আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ভুলে রাখা সিম বিপদের কারণ! ২০২৬ সালে মাত্র ৫ মিনিটে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করুন

ভুলে রাখা সিম বিপদের কারণ

বর্তমানে মোবাইল সিম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ, ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ), সোশ্যাল মিডিয়া—সবকিছুতেই সিম কার্ড প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে বা এর মধ্যে কিছু সিম হয়তো আপনি নিজেও ব্যবহার করছেন না।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বিটিআরসি (BTRC) অতিরিক্ত সিম ব্যবহারের বিষয়ে আরও কঠোর হয়েছে। আপনার নামে যদি অপ্রয়োজনীয় বা অচেনা সিম থাকে, তাহলে সেটি আইনি ঝুঁকি, আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আর পড়ুন-মোবাইল সিমে নেটওয়ার্ক পায় না ঘরে বসেই সমাধান করুন

অতিরিক্ত সিম কেন বন্ধ করা জরুরি?

অনেকেই ভাবেন, “সিম তো আমার হাতে নেই, সমস্যা কী?”—কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা জরুরি কারণ:

  • আপনার NID দিয়ে প্রতারণা হতে পারে ।

  • অবৈধ কল বা মেসেজের দায় আপনার ওপর আসতে পারে ।

  • ডিজিটাল সিকিউরিটি ঝুঁকিতে পড়ে ।

  • সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি সিম থাকলে সিম ব্লক হতে পারে ।

👉 ২০২৬ সালে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রাখতে পারবেন (সব অপারেটর মিলিয়ে)।

প্রথম ধাপ: আপনার নামে কয়টি সিম আছে কিভাবে জানবেন?

অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার আগে জানতে হবে—আপনার নামে কয়টি সিম রেজিস্টার্ড।

👉 USSD কোড ব্যবহার করে

আপনার যেকোনো মোবাইল থেকে ডায়াল করুন:

*16001

তারপর আপনার NID নম্বরের শেষ ৪ ডিজিট দিন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই SMS-এ জানতে পারবেন—

  • কোন অপারেটরের কয়টি সিম

  • মোট সিম সংখ্যা

অতিরিক্ত সিম কিভাবে বন্ধ করব? (৩টি কার্যকর উপায়)

উপায় ১: কাস্টমার কেয়ারে কল করে

যে অপারেটরের সিম বন্ধ করতে চান, সেই অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে কল করুন।

  • গ্রামীণফোন: 121

  • রবি: 123

  • বাংলালিংক: 121

  • টেলিটক: 121

👉 বলুন:
“আমার NID দিয়ে নিবন্ধিত অতিরিক্ত সিম বন্ধ করতে চাই।”

তারা আপনার পরিচয় যাচাই করে সিমটি ডিএক্টিভেট করে দেবে।

উপায় ২: অপারেটর কাস্টমার সেন্টারে গিয়ে

সবচেয়ে নিরাপদ ও নিশ্চিত উপায়।

যা লাগবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (অরিজিনাল)

  • নিজের উপস্থিতি

কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বলুন:

“আমার নামে থাকা অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করতে চাই।”

৫–১০ মিনিটেই কাজ শেষ।

উপায় ৩: অনলাইন সেলফ-কেয়ার অ্যাপ (যেখানে সম্ভব)

কিছু অপারেটরের ক্ষেত্রে MyGP, MyBL App দিয়ে:

  • নিজের নামে সিম লিস্ট দেখা ।

  • নির্দিষ্ট সিম ব্লক করার অনুরোধ ।

তবে সব ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নাও হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা (অবশ্যই পড়ুন)

  • কখনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে NID দেবেন না ।

  • অচেনা সিম থাকলে দেরি না করে বন্ধ করুন ।

  • বন্ধ করার পর আবার *16001# ডায়াল করে নিশ্চিত হোন ।

  • ভবিষ্যতে নতুন সিম কেনার সময় রশিদ সংরক্ষণ করুন ।

অতিরিক্ত সিম না বন্ধ করলে কী হতে পারে?

