉 প্রথমে DSS‑এর অনলাইন আবেদন পোর্টাল এ যান:
🔗 https://dss.bhata.gov.bd/online‑application
✅ ধাপ ২: ভাতার ধরন নির্বাচন
এখানে হবে একটি ফর্ম যেখানে আপনি—
✔️ বয়স্ক ভাতা
✔️ বিধবা/স্বামী নিগৃহীতা ভাতা
✔️ প্রতিবন্ধী ভাতা
✔️ হিজড়া/অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ভাতা
✔️ চা‑শ্রমিক ভাতা
—এর মধ্যে প্রয়োজনীয়টি নির্বাচন করবেন।
✅ ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য দিন
আপনার—
📌 নাম (বাংলা/ইংরেজি)
📌 জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
📌 জন্ম তারিখ
📌 মোবাইল নম্বর
📌 জেলা/উপজেলা
📌 ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য
—সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
✅ ধাপ ৪: তথ্য যাচাই ও সাবমিট
CAPTCHA কোড পূরণ করে “Submit” ক্লিক করুন। ঠিকভাবে সাবমিট হলে একটি Tracking ID পাবেন। এটি সংরক্ষণ করুন পরে আবেদন স্ট্যাটাস দেখার জন্য দরকার হবে।
✅ ধাপ ৫: আবেদন স্ট্যাটাস দেখুন
আপনি যে Tracking ID পেয়েছেন তা ব্যবহার করে DSS‑এর আবেদন স্ট্যাটাস পেজে গিয়ে দেখুন আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে।
ভাতা প্রদানের পদ্ধতি
বাংলাদেশে DSS (সমাজসেবা অধিদপ্তর) বিভিন্ন ভাতার টাকা সাধারণত ডিরেক্টলি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠায়। ধাপগুলো হলোঃ
১️।আবেদন যাচাই
-
আবেদন জমা দেওয়ার পরে DSS প্রথমে আপনার যোগ্যতা যাচাই করবে।
-
তারা দেখে আপনার তথ্য ঠিক আছে কি না, এবং আপনার NID/জেলা/উপজেলার তথ্য মিলছে কি না।
-
কখনো প্রয়োজন হলে স্থানীয় কর্মকর্তার ভেরিফিকেশন নেওয়া হতে পারে।
২️।অনুমোদন
-
যাচাই শেষে DSS যদি আবেদন অনুমোদন করে, তখন একটি অনুমোদনের নোটিশ বা Tracking ID‑র মাধ্যমে জানানো হয়।
-
অনুমোদনের সময়সীমা ভাতার ধরন ও সরকারি নীতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
৩️।টাকা প্রদান মাধ্যম
দুইটি প্রধান মাধ্যম:
-
মোবাইল ব্যাংকিং (bKash, Nagad, Rocket ইত্যাদি)
-
আবেদন ফর্মে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর দিতে হয়।
-
অনুমোদনের পর টাকা সরাসরি মোবাইল একাউন্টে জমা হবে।
-
টাকা তুলে নিতে আপনি ATM বা agent point ব্যবহার করতে পারেন।
-
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্থানান্তর
-
যদি আপনার সরকারি বা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফর্মে দেওয়া থাকে, টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে যাবে।
-
ব্যাংক থেকে ATM, চেক বা অফিসিয়াল ট্রান্সফার দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
-
৪️।টাকা পাওয়া যাচাই
-
টাকা এসেছে কিনা তা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে চেক করতে হবে।
-
DSS অনলাইন পোর্টালে Tracking ID ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
৫️।সময়সীমা
-
সাধারণত ভাতার টাকা প্রতি মাস বা প্রতি নির্দিষ্ট চক্রে প্রদান করা হয়।
-
উদাহরণ: বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে DSS প্রতি মাসের প্রথম দিকে অনুমোদিত অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করে।
আবেদন করার সময় সতর্কতা ও টিপস
✔️ সব তথ্য ঠিকভাবে দিন — ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
✔️ যদি অ্যাকটিভ মোবাইল নম্বর না থাকে, আগে সেটি ঠিক করে নিন।
✔️ Tracking ID দীর্ঘদিন ধরে রাখুন — এটি খুব জরুরি।
✔️ আবেদনের সময়সীমা Govt সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত করুন।
প্রশ্ন
❓ ভাতা আবেদন অনলাইন করার সময় কোন ডকুমেন্ট লাগে?
👉 সাধারণত এনআইডি, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য লাগে। নির্দিষ্ট ভাতার জন্য আলাদা ডকুমেন্ট লাগতে পারে।
❓ আবেদন করার সময় কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করবো?
👉 DSS‑এর অফিশিয়াল পোর্টাল: https://dss.bhata.gov.bd/online‑application।
❓ আবেদন করার পর টাকা কবে পাব?
👉 আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পরে টাকা সরকারি নির্ধারিত সময় অনুসারে প্রদান হবে।
❓ যদি আমার আবেদন বাতিল হয়?
👉 ক্ষুদ্র ভুলের কারণে বাতিল হতে পারে। সেক্ষেত্রে যাচাই করে আবার ঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন।
উপসংহার
বর্তমানে ভাতার জন্য অনলাইন আবেদন করা খুব সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে গেছে। আরেকটা বড় সুবিধা হলো, ঘরে বসেই DSS‑এর সরকারি লিংক থেকে আপনার আবেদন পুরোপুরি ঠিকভাবে পূরণ করতে পারবেন। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাগুলো বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক সময়, সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আপনি দ্রুত সুবিধা পেতে সক্ষম হবেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে NEIR বন্ধ ৯০ দিন-আপনি কি প্রস্তুত?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


