বর্তমানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন কাজ কল্পনাই করা যায় না। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা বিনোদন—সবকিছুর জন্য স্থিতিশীল ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রয়োজন। এই চাহিদা পূরণে Banglalink তাদের হোম ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে, যা অনলাইনে আবেদন করেই নেওয়া যায়।
ভাল খবর হলো, এখন আর সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। বাংলালিংকের ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ার মাধ্যমে খুব সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই নতুন ওয়াইফাই সংযোগের জন্য আবেদন করা সম্ভব। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করার নিয়ম সহজ ধাপে
বাংলালিংক ওয়াইফাই কী
বাংলালিংক ওয়াইফাই হলো Banglalink–এর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা, যা বাসা বা ছোট অফিসের জন্য নির্দিষ্ট ঠিকানাভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। এটি সাধারণ মোবাইল ডাটার মতো সিমনির্ভর নয়; বরং ফাইবার অপটিক বা ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ দেওয়া হয়। ফলে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল স্পিড ও নিরবচ্ছিন্ন কানেক্টিভিটি পাওয়া যায়।
এই সংযোগে একটি রাউটার ব্যবহার করে একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং বা গেমিংয়ের মতো ভারী ব্যবহারের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই বেশি কার্যকর। সাধারণত মাসিক প্যাকেজভিত্তিক বিলিং সিস্টেমে এটি পরিচালিত হয়, যেখানে স্পিড অনুযায়ী আলাদা মূল্য নির্ধারিত থাকে।
অনলাইনে আবেদন করার সহজ ধাপ
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
-
বাংলালিংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
-
হোম ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড সেকশন নির্বাচন করুন।
ধাপ ২: প্যাকেজ নির্বাচন করুন
-
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিড ও মূল্য বিবেচনা করে প্যাক বেছে নিন।
-
মাসিক চার্জ ও অফারগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।
ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
-
আপনার নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা দিন।
-
সংযোগের সঠিক লোকেশন উল্লেখ করুন।
-
প্রয়োজন হলে NID তথ্য প্রদান করুন।
ধাপ ৪: কনফার্মেশন কল রিসিভ করুন
-
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রতিনিধি যোগাযোগ করবে।
-
ইনস্টলেশনের সময় নির্ধারণ করা হবে।
ধাপ ৫: সংযোগ স্থাপন
-
নির্ধারিত দিনে টেকনিশিয়ান এসে রাউটার ও সংযোগ স্থাপন করবে।
-
ইনস্টলেশন শেষে ওয়াইফাই ব্যবহার শুরু করতে পারবেন।
সম্ভাব্য প্যাকেজ ও দাম (বাংলাদেশ)
বাংলালিংকের ওয়াইফাই প্যাকেজের মূল্য সাধারণত স্পিড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়—
-
২০ Mbps → আনুমানিক ৮০০–১,০০০ টাকা।
-
৩০ Mbps → আনুমানিক ১,০০০–১,২০০ টাকা।
-
৫০ Mbps → আনুমানিক ১,৫০০–১,৮০০ টাকা।
-
১০০ Mbps → আনুমানিক ২,০০০–২,৫০০ টাকা।
(দাম ও অফার এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।)
বাংলালিংক ওয়াইফাই নেওয়ার প্রধান সুবিধা
বাংলালিংক ওয়াইফাই সেবা বর্তমানে বাসা ও ছোট অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় সমাধান হয়ে উঠছে। Banglalink–এর এই ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়—
-
উচ্চগতির স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়।
-
একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
-
অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে বাফারিং কম হয়।
-
আনলিমিটেড বা বড় ডাটা ভলিউম সুবিধা পাওয়া যায়।
-
মাসিক নির্দিষ্ট বিল থাকায় খরচ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
-
রাউটারভিত্তিক সংযোগ হওয়ায় পুরো বাসা কভারেজ পাওয়া যায়।
-
কাস্টমার কেয়ার ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সুবিধা পাওয়া যায়।
আবেদন করার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
-
আপনার এলাকায় সার্ভিস অ্যাভেইলেবল কিনা নিশ্চিত করুন।
-
ইনস্টলেশন চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
-
চুক্তির মেয়াদ থাকলে তা জেনে নিন।
-
রাউটার ফ্রি নাকি আলাদা চার্জ লাগবে তা যাচাই করুন।
-
বিল পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিন।
অনলাইনে আবেদন করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
বাংলালিংক ওয়াইফাই সংযোগ অনলাইনে আবেদন করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো:
🔗 https://banglalinkwifi.banglalink.net/ — এখানে বাংলালিংকের ব্রডব্যান্ড/ওয়াইফাই সার্ভিসের বিস্তারিত তথ্য, যোগাযোগের ঠিকানা ও সম্ভাব্য আবেদন সম্পর্কিত সাপোর্ট পাওয়া যায়।
উপসংহার
বাংলালিংক ওয়াইফাই সংযোগ এখন অনলাইনে আবেদন করেই সহজে পাওয়া যায়। কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করলেই ঘরে বসে নতুন ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেওয়া সম্ভব। দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এটি একটি সুবিধাজনক সমাধান হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ফ্রি ওয়াই ফাই সম্প্রসারণে বদলে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








