বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি সময় চালু থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রেফ্রিজারেটর। দিন-রাত প্রায় সবসময় সচল থাকায় মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় একটি অংশ খরচ হয় ফ্রিজের পেছনেই। তবে আধুনিক Inverter Compressor প্রযুক্তি এই খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-দেশে প্রথম এআই প্রযুক্তির রেফ্রিজারেটর আনল Samsung
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ফ্রিজের কম্প্রেসর নির্দিষ্ট গতিতে চলে এবং বারবার অন-অফ হয়। কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা তৈরি হলে কম্প্রেসর বন্ধ হয়ে যায়, আবার তাপমাত্রা বাড়লে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। এই বারবার চালু হওয়ার সময়ই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়।
অন্যদিকে ইনভার্টার কম্প্রেসর প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। এই প্রযুক্তির কম্প্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের গতি বাড়ায় বা কমায়। ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমে যায়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। এতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, ইনভার্টার কম্প্রেসরের আরও কিছু বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যেহেতু কম্প্রেসরকে বারবার অন-অফ হতে হয় না, তাই যান্ত্রিক চাপ ও ঘর্ষণও কম হয়। ফলে ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং সহজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ইনভার্টার কম্প্রেসরের ওপর ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টিও দিচ্ছে।
এ ছাড়া সাধারণ ফ্রিজের মতো হঠাৎ শব্দ করে চালু হওয়ার প্রবণতা না থাকায় ইনভার্টার ফ্রিজ তুলনামূলকভাবে অনেক নীরবে চলে। তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকায় ফলমূল, মাছ-মাংস ও শাকসবজিও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
যদিও ইনভার্টার ফ্রিজের দাম সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের সাশ্রয়ে সেই অতিরিক্ত খরচ উঠে আসে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
তবে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই হবে না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিজ এমন স্থানে রাখতে হবে যেখানে সরাসরি রোদ পড়ে না এবং দেয়াল থেকে অন্তত ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি দূরত্ব থাকে। এতে গরম বাতাস সহজে বের হতে পারে।
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। খাবার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে রাখতে হবে।
অপ্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ ফ্রিজের দরজা খোলা রাখলে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে, ফলে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
ফ্রিজের ভেতরে খাবার এমনভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে যাতে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা না পায়।
সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ বিল কমানোর পাশাপাশি আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহারের জন্য ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ এখন অনেকের কাছেই স্মার্ট বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো প্রতিবেদন
আরও পড়ুন-মানুষ বুঝে নিজেই বাতাস বদলাবে শাওমির নতুন স্মার্ট এসি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









