টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের সুবিধা নিয়ে ‘মুক্ত পে’ নামে ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলালিংক। যেকোনো অপারেটরের গ্রাহক জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে প্রথম তিন মাস টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে বাড়তি চার্জ নেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন- প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করল গ্রামীণফোন
দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন সহজ ও দ্রুত করতে ‘মুক্ত পে’ নামে নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ এবং যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বরে রিচার্জ করা যাবে। উদ্বোধন উপলক্ষে প্রথম তিন মাস টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে বাড়তি চার্জ ছাড়াই সেবা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলালিংক এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দৈনন্দিন লেনদেনে গ্রাহকদের সময়, পরিশ্রম ও খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মুক্ত পে চালু করা হয়েছে। গুগল প্লে স্টোর ও আইওএস অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে যেকোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, এমন বাংলালিংক গ্রাহকেরাও সাধারণ মুঠোফোন থেকে *৫২৫# ডায়াল করে সেবাটি নিতে পারবেন। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মুক্ত পে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য।
মুক্ত পের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধের পাশাপাশি সব মোবাইল অপারেটরের নম্বরে রিচার্জ করা যাবে। এ ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড থেকে ওয়ালেটে টাকা যোগ করার সুবিধা রয়েছে। একই অ্যাপ থেকে বাংলালিংকের বিভিন্ন সেবাও ব্যবহার করা যাবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, মুক্ত পের মাধ্যমে সংযোগ সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোন কিংবা সাধারণ মুঠোফোন—উভয় মাধ্যমেই ব্যক্তি, মার্চেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হওয়ার সুযোগ দিতে চায় বাংলালিংক। বিশেষ করে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেন সহজ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মুক্ত পের আলাদা মার্চেন্ট অ্যাপও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একটি ড্যাশবোর্ড থেকে নিবন্ধন, গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ এবং লেনদেনের হিসাব দেখতে পারবেন। ভবিষ্যতে জাতীয় কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা বাংলা কিউআর যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেটি চালু হলে বাংলা কিউআর-সমর্থিত বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে মুক্ত পে ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে।
বাংলালিংকের চিফ ফিনটেক অফিসার দিমিত্রি কাশতানভ বলেন, ‘মুক্ত’ শব্দের অর্থ স্বাধীন। এই ভাবনা থেকেই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। এত দিন সংযোগ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল বাংলালিংক। নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনেও যুক্ত হতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিনের লেনদেন আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য করাই তাঁদের লক্ষ্য।
মুক্ত পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম জাকারিয়া বলেন, শুরু থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রথম লেনদেন থেকেই সেবাটি দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য করা। একই সঙ্গে সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক যেন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে চেয়েছেন তাঁরা।
সুত্রঃ বাংলালিংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।










