দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ঘাটতি কিংবা ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে Bangladesh Submarine Cables PLC। রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ডিজিটাল সংযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ, সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন-হাইস্পিড ইন্টারনেট পেতে রাউটার কেনার আগে এড়াতে হবে ৩টি সাধারণ ভুল
বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো SEA-ME-WE-4 এবং SEA-ME-WE-5। এই দুই ক্যাবলের সম্মিলিত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই সক্ষমতার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ৩ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহের অতিরিক্ত সক্ষমতাও রয়েছে তাদের হাতে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথ সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি লোহিত সাগর অঞ্চলে অস্থিরতা এবং হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগে ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে বিএসসিপিএলসি বলছে, বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথের খুব সামান্য অংশই ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে দেশে আসে মাত্র ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বাকি বড় অংশ সিঙ্গাপুর ও ভারতের চেন্নাই রুট হয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিরতা বাংলাদেশের ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছে সংস্থাটি।
বর্তমান সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়েও কিছু প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিশেষ করে পুরোনো ক্যাবলগুলোর মেয়াদ ও সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে বিএসসিপিএলসি বলছে, এই তথ্যগুলোর বেশিরভাগই সঠিক নয়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলের মোট ২ হাজার ২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে এখনো ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত রয়েছে। এছাড়া এই ক্যাবলের কার্যকারিতা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত।
অন্যদিকে, পুরোনো হিসেবে পরিচিত SEA-ME-WE-4 ক্যাবল দিয়েও বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০৩০ সালের পরেও এই ক্যাবলের কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতের ইন্টারনেট চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পেও কাজ করছে বিএসসিপিএলসি। বর্তমানে SEA-ME-WE-6 ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হবে।
নতুন এই সংযোগ চালু হলে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে দেশের আন্তর্জাতিক সংযোগে। ফলে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা ইন্টারনেট ব্যবহার, ক্লাউড সেবা, এআই প্রযুক্তি এবং ডেটা নির্ভর বিভিন্ন সেবার কারণে আগামী বছরগুলোতে ব্যান্ডউইথ চাহিদা আরও বাড়বে। সেই বাস্তবতায় নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সুত্রঃ বিএসসিপিএলসির
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










