দেশে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জোরালো হচ্ছে। এবার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একইসঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মে আসক্তি, সাইবার বুলিং, ভুয়া তথ্য ও অশ্লীল কনটেন্টের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এক লগইন, আসছে ‘মেটা অ্যাকাউন্ট’
বৃহস্পতিবার (৭ মে) লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার Sanaullah Nuri এই নোটিশ পাঠান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission-এর চেয়ারম্যানকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনলাইন গেম ও ডিজিটাল আসক্তি দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে তারা পড়াশোনা, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একইসঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য যেমন শেখার সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। সাইবার বুলিং, হেইট স্পিচ, ভুয়া তথ্য এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ে বাংলা ভাষাতেও একাধিক গবেষণা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা আরোপ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন বা বিধিনিষেধ নিয়ে কাজ হচ্ছে।
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক নানা অপরাধ, আসক্তি ও সাইবার হয়রানির ঘটনা বাড়ছে। এ কারণে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, বয়সভিত্তিক কনটেন্ট ফিল্টার এবং ডিজিটাল শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ বর্তমান সময়ে শিক্ষা, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আইনি নোটিশের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সুত্রঃ ইত্তেফাক
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ ভিডিও সরাল টিকটক
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