  • সরকার নিজে থেকে সিম ব্লক করতে পারে ।

  • আপনার ব্যবহৃত সিমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।

  • আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে ।

  • ডিজিটাল পরিচয় ঝুঁকিতে পড়বে ।

ভুল করে দরকারি সিম বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন?

১. দ্রুত অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন

যে অপারেটরের সিম বন্ধ হয়েছে, সেই অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করুন

  • গ্রামীণফোন: 121

  • রবি: 123

  • বাংলালিংক: 121

  • টেলিটক: 121

👉 বলুন:
“ভুলবশত আমার একটি দরকারি সিম বন্ধ হয়ে গেছে, এটি পুনরায় চালু করতে চাই।”

২. নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান (সবচেয়ে কার্যকর উপায়)

যা সঙ্গে নেবেন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (Original)

  • সিমটি আপনার নামে রেজিস্টার্ড হতে হবে

কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে জানালে তারা যাচাই করে দেখবে—

  • সিম কতদিন আগে বন্ধ হয়েছে

  • নম্বরটি এখনো রিসাইকেল হয়নি কিনা

👉 যদি ৩০–৯০ দিনের মধ্যে যান, বেশিরভাগ সময়েই সিম ফিরে পাওয়া যায়

৩. কতদিনের মধ্যে সিম ফিরে পাওয়া যায়?

সময়সীমা সম্ভাবনা
১–৩০ দিন ✅ প্রায় নিশ্চিত
৩১–৬০ দিন ✅ সম্ভব
৯০ দিনের বেশি ❌ সাধারণত অসম্ভব

⚠️ অনেকদিন বন্ধ থাকলে নম্বরটি অন্য গ্রাহককে দিয়ে দেওয়া হতে পারে।

৪. সিম পুনরায় চালু করতে কি নতুন সিম নিতে হবে?

  • হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই নম্বরেই রিপ্লেসমেন্ট সিম দেওয়া হয়

  • পুরনো নম্বর ঠিকই থাকবে

  • সাধারণত ৫০–১০০ টাকা চার্জ লাগতে পারে (অপারেটরভেদে)

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • সিম বন্ধ হওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত যোগাযোগ করুন

  • সিম যদি ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা OTP-তে ব্যবহৃত হয়—তাহলে অবশ্যই উদ্ধার করুন

  • ভবিষ্যতে সিম বন্ধ করার আগে নম্বরটি ভালোভাবে যাচাই করুন

সংক্ষেপে সমাধান

👉 ভুল করে দরকারি সিম বন্ধ হলে:
📌 দ্রুত কাস্টমার কেয়ার
📌 NID নিয়ে সার্ভিস সেন্টার
📌 ৩০–৯০ দিনের মধ্যে গেলে সিম ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি

প্রশ্ন–উত্তর

❓ আমার হাতে সিম না থাকলেও কি বন্ধ করা যাবে?

✅ হ্যাঁ, NID দেখিয়ে কাস্টমার কেয়ার থেকে বন্ধ করা যাবে।

❓ অতিরিক্ত সিম বন্ধ করতে কোনো টাকা লাগে?

❌ না, সম্পূর্ণ ফ্রি।

❓ কতদিনে সিম পুরোপুরি বন্ধ হয়?

👉 সাধারণত ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে।

❓ ভুল করে দরকারি সিম বন্ধ হয়ে গেলে?

👉 কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে পুনরায় একটিভ করা যেতে পারে।

উপসংহার

২০২৬ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সিম ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার নামে থাকা অতিরিক্ত বা অচেনা সিম শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ। সুখবর হলো—অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা এখন খুবই সহজ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরে বসেই সম্ভব

আজই *16001# ডায়াল করে আপনার নামে কয়টি সিম আছে জেনে নিন এবং প্রয়োজন না হলে দ্রুত বন্ধ করে দিন। নিরাপদ থাকুন, সচেতন থাকুন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-BTRC-এর নতুন নির্দেশনা: ২০২৬ সালে সিম কেনার নতুন নিয়ম

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now