জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, মোবাইল সিম নিবন্ধন এবং সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা গ্রহণে জন্ম নিবন্ধন অপরিহার্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পর আবেদনটি বাতিল (Rejected) হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি বেশিরভাগ মানুষের জন্য চমকপ্রদ এবং চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল হলে কি আবার আবেদন করা যায়? কীভাবে পুনরায় আবেদন করবেন? এবং কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।
আরও পড়ুন-bKash, Nagad, Rocket ও ব্যাংক অ্যাপে মোবাইলে লেনদেন চেক করবেন যেভাবে
জন্ম নিবন্ধন বাতিল হওয়ার কারণগুলো
জন্ম নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পেছনে সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো—
তথ্যের অসামঞ্জস্যতা
-
নামের বানান ভুল।
-
জন্ম তারিখের সাথে অন্যান্য কাগজপত্রের মিল না থাকা ।
-
পিতা-মাতার নামের ভুল ।
ভুল ডকুমেন্ট আপলোড
-
অস্পষ্ট ছবি বা স্ক্যান কপি ।
-
ভুল সাপোর্টিং ডকুমেন্ট আপলোড করা ।
-
অন্য কারো তথ্য ব্যবহার করা ।
একাধিক আবেদন
একই ব্যক্তির জন্য একাধিক আবেদন থাকলে সিস্টেম সন্দেহজনক মনে করে আবেদন বাতিল করতে পারে।
যাচাই প্রক্রিয়ার অসম্পূর্ণতা
ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে আবেদন যাচাই না করলে বাতিল হতে পারে।
আবেদন বাতিল হলে কি আবার করা যাবে?
হ্যাঁ, অবশ্যই করা যাবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদন বাতিল হওয়া মানে চূড়ান্তভাবে অযোগ্য হওয়া নয়।
পুনরায় আবেদন করার জন্য মূল শর্তগুলো হলো—
-
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে ।
-
সাপোর্টিং ডকুমেন্ট ভুলবিহীন হতে হবে ।
জন্ম নিবন্ধন পুনরায় আবেদন করার ধাপ
নিচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো—
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে https://bdris.gov.bd এ প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: নতুন আবেদন শুরু করুন
-
“জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন” অপশন নির্বাচন করুন
-
পুরনো ট্র্যাকিং নাম্বার ব্যবহার না করে নতুন আবেদন শুরু করুন
ধাপ ৩: তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন
-
নামের বানান (বাংলা ও ইংরেজি)ঃ
-
জন্ম তারিখঃ
-
পিতা-মাতার নামঃ
-
ঠিকানাঃ
সব তথ্য যেন NID, হাসপাতাল সার্টিফিকেট বা অন্যান্য কাগজের সঙ্গে মিল থাকে।
ধাপ ৪: সঠিক ডকুমেন্ট আপলোড করুন
-
জন্ম প্রমাণপত্র।
-
পিতা-মাতার NID ।
-
প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র ।
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং
-
সাবমিট করার পর ট্র্যাকিং নাম্বার সংরক্ষণ করুন ।
-
নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।
আবেদন বাতিল এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ টিপস
-
আগের বাতিলের কারণ আগে খুঁজে বের করুন ।
-
নামের বানান ও জন্মতারিখে কোনো ত্রুটি করবেন না ।
-
নিশ্চিত করুন সব ডকুমেন্ট স্পষ্ট এবং ভেরিফায়েবল ।
-
প্রয়োজনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা থেকে সাহায্য নিন ।
অফিসে গিয়ে আবেদন করা
অনলাইনে বারবার বাতিল হলে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় গিয়ে আবেদন করলে অনেক সময় দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়। বিশেষ করে—
-
একাধিকবার আবেদন বাতিল হয়েছে ।
-
জন্ম তারিখ বা নাম সংশোধনের প্রয়োজন আছে ।
জন্ম নিবন্ধন বাতিল মানেই ব্ল্যাকলিস্ট না হওয়া
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—আবেদন বাতিল হওয়া মানেই ব্ল্যাকলিস্ট নয়।
এটি শুধু প্রশাসনিক একটি প্রক্রিয়া। সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্ট দিয়ে পুনরায় আবেদন করলে খুব সহজেই সমাধান সম্ভব।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. জন্ম নিবন্ধন কয়বার আবেদন করা যায়?
নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে বারবার ভুল করলে প্রসেস দেরি হতে পারে।
২. বাতিল হলে কি ফি কাটা হয়?
না, আবেদন বাতিল হলেও অতিরিক্ত ফি কাটা হয় না।
৩. পুরনো ট্র্যাকিং নাম্বার ব্যবহার করা যাবে কি?
না, পুনরায় আবেদন করলে নতুন ট্র্যাকিং নাম্বার পাবেন।
৪. পুনরায় আবেদন কতদিনে অনুমোদিত হয়?
সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস, তবে স্থানীয় অফিসের উপর নির্ভর করে।
উপসংহার
জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল হওয়া মোটেও ভয়ের কিছু নয়।
সঠিক তথ্য, নির্ভুল কাগজপত্র এবং সতর্কতার সঙ্গে আবেদন করলে পুনরায় সহজেই জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই হতাশ না হয়ে আগের ভুলগুলো সংশোধন করে নতুন করে আবেদন করুন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বায়োমেট্রিক ছাড়া সিম নেওয়া সম্ভব?সত্যটা জানলে আপনি অবাক হবেন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


