শীতের সকালে গরম পানিতে গোসল কিংবা দৈনন্দিন কাজে স্বস্তি পেতে অনেক বাড়িতেই ব্যবহার করা হয় গিজার বা ওয়াটার হিটার। বিশেষ করে শীতের সময় গিজারের ব্যবহার বেড়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার পর হঠাৎ গিজার চালু করলে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। কখনো পানি গরম হতে বেশি সময় লাগে, কখনো অস্বাভাবিক শব্দ হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সংযোগ বা পানির পাইপে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই গিজারের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত পরীক্ষা, পরিষ্কার এবং সঠিক ব্যবহার একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে গিজারের কার্যক্ষমতাও ভালো রাখতে পারে। তবে গিজারের ধরন, মডেল ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
শীত আসার আগে গিজারের যত্ন নেওয়া কেন জরুরি?
গিজার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে এর ভেতরে পানি জমে থাকা, খনিজ পদার্থের আস্তরণ তৈরি হওয়া কিংবা পাইপ ও সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পানিতে খনিজের পরিমাণ বেশি হলে গিজারের ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্টে ধীরে ধীরে আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম করার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য আনল শাওমি, স্মার্ট লাইফস্টাইলে নতুন সংযোজন
অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গিজারের তার, সুইচ, সকেট ও আর্থিংয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শীতের শুরুতে গিজার চালু করার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো ভালো।
শীতের আগে গিজারের যে ১০টি বিষয় পরীক্ষা করবেন
১. বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করুন
গিজার চালানোর আগে এর বৈদ্যুতিক সংযোগ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে সুইচ, তার, প্লাগ বা সংযোগস্থলে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। তারের আবরণ কাটা, পোড়া দাগ, ঢিলা সংযোগ কিংবা সুইচে অস্বাভাবিক গরম হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে গিজার চালাবেন না।
গিজারের বিদ্যুৎ সংযোগ অবশ্যই যন্ত্রটির ক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত হতে হবে। সাধারণ মাল্টিপ্লাগ বা এক্সটেনশন বোর্ডে গিজার চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সঠিক আর্থিং, উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সুরক্ষাব্যবস্থা আছে কি না, তা দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।
২. গিজার ও পানির পাইপে লিক আছে কি না দেখুন
গিজারের সংযোগস্থল, পানির ইনলেট ও আউটলেট পাইপ এবং ভালভের আশপাশে পানি জমছে কি না পরীক্ষা করুন। কোথাও ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়লে বা পাইপের সংযোগ ভেজা থাকলে সেটিকে ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না।
বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গিজারের ক্ষেত্রে পানির লিক ও বিদ্যুতের সংযোগ একসঙ্গে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। লিক দেখা গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে পানির সংযোগ বন্ধ করুন এবং টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।
৩. ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করান
স্টোরেজ বা ট্যাংকযুক্ত গিজারে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পানির সঙ্গে থাকা খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য অবক্ষেপ ট্যাংকের নিচে জমতে পারে। পানির ধরন অনুযায়ী এই জমাট ময়লার পরিমাণ কমবেশি হয়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে, অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে এবং হিটিং এলিমেন্টের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তাই গিজারের মডেল ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর ট্যাংক পরিষ্কার বা ফ্লাশ করানো উচিত। শীতের আগে দীর্ঘদিনের অবক্ষেপ জমে আছে কি না, তা টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন। গরম পানি ও বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকায় নিজে ট্যাংক খোলার চেষ্টা না করাই ভালো।
৪. হিটিং এলিমেন্ট পরীক্ষা করুন
