প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার বয়স্ক ও দুস্থ নাগরিকদের জন্য “বয়স্ক ভাতা” নামে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। এটি প্রবীণদের জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তাদের পরিবারের ওপর বোঝা কমায়। ২০২৫‑২৬ সালে আবেদন করার নিয়ম অনেকটাই সহজ ও অনলাইনে করা সম্ভব। এখানে বিস্তারিতভাবে আমরা প্রতিটি ধাপ ব্যাখ্যা করব যাতে আপনি সহজেই আবেদন করতে পারেন।
আর পড়ুন-বাংলাদেশে টেলিটক সিম কেনা ও ব্যবহার – সহজ গাইড ২০২৬
বয়স্ক ভাতা কি?
বয়স্ক ভাতা হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দরিদ্র ও উপার্জন‑অক্ষম প্রবীণ নাগরিকদেরকে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তারা খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে সহায়তা পায়।
যোগ্যতা
প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে আপনি আবেদন করার যোগ্য কি না। সাধারণ যোগ্যতার শর্তগুলো হলো:
✔️ পুরুষ আবেদনকারীর বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।
✔️ মহিলা আবেদনকারীর বয়স ৬২ বছর বা তার বেশি।
✔️ বার্ষিক মোট আয় সাধারণত খুব কম (১০,০০০ টাকা বা তার কম) হওয়া উচিত।
✔️ বিদ্যমান সরকারি পেনশন অথবা অন্য কোন সরকারি ভাতা থাকলে আবেদনযোগ্য নাও হতে পারে।
✔️ প্রার্থীকে বাংলাদেশে স্থায়ী নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাস করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন করার আগে নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখুন:
📌 জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
📌 জন্ম তারিখের প্রমাণ (জন্ম সনদ/ NID)
📌 সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট‑সাইজ ছবি
📌 মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আইডি
📌 বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণ
📌 পরিবার সদস্যদের তথ্য (যদি প্রয়োজনে)
📌 মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, রকেট বা নগদ) — ভাতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন।
আবেদন করার পদ্ধতি
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
প্রথমে নিচের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
🌐 http://dss.bhata.gov.bd/online-application — এখানে বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইন আবেদন ফরম পাবেন।
ধাপ ২: “বয়স্ক ভাতা” নির্বাচন করুন
ওয়েবসাইটে ঢুকলে, “বয়স্ক ভাতা” অপশনে ক্লিক করুন এবং National ID ও জন্ম তারিখ দিন।
ধাপ ৩: ফরম পূরণ
ফরমে আপনার নাম, ঠিকানা, বয়স, NID নম্বর, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। অন্যান্য তথ্য যেমন আর্থিক অবস্থা, জমির মালিকানা ইত্যাদি সঠিকভাবে লিখুন।
ধাপ ৪: নমিনি তথ্য দিন
কেউ যদি আপনার জন্য নমিনি থাকে, তার তথ্য দিন। (যদি প্রযোজ্য হয়)
ধাপ ৫: যাচাই ও সাবমিট
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ হলে Submit বাটনে ক্লিক করুন। পরে ফরমটি প্রিন্ট করে নিন।
ধাপ ৬: স্বাক্ষর ও জমা
প্রিন্ট করা ফরমটিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিন।
ভাতা কবে এবং কিভাবে পাবেন?
ভাতা সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে (বিকাশ/রকেট/নগদ) প্রতি মাসে সরাসরি পাঠানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের নোটিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাতা প্রদান শুরু হয়।
দরকারি টিপস
✅ আবেদন করার আগে আপনার সকল তথ্য ঠিকভাবে যাচাই করে নিন।
✅ ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
✅ নিয়মিত ওয়েবসাইট আপডেট চেক করুন যাতে আবেদন সময় মিস না হয়।
✅ স্থানীয় সমাজসেবা অফিস থেকে সাহায্য নিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: বয়স্ক ভাতা কোন বয়স থেকে পাব?
👉 পুরুষ: ৬৫ বছর বা তার বেশি। মহিলা: ৬২ বছর বা তার বেশি।
প্রশ্ন ২: আবেদন করার শেষ তারিখ কবে?
👉 সাধারণত DSS দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমা থাকে — বার্ষিক নোটিশে প্রকাশিত হয়। সময়মতো আবেদন করুন।
প্রশ্ন ৩: আমি অনলাইনে আবেদন করার পর কোথায় যাচাই হবে?
👉 আবেদন জমা দেয়ার পর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যাচাই ও অনুমোদন হয়।
প্রশ্ন ৪: ভাতা কত টাকা?
👉 ভাতা পরিমাণ সরকারের বার্ষিক ঘোষণা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে, সাধারণত মাসিক নির্দিষ্ট টাকা প্রদান করা হয়।
প্রশ্ন ৫: ভাতা মোবাইল ব্যাংকে কি নামেই যাবে?
👉 হ্যাঁ, ভাতা প্রাপকের নিজের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে প্রদান করা হয়।
উপসংহার
বয়স্ক ভাতা হলো প্রবীণ ও দুস্থ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। সরকারের এই উদ্যোগ প্রবীণ মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে সাহায্য করে। উপরের ধাপে ধাপে নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনি সহজেই আবেদন করতে পারবেন এবং মাসিক ভাতা পেতে পারেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-২০২৬ সালের সর্বশেষ NEIR আপডেট: মোবাইল ডি‑রেজিস্ট্রেশন এখন সহজ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


