বাংলাদেশে অনেক নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)–এ পিতা বা মাতার নামের বানান ভুল, আংশিক অসঙ্গতি বা তথ্যগত ত্রুটি থাকে। ব্যাংকিং, পাসপোর্ট, চাকরি, জমি রেজিস্ট্রি—এসব ক্ষেত্রে পিতা/মাতার নামের সামান্য ভুলও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডে পিতা বা মাতার নাম সংশোধন করার সঠিক, অফিসিয়াল ও নিরাপদ পদ্ধতি জানা জরুরি।
আমরা কেবল অফিসিয়াল NID সার্ভিস পোর্টালের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় দলিল, ফি, সময়সীমা এবং গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা তুলে ধরছি—যাতে আপনার আবেদন সঠিকভাবে গ্রহণ হয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম, খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (২০২৬ আপডেট)
কোথায় আবেদন করবেন? (অফিশিয়াল লিংক)
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে NID সার্ভিস পোর্টালে:
🔗 https://services.nidw.gov.bd
প্রোফাইল এডিট লিংক:
🔗 https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/citizen-home/profile/
⚠️ সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। তৃতীয় পক্ষের সাইট বা দালালের উপর নির্ভর করবেন না।
অনলাইনে পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
ধাপ ১: NID পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
প্রথমবার ব্যবহার করলে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এজন্য লাগবে:
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
-
জন্ম তারিখ
-
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
-
সক্রিয় মোবাইল নম্বর (OTP ভেরিফিকেশন)
OTP যাচাই শেষে পাসওয়ার্ড সেট করে লগইন করুন।
ধাপ ২: প্রোফাইল →তথ্য পরিবর্তন (Edit)
লগইন করার পর “প্রোফাইল” সেকশনে যান। সেখানে “এডিট” বা “তথ্য পরিবর্তন” অপশন থাকবে।
পিতা বা মাতার নামের ঘরে সঠিক বানান লিখুন।
- বানান অবশ্যই জন্ম সনদ/শিক্ষাগত সনদের সাথে মিল থাকতে হবে।
- ইংরেজি ও বাংলা বানান দুটোই সঠিকভাবে লিখুন (যদি প্রযোজ্য হয়)।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে:
-
পিতা/মাতার এনআইডি কার্ডের কপি
-
এসএসসি বা সমমানের সনদ
-
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
-
পাসপোর্ট
-
চাকরির সনদ বা সরকারি নথি
ডকুমেন্ট পরিষ্কার, সম্পূর্ণ ও পাঠযোগ্য হতে হবে।
প্রয়োজনে সত্যায়িত কপি আপলোড করুন।
ধাপ ৪: সংশোধন ফি পরিশোধ
পিতা বা মাতার নাম সংশোধন সাধারণত “অন্যান্য তথ্য সংশোধন” ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
অফিশিয়াল ফি ক্যালকুলেটর অনুযায়ী সাধারণ স্মার্ট কার্ড ডেলিভারি চার্জ বর্তমানে ১১৫ টাকা।
ফি যাচাই লিংক:
https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/fees
ফি পরিশোধের মাধ্যম:
-
বিকাশ
-
নগদ
-
রকেট
-
ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং
সব তথ্য যাচাই করে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
কিছু ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় দলিলাদির সত্যায়িত কপি স্থানীয় নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হতে পারে।
স্ট্যাটাস চেক করতে লগইন করুন:
https://services.nidw.gov.bd
নামের ছোট ভুল বনাম বড় পরিবর্তন: পার্থক্য কী?
ছোট বানান ভুল (Minor Correction)
যেমন:
-
Rahman → রহমান
-
Begum → বেগম
এক্ষেত্রে সাধারণ ডকুমেন্ট দিলেই হয়।
বড় পরিবর্তন (Major Change)
যেমন:
-
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন
-
পিতার নাম পুরোপুরি আলাদা করা
এক্ষেত্রে লাগতে পারে:
-
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হলফনামা
-
জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
এতে যাচাই সময় বেশি লাগতে পারে।
কতদিনে সংশোধিত কার্ড পাবেন?
সাধারণত:
-
১৫–৩০ কার্যদিবস
-
বড় পরিবর্তনে ৩০+ দিন লাগতে পারে
তথ্য অনুমোদনের পর:
-
অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়
-
পরবর্তীতে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করা যায়
বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে
যদি পিতা বা মাতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন (Major Change) করা হয়, তাহলে নিম্নোক্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে:
-
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হলফনামা।
-
জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি।
এই ধরনের বড় পরিবর্তনে যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
আবেদন বাতিল হওয়ার সাধারণ কারণ
১. জন্ম সনদের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য
২. অস্পষ্ট ডকুমেন্ট আপলোড
৩. ভুল বানান পুনরায় দেওয়া
৪. অসম্পূর্ণ আবেদন
আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।
কেন পিতা বা মাতার নাম সংশোধন জরুরি?
-
পাসপোর্ট আবেদন
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
-
চাকরি যাচাই
-
জমি/সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ
-
ভিসা প্রসেসিং
সব ক্ষেত্রেই এনআইডির তথ্য অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অফলাইনে কি করা যায়?
হ্যাঁ, আপনি সরাসরি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসেও আবেদন করতে পারেন। তবে অনলাইনে আবেদন করলে সময় ও ঝামেলা কম হয়।
নিরাপত্তা পরামর্শ
- নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।
- OTP কাউকে শেয়ার করবেন না।
- দালাল এড়িয়ে চলুন।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য লিংকে তথ্য দেবেন না।
উপসংহার
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডে পিতা বা মাতার নাম সংশোধন এখন সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত একটি প্রক্রিয়া। সঠিক ডকুমেন্ট, নির্ধারিত ফি এবং অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংশোধন সম্পন্ন করা সম্ভব।
সর্বদা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর অফিসিয়াল NID সার্ভিস ব্যবহার করুন এবং ভুল তথ্য বা অতিরিক্ত টাকার প্রলোভনে বিভ্রান্ত হবেন না।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের নিয়ম ২০২৬ | অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








