২০২৫‑২০২৬ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন ও ডি‑রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সরকারের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালুর ফলে অবৈধ/অননুমোদিত মোবাইল নেটওয়ার্কে চলবে না আর ব্যবহারকারীদের জন্য ফোন বিক্রি, হস্তান্তর বা SIM পরিবর্তনের সময় ডি‑রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।
আর পড়ুন-বাংলাদেশে টেলিটক সিম কেনা ও ব্যবহার – সহজ গাইড ২০২৬
ডি‑রেজিস্ট্রেশন মানে কী?
ডি‑রেজিস্ট্রেশন অর্থ হলো আপনার নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করা — যেমনটা তুমি তখন করো যখন ফোনটি বিক্রি করতে চাও, নতুন ব্যবহারকারীর কাছে দিতে চাও বা ব্যবহার বন্ধ করতে চাও।
ডি‑রেজিস্ট্রেশন করলে:
✔️ ফোনটি তোমার NID থেকে আলাদা হয়ে যায় ।
✔️ পরবর্তী ব্যাক্তি এটি নিজের NID‑তে রেজিস্টার করতে পারবে ।
✔️ পুরানো ব্যবহারকারীর নাম্বার/IMEI সম্পর্ক ভাঙবে ।
কেন ডি‑রেজিস্ট্রেশন জরুরি?
১) ফোন বিক্রি বা হস্তান্তর
যদি তুমি পুরোনো ফোনের সিম বদলাও বা বিক্রি দাও, তখন মূল রেজিস্ট্রেশন বাতিল না করলে তা পরবর্তী মালিকের জন্য সমস্যা তৈরি হবে।
২) নিরাপত্তা ও ট্র্যাকিং
IMEI‑SIM‑NID লিংক থাকলে কেউ ভুল ব্যবহার করলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে।
৩) সরকারি নিয়ম ও লাইসেন্স
মহামান্য BTRC নিয়ম অনুযায়ী ডি‑রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোবাইল ফোনের মালিকানা পরিবর্তন সম্ভব নয়।
ডি‑রেজিস্ট্রেশন কবে করতে হবে?
-
মোবাইল ফোন বিক্রি/হস্তান্তরের পূর্বে ।
-
SIM বা IMEI বদলানোর সময় ।
-
যদি মোবাইলটি অন্য ব্যাক্তি ব্যবহার করবে ।
উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে অবৈধ/রেজিস্ট্রেশনহীন ফোন নেটওয়ার্কে কাজ করবে না এবং সমস্ত বৈধ ফোন NEIR‑এ যুক্ত হবে।
ডি‑রেজিস্ট্রেশন করার ধাপ‑ধাপে প্রক্রিয়া
নিচে সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে গাইড দেওয়া হলো:
১) রেজিস্টার্ড ফোন/IMEI যাচাই
প্রথমে জানা দরকার ফোনটি কি তোমার NID‑তে রেজিস্টার্ড আছে কি না।
USSD কোড: *Dial → *16161# → 15‑digit IMEI দিন → পাঠান।
২) ডি‑রেজিস্ট্রেশন অপশন নির্বাচন
ডি‑রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কয়েকটি মাধ্যম আছে:
📍 BTRC NEIR পোর্টাল: neir.btrc.gov.bd
📍 মোবাইল অপারেটর অ্যাপ/ওয়েবসাইট
📍 USSD কোড দিয়ে: *16161#
📍 অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার
মনে রাখবে: ডি‑রেজিস্ট্রেশন করার সময় SIM‑টি অবশ্যই তোমার নিজের NID‑তে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
৩) প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
✔️ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
✔️ ফোনের IMEI
✔️ SIM নম্বর (যেটি ফোনে ব্যবহৃত)
IMEI হলো ১৫ ডিজিটের ইউনিক নম্বর। ফোনে *#06# ডায়াল করে এটি পেয়ে যাবে।
৪) ডি‑রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিতে SMS/নোটিফিকেশন
সফল হলে NEIR বা অপারেটর SMS করে জানাবে যে ফোন ডি‑রেজিস্টার হয়েছে।
কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবে?
❌ বোঝা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছাড়া ডি‑রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না।
❌ SIM ও IMEI মিলানো রোগ করে ভুল হলে পুনরায় আবেদন করতে হবে।
❌ ভুল নিয়মে ডি‑রেজিস্ট্রেশন করলে ফোন নেটওয়ার্কে সংযোগ হারাতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
❓ ডি‑রেজিস্ট্রেশন করলে ফোন বন্ধ হয়ে যাবে কি?
না, ফোন বন্ধ হবে না। শুধুমাত্র তোমার NID‑এর সাথে রেজিস্টারড তথ্য মুছে যাবে, এবং পরের মালিক সেটি নিজের NID‑তে রেজিস্টার করতে পারবে।
❓ পুরোনো ফোন বিক্রি করলে ডি‑রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্য?
কারণ পরবর্তী ব্যাক্তি যাতে সেটি নিজের নামে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে — এজন্য।
❓ NEIR কী?
NEIR হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার — বাংলাদেশে মোবাইল ফোন/IMEI‑SIM/NID সম্পর্ক সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নাম।
❓ অবৈধ ফোন কি ডি‑রেজিস্টার করানো যাবে?
না, অবৈধ বা অননুমোদিত ফোন মূলত NEIR‑এ যুক্ত করা যায় না; তাই ডি‑রেজিস্ট্রেশনও সম্ভব না।
উপসংহার
২০২৬ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন/ডি‑রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে প্রচলিত নিয়মগুলো আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। এখন শুধু বৈধ মোবাইল ফোন সার্ভিসে কাজ করবে এবং NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে সহজে IMEI‑SIM‑NID‑এর লিংক পরিচালনা সম্ভব হবে। ডি‑রেজিস্ট্রেশন ঠিকভাবে করা তোমার ফোরো বিক্রি, হস্তান্তর, SIM পরিবর্তন বা সিকিউরিটি জিনিসগুলো সহজভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ভবিষ্যতের ঝামেলা কমাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার কি সত্যিই সম্ভব?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


