স্মার্টফোনে প্রচলিত ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে ই-সিম। ফিজিক্যাল সিম ফোনে প্রবেশ করাতে হয়, অন্যদিকে ই-সিম ফোনের ভেতরে থাকা ডিজিটাল সিম প্রযুক্তি। সুবিধা, ব্যবহারপদ্ধতি ও ডিভাইসের সামঞ্জস্য বিবেচনা করে কোনটি আপনার জন্য উপযোগী, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন- দামি রাউটার ছাড়াই ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর ৪টি নিয়ম
স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, প্রসেসর, র্যাম কিংবা ব্যাটারির দিকে নজর দেন অনেকেই। তবে ফোনে কোন ধরনের সিম ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে প্রচলিত ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি ই-সিম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে এই দুই প্রযুক্তির পার্থক্য জানা থাকলে পরবর্তী সময়ে সিম ব্যবহারে অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়তে হবে না।
ফিজিক্যাল সিম কী?
ফিজিক্যাল সিম হলো প্রচলিত প্লাস্টিকের ছোট সিম কার্ড, যা স্মার্টফোনের নির্দিষ্ট সিম স্লটে প্রবেশ করাতে হয়। মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে সিম সংগ্রহ করে ফোনে লাগালেই সাধারণত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। ফোন পরিবর্তন করলে সিম কার্ডটি খুলে নতুন ফোনে ব্যবহার করা সম্ভব, যদি নতুন ফোনে উপযুক্ত সিম স্লট থাকে।
ফিজিক্যাল সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যবহারপদ্ধতি সহজ এবং অধিকাংশ স্মার্টফোনে এটি সমর্থিত। ফোন পরিবর্তন, বিকল্প হ্যান্ডসেটে সিম ব্যবহার কিংবা প্রয়োজনে অন্য ফোনে সিম সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি সুবিধাজনক। তবে সিম কার্ড হারিয়ে যাওয়া, নষ্ট হওয়া কিংবা সিম ট্রে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে।
ই-সিম কীভাবে কাজ করে?
ই-সিমের পূর্ণরূপ এমবেডেড সিম। এটি ফোনের ভেতরে থাকা একটি বিশেষ চিপ, যেখানে মোবাইল অপারেটরের সিম প্রোফাইল ডিজিটালভাবে যুক্ত করা হয়। ফলে আলাদা কোনো প্লাস্টিকের সিম কার্ড ফোনে প্রবেশ করানোর প্রয়োজন হয় না।
সাধারণত অপারেটরের দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ই-সিম চালু করা যায়। তবে সক্রিয় করার নিয়ম অপারেটর ও ডিভাইসভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেটরের অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা প্রয়োজন হয়।
ই-সিমের একটি সুবিধা হলো, এতে আলাদা সিম কার্ড বহন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না। ফোনে সমর্থন থাকলে একাধিক ই-সিম প্রোফাইল সংরক্ষণ করা যায়। তবে একসঙ্গে কতটি নম্বর সক্রিয় রাখা যাবে, তা ফোনের মডেল ও অপারেটরের নীতির ওপর নির্ভর করে।
ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিমের মধ্যে পার্থক্য
দুই ধরনের সিমের মূল কাজ একই—মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযোগ দেওয়া। তবে ব্যবহারের পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।
ফিজিক্যাল সিমের ক্ষেত্রে কার্ডটি হাতে নিয়ে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে স্থানান্তর করা যায়। ই-সিমের ক্ষেত্রে প্রোফাইল স্থানান্তর বা নতুন ফোনে চালু করার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব ফোন বা অপারেটরে একইভাবে ই-সিম স্থানান্তরের সুবিধা পাওয়া যায় না।
ফিজিক্যাল সিম হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে নতুন সিম সংগ্রহ করতে হয়। ই-সিমের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক কার্ড হারানোর ঝুঁকি নেই। তবে ফোন হারিয়ে গেলে বা পরিবর্তন করলে ই-সিম পুনরায় চালু করার জন্য অপারেটরের নিয়ম অনুসরণ করতে হতে পারে।
কোনটির সুবিধা বেশি?
যাঁরা সহজে সিম খুলে অন্য ফোনে ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য ফিজিক্যাল সিম সুবিধাজনক। বিশেষ করে পুরোনো বা একাধিক ফোন ব্যবহার করেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি ব্যবহারিক বিকল্প।
অন্যদিকে যাঁরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান এবং তাঁদের স্মার্টফোন ও মোবাইল অপারেটর ই-সিম সমর্থন করে, তাঁদের জন্য ই-সিম ভালো বিকল্প হতে পারে। বিদেশ ভ্রমণের সময় সমর্থিত ডিভাইসে স্থানীয় অপারেটরের ই-সিম ব্যবহার করার সুযোগও পাওয়া যায়। এতে আলাদা সিম কার্ড সংগ্রহের প্রয়োজন কমতে পারে।
তবে ই-সিম ব্যবহার করলেই ফোন চুরি বা হারানোর ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। ফোনে ই-সিম থাকলে চোরের পক্ষে সিম কার্ড খুলে ফেলা কঠিন হতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ফোনটি সব পরিস্থিতিতে ট্র্যাক করা যাবে। ফোন চালু থাকা, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সেটিংসের ওপর অবস্থান শনাক্ত করার বিষয়টি নির্ভর করে।
স্মার্টফোন কেনার আগে যা যাচাই করবেন
নতুন ফোন কেনার আগে সেটি ই-সিম সমর্থন করে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই ব্র্যান্ডের সব মডেলে ই-সিম সুবিধা নাও থাকতে পারে। আবার একই মডেলের বিভিন্ন অঞ্চল বা বাজারের সংস্করণেও পার্থক্য থাকতে পারে।
ফোনের সেটিংসে গিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা সিম ব্যবস্থাপনা অংশে ই-সিম যুক্ত করার অপশন আছে কি না দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি ফোনের নির্মাতার ওয়েবসাইটে দেওয়া স্পেসিফিকেশন যাচাই করা উচিত। শুধু বিক্রেতার কথার ওপর নির্ভর না করে নির্দিষ্ট মডেল ও অঞ্চলভিত্তিক সংস্করণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
এ ছাড়া আপনার মোবাইল অপারেটর ই-সিম সেবা দেয় কি না, নতুন ই-সিম নিতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং ফোন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রোফাইল স্থানান্তরের নিয়ম কী—এসব বিষয়ও জেনে নেওয়া দরকার।
শেষ কথা
ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিমের মধ্যে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর। সহজে সিম খুলে অন্য ফোনে ব্যবহারের সুবিধা চাইলে ফিজিক্যাল সিম এখনো কার্যকর। আর ফোন ও অপারেটরের সমর্থন থাকলে সিম কার্ড ছাড়াই ডিজিটালভাবে সংযোগ ব্যবহারের জন্য ই-সিম বেছে নিতে পারেন। তাই নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে শুধু র্যাম, ক্যামেরা বা ব্যাটারি নয়, সিম প্রযুক্তির সামঞ্জস্যও যাচাই করুন।
সূত্র: যুগান্তর নিউজ






