বাসার এক ঘরে ওয়াই-ফাইয়ের গতি ভালো থাকলেও অন্য ঘরে দুর্বল সিগন্যাল পাওয়া যায় অনেক সময়। এর কারণ হতে পারে রাউটারের ভুল অবস্থান ও অ্যান্টেনার দিক। দামি রাউটার কেনার আগে ঘরের মাঝামাঝি, উঁচু ও খোলা জায়গায় রাউটার রাখা এবং অ্যান্টেনার অবস্থান ঠিক করার মতো কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
আরও পড়ুন- ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ডে কমছে ইন্টারনেটের গতি? সমাধান জেনে নিন
বাসায় ভালো গতির ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার পরও সব ঘরে সমানভাবে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যায় না। রাউটারের কাছাকাছি বসে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়া গেলেও অন্য ঘরে গেলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। ভিডিও দেখতে গিয়ে বাফারিং কিংবা অনলাইন মিটিংয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই নতুন ও দামি রাউটার কেনার কথা ভাবেন। তবে সব সময় রাউটার পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে এবং এর অ্যান্টেনার অবস্থান কেমন, সেটিও ওয়াই-ফাই সিগন্যালের বিস্তারে প্রভাব ফেলে। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে কয়েকটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করে দেখতে পারেন।
১. রাউটার রাখুন ঘরের মাঝামাঝি স্থানে
রাউটার ঘরের এক কোণে রাখলে বাড়ির অন্য অংশে সমানভাবে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বড় বাসায় এক পাশে রাউটার থাকলে বিপরীত পাশের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ সমস্যা কমাতে সম্ভব হলে বাড়ির মাঝামাঝি স্থানে রাউটার রাখুন। এতে বিভিন্ন কক্ষে তুলনামূলক সমানভাবে সিগন্যাল পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঘরের দেয়াল, কক্ষের বিন্যাস ও রাউটারের ক্ষমতার ওপরও সিগন্যালের বিস্তার নির্ভর করে।
২. উঁচু ও খোলা জায়গায় রাখুন
রাউটার মেঝেতে, টেবিলের নিচে কিংবা বন্ধ আলমারির ভেতরে রাখা উচিত নয়। এসব জায়গায় রাখলে আশপাশের বস্তু ও কাঠামোর কারণে সিগন্যাল ছড়াতে বাধা তৈরি হতে পারে।
তাই রাউটার মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে এবং খোলা জায়গায় রাখুন। টেবিল বা তাকের ওপর এমন স্থানে রাখতে পারেন, যেখানে চারপাশে বাতাস চলাচল ও সিগন্যাল ছড়ানোর পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।
৩. অ্যান্টেনার অবস্থান ঠিক করুন
রাউটারের অ্যান্টেনা কোন দিকে রাখা হয়েছে, সেটিও সিগন্যালের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। একতলা বাসায় একই তলার বিভিন্ন কক্ষে সিগন্যাল পাওয়ার জন্য অ্যান্টেনা সাধারণত সোজা বা উল্লম্বভাবে রাখা ভালো।
অন্যদিকে, বহুতল বাসায় ওপরের ও নিচের তলায় সিগন্যাল পৌঁছানোর প্রয়োজন হলে অ্যান্টেনার কোণ কিছুটা পরিবর্তন করে পরীক্ষা করতে পারেন। তবে সব রাউটারের অ্যান্টেনার ধরন ও সিগন্যাল ছড়ানোর পদ্ধতি এক নয়। তাই নিজের বাসার পরিবেশ অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থানে পরীক্ষা করে উপযুক্ত দিক নির্ধারণ করা ভালো।
৪. দেয়াল ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে রাখুন
মোটা দেয়াল, ফ্রিজ, বড় ধাতব বস্তু এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ওয়াই-ফাই সিগন্যালের বিস্তারে বাধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাউটারের খুব কাছাকাছি মাইক্রোওয়েভ ওভেন থাকলে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তাই রাউটার এসব বস্তু থেকে কিছুটা দূরে রাখুন। সম্ভব হলে এমন জায়গা নির্বাচন করুন, যেখানে রাউটার ও ব্যবহারকারী ডিভাইসের মাঝখানে কম দেয়াল ও বাধা থাকে।
রাউটার সরানোর পর কীভাবে বুঝবেন সিগন্যাল বেড়েছে?
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তনের পর বাসার বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে ওয়াই-ফাইয়ের সংকেত ও ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করুন। একই ডিভাইস ব্যবহার করে রাউটারের কাছাকাছি এবং দূরের কক্ষে গতি পরীক্ষা করলে পার্থক্য বোঝা সহজ হবে।
তবে শুধু সিগন্যাল বার বেশি দেখালেই যে ইন্টারনেটের গতি বেশি হবে, তা নয়। রাউটারের ক্ষমতা, ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই ব্যান্ড, আশপাশের নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবাদাতার সংযোগও গতিতে প্রভাব ফেলে।
সবশেষে বলা যায়, ওয়াই-ফাইয়ের দুর্বল সিগন্যালের সমাধান সব সময় দামি রাউটার কেনা নয়। রাউটারের সঠিক অবস্থান, অ্যান্টেনার দিক এবং আশপাশের পরিবেশ ঠিক করে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাউটার থেকেই ভালো সংযোগ পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: যুগান্তর নিউজ