গিজারের হিটিং এলিমেন্ট পানিকে গরম করে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এর ওপর খনিজ পদার্থের আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম হতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বা গিজারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
গিজার চালানোর পরও পানি ঠিকমতো গরম না হলে, বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কিংবা অস্বাভাবিক শব্দ হলে হিটিং এলিমেন্ট পরীক্ষা করানো দরকার। এটি খুলে পরিষ্কার বা পরিবর্তনের কাজ দক্ষ টেকনিশিয়ানকে দিয়ে করান।
৫. থার্মোস্ট্যাট ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করুন
থার্মোস্ট্যাট গিজারের পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ঠিকভাবে কাজ না করলে পানি অতিরিক্ত গরম হতে পারে, আবার প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় পৌঁছাতেও সমস্যা হতে পারে।
গিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা সার্ভিসের সময় পরীক্ষা করিয়ে নিন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা নির্ধারণ না করে প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুযায়ী সেটিংস ব্যবহার করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ ও অতিরিক্ত গরম পানিতে দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৬. সেফটি ভালভ পরীক্ষা করান
স্টোরেজ গিজারে তাপমাত্রা ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সেফটি বা প্রেসার রিলিফ ভালভ থাকতে পারে। ট্যাংকের ভেতরে চাপ বা তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমার বাইরে গেলে এই ভালভ অতিরিক্ত চাপ বের করে দিতে সাহায্য করে।
ভালভের মুখ বন্ধ করে দেওয়া, এর সংযোগ পরিবর্তন করা কিংবা পানি বের হওয়ার পথ আটকে রাখা বিপজ্জনক। ভালভে মরিচা, ক্ষতি বা অস্বাভাবিক লিক দেখা গেলে টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করান। এটি নিজে খুলে পরীক্ষা করার চেষ্টা করবেন না।
৭. গিজারের বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখুন
গিজারের বাইরের অংশে ধুলাবালু ও ময়লা জমলে তা শুকনো নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। তবে বৈদ্যুতিক সুইচ, কন্ট্রোল প্যানেল বা সংযোগস্থলে সরাসরি পানি দেবেন না।
গিজারের চারপাশে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না। যন্ত্রটির ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের পথ থাকলে সেটি যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে গ্যাসচালিত গিজারের ক্ষেত্রে বাতাস চলাচল ও ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থা বাধামুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. পানির ইনলেট ফিল্টার পরিষ্কার করান
কিছু গিজারে পানির প্রবেশপথে ছোট ফিল্টার বা ছাঁকনি থাকে। পানির সঙ্গে আসা বালি, ময়লা ও ক্ষুদ্র কণা এই ফিল্টারে আটকে যেতে পারে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে।
গিজারের পানির প্রবাহ আগের তুলনায় কমে গেলে বা পানি গরম হতে সমস্যা হলে ইনলেট ফিল্টার পরীক্ষা করানো উচিত। মডেল অনুযায়ী ফিল্টার পরিষ্কারের নিয়ম আলাদা হতে পারে, তাই ব্যবহারবিধি অনুসরণ করুন।
৯. গিজারের চারপাশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন
গিজার সাধারণত বাথরুম বা রান্নাঘরের মতো জায়গায় স্থাপন করা হয়। এসব স্থানে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গিজারের সুইচ এমন জায়গায় থাকা উচিত, যেখানে ভেজা হাতে সহজে স্পর্শ করতে না হয়। যন্ত্রটির সংযোগ, আর্থিং এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন। গিজারের ওপর বা পাশে ভেজা কাপড়, তোয়ালে কিংবা দাহ্য জিনিস রাখবেন না।
১০. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সরাসরি চালু করবেন না
গ্রীষ্মকালে অনেকেই গিজার দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখেন। শীতের আগে আবার ব্যবহার শুরু করার সময় প্রথমেই সুইচ অন করা ঠিক নয়। আগে পানির সংযোগ, লিক, বৈদ্যুতিক তার ও সুইচ পরীক্ষা করুন।
বিশেষ করে ট্যাংকযুক্ত গিজার হলে ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না নিশ্চিত হতে হবে। ট্যাংক খালি বা পানিশূন্য অবস্থায় বিদ্যুৎ চালু করলে হিটিং এলিমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মডেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্যাংক পূর্ণ করে এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ার পরই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে হবে।
গিজার পরিষ্কার ও সার্ভিস কতদিন পরপর করাবেন?
