ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে সিম অপব্যবহার, প্রতারণা এবং ভুয়া পরিচয়ে সিম ব্যবহারের ঘটনা বাড়ায় সরকার ও বিটিআরসি সিম বিক্রির নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
নতুন এই নিয়মের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের সিম কেনার প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, সিমের সংখ্যা সীমা এবং পুনরায় রেজিস্ট্রেশন—সবকিছুই এখন নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব পরিবর্তন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে সিম কেনার সময় ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহকরা।
আরও পড়ুন-ই সিম কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করব সহজ ধাপে
মোবাইলের সিম কার্ড কেনায় নতুন নিয়ম কী
নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধুমাত্র ফরম পূরণ বা কাগজপত্র দেখালেই সিম পাওয়া যাবে না, বরং নির্ভুল তথ্য ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
এই নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো—
-
ভুয়া পরিচয়ে সিম ব্যবহার বন্ধ করা।
-
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সিমের অপব্যবহার রোধ করা ।
-
একজন গ্রাহকের নামে কতটি সিম আছে তা নিয়ন্ত্রণে আনা ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী সিম কিনতে যা যা বাধ্যতামূলক
জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
সিম কিনতে হলে অবশ্যই বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র দিয়ে এখন আর সিম কেনা যাবে না।
বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক।
গ্রাহকের আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। বায়োমেট্রিক যাচাই ছাড়া কোনো সিম অ্যাক্টিভ হবে না।
নিজে উপস্থিত থেকে সিম কিনতে হবে।
অন্যের হয়ে সিম কেনা বা প্রক্সির মাধ্যমে সিম রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ নেই। সিমের মালিককে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।
একটি এনআইডিতে সিমের সংখ্যা সীমিত।
একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি সিম নিবন্ধন করতে পারবেন না। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে নতুন সিম দেওয়া হবে না।
একটি এনআইডিতে কয়টি সিম রাখা যাবে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ নির্দিষ্ট সংখ্যক সিম রাখতে পারবেন। এই সীমা সব অপারেটর মিলিয়ে প্রযোজ্য।
এই নিয়ম চালুর ফলে—
-
অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় সিম ব্যবহার কমবে।
-
সিমের অপব্যবহার সহজে শনাক্ত করা যাবে।
-
গ্রাহকের তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকবে।
পুরোনো সিমের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না
যেসব সিম আগেই নিবন্ধিত রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর। যদি কোনো সিম সঠিকভাবে বায়োমেট্রিক বা এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন আপডেট না করলে সিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।অপারেটররা নিয়মিত এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদের বিষয়ে জানিয়ে দিচ্ছে।
সিম কেনার সময় গ্রাহকদের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
-
অন্য কাউকে নিজের এনআইডি দিয়ে সিম কিনতে দেওয়া যাবে না।
-
অচেনা দোকান বা অননুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে সিম নেওয়া উচিত নয়।
-
সিম কেনার পর নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি না তা যাচাই করা জরুরি।
-
অপ্রয়োজনীয় সিম ব্যবহার না করে বন্ধ করে দেওয়া নিরাপদ।
নতুন নিয়মের ফলে গ্রাহকদের সুবিধা
নতুন নিয়মের কারণে গ্রাহকরা যেমন কিছুটা বাড়তি যাচাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, তেমনি এতে দীর্ঘমেয়াদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা মিলছে।
-
প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি কমছে।
-
সিম-ভিত্তিক অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।
-
গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকছে।
-
হারানো বা চুরি হওয়া সিমের অপব্যবহার কমছে।
নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে অপারেটরদের দায়িত্ব
মোবাইল অপারেটরদেরও এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হচ্ছে। সিম বিক্রির প্রতিটি ধাপে তথ্য সংরক্ষণ, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এতে করে অপারেটরদের সার্ভিস প্রসেস আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: নতুন নিয়ম অনুযায়ী সিম কিনতে কি জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, বর্তমানে সিম কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো বিকল্প নেই এবং এটি বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ২: বায়োমেট্রিক যাচাই ছাড়া কি সিম চালু করা যাবে?
উত্তর: না, বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন না হলে কোনো সিম অ্যাক্টিভ করা হয় না।
প্রশ্ন ৩: এক এনআইডিতে একাধিক অপারেটরের সিম রাখা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, রাখা যাবে, তবে সব অপারেটর মিলিয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
প্রশ্ন ৪: পুরোনো সিম কি নতুন নিয়মে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে হবে?
উত্তর: যেসব সিমের তথ্য অসম্পূর্ণ বা বায়োমেট্রিক আপডেট নেই, সেগুলো পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: অন্যের এনআইডি দিয়ে সিম কিনলে কী হতে পারে?
উত্তর: এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে সিম বন্ধসহ আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উপসংহার
মোবাইলের সিম কার্ড কেনায় নতুন নিয়ম মূলত গ্রাহকের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্যই চালু করা হয়েছে। যদিও এতে সিম কেনার প্রক্রিয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, তবে এর মাধ্যমে সিম অপব্যবহার কমে আসবে এবং অপরাধ দমন সহজ হবে। নিয়ম মেনে সিম কিনলে গ্রাহকের কোনো ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং সচেতনভাবে সিম ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত ও আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-রবি সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করার সহজ উপায়
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







