আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ডে কমছে ইন্টারনেটের গতি? সমাধান জেনে নিন

October 31, 2026 6:36 AM
ওয়াই-ফাই ব্যান্ড পরিবর্তনে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর উপায়

বাসায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকার পরও স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে ধীরগতির সমস্যা দেখা দিতে পারে ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ড ব্যবহারের কারণে। রাউটারের ব্যান্ড স্টিয়ারিং সুবিধা সব সময় সঠিকভাবে কাজ না করায় ডিভাইস ৫ গিগাহার্টজের পরিবর্তে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে যুক্ত থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যান্ড নির্বাচন ও রাউটারের কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন- মোবাইলে ৪জি থাকলেও ইন্টারনেট ধীর? গতি বাড়ানোর ৫ উপায়

বাসায় দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার পরও অনেক সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে প্রত্যাশিত গতি পাওয়া যায় না। ভিডিও চালানোর সময় বারবার বাফারিং, ওয়েবসাইট খুলতে দেরি কিংবা বড় ফাইল ডাউনলোডে বেশি সময় লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ইন্টারনেট সেবাদাতাকে দায়ী করেন। তবে সমস্যার কারণ হতে পারে রাউটারের ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ড নির্বাচন।

আধুনিক অধিকাংশ ওয়াই-ফাই রাউটারে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। নতুন কিছু রাউটারে ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডও পাওয়া যায়। প্রতিটি ব্যান্ডের গতি, সংকেতের দূরত্ব এবং দেয়াল ভেদ করার সক্ষমতায় পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোন ডিভাইস কোন ব্যান্ডে যুক্ত হচ্ছে, তার ওপর ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নির্ভর করতে পারে।

ব্যান্ড স্টিয়ারিং কী এবং কেন সমস্যা তৈরি করে?

আধুনিক রাউটারে থাকা ব্যান্ড স্টিয়ারিং বা স্মার্ট কানেক্ট সুবিধা একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা ডিভাইসগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত ব্যান্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীকে আলাদা করে ২.৪ বা ৫ গিগাহার্টজ নির্বাচন করতে হয় না।

তবে সব সময় এই প্রযুক্তি প্রত্যাশামতো কাজ করে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে সংযুক্ত থাকতে পারে। ফলে ডিভাইসটি তুলনামূলক কম গতির সংযোগ ব্যবহার করে।

২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজের মধ্যে পার্থক্য কী?

২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রধান সুবিধা হলো এর সংকেত তুলনামূলক বেশি দূরত্বে পৌঁছাতে পারে এবং দেয়াল বা অন্যান্য বাধা পেরিয়ে সংযোগ বজায় রাখতে সুবিধা হয়। তাই রাউটার থেকে দূরের কক্ষ কিংবা স্মার্ট হোম ডিভাইসের জন্য এই ব্যান্ড কার্যকর হতে পারে। তবে এ ব্যান্ডে আশপাশের বিভিন্ন ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিভাইসের কারণে সংকেতে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড সাধারণত বেশি গতির সংযোগ দিতে পারে। রাউটারের কাছাকাছি বসে ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং বা বড় ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর। তবে দেয়াল ও দূরত্ব বাড়লে এর সংকেত দুর্বল হতে পারে।

৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড সমর্থিত রাউটার ও ডিভাইসে আরও বেশি গতির সংযোগের সুযোগ দিতে পারে। তবে এ ব্যান্ডের সংকেতের কার্যকর দূরত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের জন্য রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইস—দুটিতেই সমর্থন থাকা প্রয়োজন।

ভুল ব্যান্ডে যুক্ত হলে সমাধান কী?

সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে রাউটারের অ্যাডমিন পেজে প্রবেশ করতে হবে। সাধারণত রাউটারের আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে ব্রাউজারে এই পেজ খোলা যায়। এরপর ওয়াই-ফাই বা ওয়্যারলেস সেটিংসে গিয়ে ‘ব্যান্ড স্টিয়ারিং’, ‘স্মার্ট কানেক্ট’ অথবা ‘অটো-ব্যান্ড সিলেকশন’ অপশন খুঁজতে হবে।

এই সুবিধা বন্ধ করে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের জন্য আলাদা ওয়াই-ফাই নাম বা এসএসআইডি তৈরি করা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইসকে নির্দিষ্ট ব্যান্ডে যুক্ত করা যাবে।

যেমন, রাউটারের কাছাকাছি থেকে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড নির্বাচন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, দূরের কক্ষে থাকা স্মার্ট হোম ডিভাইস বা যেসব যন্ত্রে স্থিতিশীল সংযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর জন্য ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে রাউটারের মডেলভেদে সেটিংসের নাম ও পরিবর্তনের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। তাই কোনো সেটিং পরিবর্তনের আগে রাউটারের নির্দেশিকা দেখে নেওয়া ভালো।

ব্যান্ড পরিবর্তনের পরও গতি কম থাকলে?

ব্যান্ড পরিবর্তনের পরও ইন্টারনেটের গতি প্রত্যাশামতো না হলে অন্য কারণগুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রাউটার থেকে ডিভাইসের দূরত্ব, মাঝখানে থাকা দেয়াল, আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের চাপ কিংবা ইন্টারনেট সেবাদাতার সংযোগে সমস্যা—সবই গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া রাউটারের কাছাকাছি থেকে গতি পরীক্ষা করা এবং সম্ভব হলে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেটের গতি যাচাই করা যেতে পারে। এতে সমস্যাটি ওয়াই-ফাই সংযোগে, নাকি মূল ইন্টারনেট সংযোগে—তা বুঝতে সুবিধা হবে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, শুধু ওয়াই-ফাই সিগন্যাল শক্তিশালী দেখালেই দ্রুত ইন্টারনেট পাওয়া নিশ্চিত নয়। সঠিক ব্যান্ড নির্বাচন, রাউটারের অবস্থান এবং নেটওয়ার্কের পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়েই ভালো ওয়াই-ফাই সংযোগ পাওয়া সম্ভব।

সূত্র: যুগান্তর নিউজ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

Sobujar Alam

প্রযুক্তি, অনলাইন সেবা ও নাগরিক সুবিধাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করি। সরকারি ভাতা, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজ ভাষায় সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির নতুন আপডেট, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য তথ্য প্রকাশ করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিয়মিত গাইডধর্মী ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now