রাউটার ভালো হলেও ভুল জায়গায় রাখার কারণে বাসার বিভিন্ন কক্ষে দুর্বল ওয়াই-ফাই সিগন্যাল পাওয়া যেতে পারে। ঘরের কোণ, মেঝে, বন্ধ আলমারি, মোটা দেয়াল ও মাইক্রোওয়েভের কাছাকাছি রাউটার রাখলে সংযোগের কার্যকারিতা কমতে পারে। তাই রাউটার বসানোর জায়গা নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন- দামি রাউটার ছাড়াই ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর ৪টি নিয়ম
বাসায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার পরও অনেক সময় এক ঘরে ভালো ওয়াই-ফাই পাওয়া গেলেও অন্য ঘরে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। রাউটারের কাছাকাছি বসে ভিডিও দেখা বা ফাইল ডাউনলোড করা গেলেও দূরের কক্ষে একই কাজ করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ইন্টারনেট সেবাদাতার সংযোগ কিংবা রাউটারের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করেন। কিন্তু সমস্যার একটি সাধারণ কারণ হতে পারে রাউটার রাখার ভুল জায়গা। ঘরের কিছু স্থানে রাউটার রাখলে দেয়াল, আসবাব ও অন্যান্য বস্তুর কারণে সিগন্যাল ছড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।
১. ঘরের একেবারে কোণে রাউটার রাখবেন না
রাউটার ঘরের একেবারে কোণে রাখলে বাড়ির অন্য অংশে সমানভাবে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বড় বাসায় এক পাশে রাউটার থাকলে বিপরীত পাশের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে সম্ভব হলে ঘরের মাঝামাঝি স্থানে রাউটার রাখুন। এতে বিভিন্ন দিকে সিগন্যাল ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বাড়ে। তবে বাসার কক্ষের বিন্যাস ও দেয়ালের অবস্থান বিবেচনা করে জায়গা নির্বাচন করা প্রয়োজন।
২. মেঝেতে বা টেবিলের নিচে রাখবেন না
অনেকে রাউটার সরাসরি মেঝেতে কিংবা টেবিলের নিচে রেখে দেন। এতে রাউটারের চারপাশে আসবাব ও অন্যান্য বস্তু সিগন্যাল ছড়ানোর পথে বাধা তৈরি করতে পারে।
রাউটার মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে রাখলে বিভিন্ন দিকে সিগন্যাল পৌঁছানোর সুযোগ বাড়তে পারে। এ জন্য টেবিল, তাক বা উপযুক্ত উঁচু স্থানে রাউটার রাখা যেতে পারে।
৩. বন্ধ আলমারি বা ক্যাবিনেটের ভেতরে রাখবেন না
ঘরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে অনেকে রাউটার আলমারি বা বন্ধ ক্যাবিনেটের ভেতরে রাখেন। কিন্তু বন্ধ জায়গায় রাউটার রাখলে আশপাশের কাঠামো ও বস্তু সিগন্যালের বিস্তারে বাধা দিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে রাউটার অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তাই রাউটার খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। এতে সিগন্যাল ছড়ানোর পাশাপাশি যন্ত্রটির তাপ বের হওয়ার সুযোগও থাকবে।
৪. মোটা দেয়াল ও ধাতব বস্তুর পাশে রাখবেন না
মোটা কংক্রিটের দেয়াল, ধাতব আলমারি, ফ্রিজ ও বড় ধাতব বস্তু ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল করতে পারে। রাউটার ও ব্যবহারকারী ডিভাইসের মাঝখানে এ ধরনের বাধা বেশি থাকলে সংযোগের মান কমে যেতে পারে।
এ সমস্যা কমাতে রাউটার এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে বাসার বিভিন্ন কক্ষে তুলনামূলক কম বাধার মধ্য দিয়ে সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রাউটারের আশপাশে বড় ধাতব বস্তু না রাখাই ভালো।
৫. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কাছাকাছি রাখবেন না
মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্র ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ওয়াই-ফাই সংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ফলে রাউটার মাইক্রোওয়েভের খুব কাছে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে সংযোগের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
তাই রান্নাঘরে রাউটার রাখার প্রয়োজন হলেও মাইক্রোওয়েভ ওভেন থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন। সম্ভব হলে রান্নাঘরের বাইরে খোলা জায়গায় রাউটার স্থাপন করুন।
রাউটার রাখার জায়গা পরিবর্তন করে কীভাবে পরীক্ষা করবেন?
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তনের পর বাসার বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল ও ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করুন। একই স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ দিয়ে একাধিক জায়গায় পরীক্ষা করলে কোথায় সংযোগ ভালো হচ্ছে, তা বোঝা সহজ হবে।
এ ছাড়া একতলা বাসায় রাউটারের অ্যান্টেনা সাধারণত সোজা বা উল্লম্বভাবে রাখা যায়। বহুতল বাসায় প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টেনার কোণ পরিবর্তন করে পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে রাউটারের মডেলভেদে অ্যান্টেনার ধরন ও কার্যকারিতা আলাদা হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, ওয়াই-ফাইয়ের দুর্বল সিগন্যালের একমাত্র কারণ রাউটারের অবস্থান নয়। রাউটারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ব্যবহৃত ব্যান্ড, আশপাশের নেটওয়ার্কের চাপ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতার সংযোগও গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে বর্তমান রাউটারটি সঠিক জায়গায় রেখে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।
সূত্র: যুগান্তর নিউজ