গিজারের সার্ভিসের নির্দিষ্ট সময় সব মডেলের জন্য এক নয়। ট্যাংকযুক্ত গিজার এবং ট্যাংকবিহীন ইনস্ট্যান্ট গিজারের রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মও আলাদা। পানির মান, ব্যবহারের পরিমাণ এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনার ওপর সার্ভিসের সময় নির্ভর করে।
সাধারণভাবে—
-
বাইরের অংশ: নিয়মিত ধুলাবালু পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করুন।
-
পানির ইনলেট ফিল্টার: মডেলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা ও পরিষ্কার করান।
-
ট্যাংক পরিষ্কার: পানির মান ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্লাশ করান।
-
হিটিং এলিমেন্ট: সার্ভিসের সময় খনিজ আস্তরণ ও কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করান।
-
বৈদ্যুতিক সংযোগ: নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং সমস্যা দেখা দিলে ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করান।
-
সেফটি ভালভ: প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করান।
শুধু শীতের আগে একবার পরিষ্কার করালেই সারা বছর আর যত্নের প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবহারের সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
গিজার ব্যবহারের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
গিজারের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম জানা জরুরি। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গিজারের ক্ষেত্রে অসতর্কতা থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১। পানি ছাড়া গিজার চালাবেন না: ট্যাংকযুক্ত গিজারে পানি পূর্ণ হওয়ার আগে বিদ্যুৎ চালু করলে হিটিং এলিমেন্ট নষ্ট হতে পারে।
২। এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করবেন না: গিজারের জন্য উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ইলেকট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
৩। ভেজা হাতে সুইচ স্পর্শ করবেন না: বাথরুমে গিজারের সুইচ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন।
৪। সেফটি ভালভ বন্ধ করবেন না: অতিরিক্ত চাপ বের হওয়ার পথ আটকে দিলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
৫। নিজে গিজার খুলে মেরামত করবেন না: হিটিং এলিমেন্ট, বৈদ্যুতিক সংযোগ, থার্মোস্ট্যাট বা সেফটি ভালভের কাজ দক্ষ টেকনিশিয়ানকে দিয়ে করান।
৬। অস্বাভাবিক লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না: পোড়া গন্ধ, বৈদ্যুতিক শক, পানি লিক, সার্কিট ব্রেকার বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক শব্দ হলে গিজার ব্যবহার বন্ধ করুন।
৭। ব্যবহারের পর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখুন: গিজার ব্যবহারের পর সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস করুন। আপনার মডেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
বৈদ্যুতিক ও গ্যাসচালিত গিজারের যত্ন কি একই?
না, দুই ধরনের গিজারের রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। বৈদ্যুতিক গিজারে হিটিং এলিমেন্ট, বৈদ্যুতিক সংযোগ, আর্থিং ও সেফটি ভালভ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, গ্যাসচালিত গিজারে গ্যাসের পাইপ, বার্নার, বায়ু চলাচল এবং ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি।
গ্যাসচালিত গিজার থেকে গ্যাসের গন্ধ পেলে সুইচ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু কিংবা বন্ধ করবেন না। আগুন জ্বালাবেন না। নিরাপদ হলে গ্যাসের মূল সরবরাহ বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলুন, স্থানটি ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী বা দক্ষ টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। গ্যাস লিকের সমস্যা নিজে মেরামতের চেষ্টা করবেন না।
গিজার নষ্ট হওয়ার আগেই যেসব লক্ষণ চিনবেন
শীতের সময় হঠাৎ গিজার নষ্ট হলে ভোগান্তি বাড়ে। তাই কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
-
আগের তুলনায় পানি গরম হতে বেশি সময় লাগছে।
-
গিজার থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে।
-
গরম পানির পরিমাণ বা তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকছে না।
-
পাইপ বা সংযোগস্থলে পানি জমছে।
-
সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
-
গিজারের বাইরের অংশে পোড়া দাগ বা অস্বাভাবিক গরম হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে গিজার বন্ধ করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করান। বৈদ্যুতিক শক, পোড়া গন্ধ বা গ্যাস লিকের মতো ঝুঁকির ক্ষেত্রে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করবেন না।
শেষ কথা
শীত আসার আগেই গিজারের যত্ন নেওয়া শুধু যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা ভালো রাখার জন্য নয়, পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির পাইপ, হিটিং এলিমেন্ট, ট্যাংকের অবস্থা এবং সেফটি ভালভ পরীক্ষা করিয়ে নিলে শীতের সময় হঠাৎ সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা কমে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গিজারের মডেল অনুযায়ী প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিক মেরামতের কাজ দক্ষ ব্যক্তিকে দিয়ে করানো। শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সার্ভিস করিয়ে রাখলে গরম পানির ব্যবহার যেমন স্বস্তিদায়ক হবে, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।







