বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর Teletalk Bangladesh কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য সিম সংযোগের নতুন মূল্য কাঠামো ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের যোগাযোগ খরচ কমাতে এই আপডেট আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন দামে কর্পোরেট সিম সংযোগ পাওয়া যাবে তুলনামূলক কম খরচে এবং সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন সুবিধা। ফলে ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টেলিটকের কর্পোরেট সেবার দিকে আরও আগ্রহী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-সিম কার্ডের ব্যাখ্যা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে এর গুরুত্ব
কর্পোরেট সিমের নতুন মূল্য কাঠামো
টেলিটকের ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী কর্পোরেট সিম সংযোগের দাম ও ফি কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নতুন সংযোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট চার্জের মাধ্যমে সিম সংগ্রহ করতে পারবে।
নতুন মূল্য কাঠামোর লক্ষ্য হলো ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী টেলিকম সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নেটওয়ার্ক ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ানো।
বর্তমানে টেলিটক কর্পোরেট সিমের দাম
বর্তমান টেলিটক কর্পোরেট সিমের মূল্য সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে—
-
কর্পোরেট প্রিপেইড সিম: ২৫ থেকে ৩০টি সিম হলে প্রতি সিম ১৫০ টাকা।
-
২৫টি এর উপরে (৩১+) সিম: প্রতি সিম ১০০ টাকা।
-
পোস্টপেইড কর্পোরেট সিম: ২৫–৩০ সিম হলে প্রতি সিম ১৫০ টাকা; ৩১+ হলে ১০০ টাকা।
এছাড়া পোস্টপেইড সংযোগের ক্ষেত্রে নগ্নতম নিরাপত্তা আমানত ৫০০ টাকা হতে পারে, যা পরে রিফান্ডড হিসেবে ফেরত পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে, ছোট কর্পোরেট গ্রুপে সিমের দাম সাধারণত ১০০–১৫০ টাকা পর্যন্ত, এবং বড় গ্রুপে ১০০ টাকার চেয়ে বেশি হয় না।
কর্পোরেট সিমে যে সুবিধা মিলবে
টেলিটক কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে—
১। কম কল রেট সুবিধা।
২। গ্রুপের মধ্যে স্বল্প খরচে কথা বলার সুবিধা।
৩। বড় ডেটা প্যাক নেওয়ার সুযোগ।
৪। কর্পোরেট কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধা।
৫। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিলিং সিস্টেম।
কারা কর্পোরেট সিম নিতে পারবেন
নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই সিম নিতে পারে—
১। নিবন্ধিত কোম্পানি।
২। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
৩। সরকারি দপ্তর ও সংস্থা।
৪। এনজিও ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
৫। ব্যবসায়িক গ্রুপ বা সংগঠন।
সংযোগ নিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
কর্পোরেট সিম নেওয়ার সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
১। প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স কপি।
২। টিআইএন বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (যদি থাকে)।
৩। অনুমোদিত প্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্র।
৪। প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদনপত্র।
৫। পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
কীভাবে আবেদন করবেন
কর্পোরেট সিম পেতে আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত এমন—
১। নিকটস্থ টেলিটক কাস্টমার কেয়ার বা কর্পোরেট সেলে যোগাযোগ করুন।
২। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্পোরেট সিম প্যাকেজ নির্বাচন করুন।
৩। নির্ধারিত আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৪। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।
৫। প্রযোজ্য সংযোগ ফি ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধ করুন।
৬। টেলিটক কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।
৭। অনুমোদন সম্পন্ন হলে কর্পোরেট সিম সংগ্রহ করে অ্যাক্টিভ করুন।
বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, টেলিটকের নতুন মূল্য কাঠামো কর্পোরেট টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কম খরচে গ্রুপ কল ও ডেটা সুবিধা পেলে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো টেলিটকের দিকে ঝুঁকতে পারে।
তবে নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে কর্পোরেট সেগমেন্টে টেলিটকের অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার
টেলিটক কর্পোরেট সিমের নতুন মূল্য ঘোষণা ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। কম খরচে গ্রুপ কল, বড় ডেটা প্যাক এবং কর্পোরেট বিলিং সুবিধা থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই সেবার দিকে আগ্রহী হতে পারে। চূড়ান্ত খরচ ও সুবিধা জানতে আগ্রহীদের টেলিটকের অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









