বাংলাদেশের দরিদ্র, অসচ্ছল ও উপার্জনে অক্ষম প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত উপকারভোগীরা নির্ধারিত হারে আর্থিক সহায়তা পান। নতুন আবেদনকারীদের জন্য অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই ভাতা পাওয়া নিশ্চিত নয়; নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ এবং সরকারি যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচিত হতে হয়।
আরও পড়ুন-গর্ভবতী মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা: অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য, ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবরণ দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যায়।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বয়স্ক ভাতাসহ কয়েকটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অনলাইন আবেদনের সময়সীমা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। নতুন আবেদনপর্বের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ চলছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই আবেদন করার আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদনে বয়স্ক ভাতা অনলাইন আবেদনের সরকারি লিংক, যোগ্যতা, বয়সসীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন করার নিয়ম, ভাতার পরিমাণ, টাকা পাওয়ার পদ্ধতি এবং আবেদনের অবস্থা যাচাই করার উপায় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বয়স্ক ভাতা অনলাইন আবেদনের সরকারি লিংক
বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়।
বয়স্ক ভাতা আবেদন পোর্টাল:
https://dss.bhata.gov.bd/online-application
বিকল্প সরকারি আবেদন পোর্টাল:
https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication
আবেদনের অবস্থা যাচাই:
https://mis.bhata.gov.bd/application-status
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট:
https://dss.gov.bd/
আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করার পর বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়া যায়। তবে বর্তমানে নতুন আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ায় পোর্টালে আবেদন করার সুযোগ সীমিত বা বন্ধ থাকতে পারে।
নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সেখানে উল্লেখ করা সময়সীমা ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করবেন না।
বয়স্ক ভাতা কী এবং কারা এই সুবিধা পান?
বয়স্ক ভাতা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি অংশ। প্রবীণ বয়সে যাঁদের আয় সীমিত, যাঁরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিংবা জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের সহায়তা করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭–৯৮ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি চালু হয়। পরবর্তী সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় ৬১ লাখ উপকারভোগীর জন্য জনপ্রতি মাসিক ৬৫০ টাকা ভাতার হার উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সরকারি কর্মসূচির ভাতার হার, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং আবেদন গ্রহণের নিয়ম অর্থবছর অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন কোনো হার ঘোষণা করা হলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা ও শর্ত
বয়স্ক ভাতার আবেদন করার আগে আবেদনকারী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো।
১. বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
২. বয়সসীমা পূরণ করতে হবে
প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, পুরুষের বয়স কমপক্ষে ৬৫ বছর এবং নারীর বয়স কমপক্ষে ৬২ বছর হতে হয়। তবে সরকার সময় অনুযায়ী বয়সসংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তন করতে পারে। নতুন আবেদনপর্বে প্রকাশিত নির্দেশনায় বয়সসীমা মিলিয়ে নিন।
বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ অথবা গ্রহণযোগ্য শিক্ষাগত সনদ বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
৩. আর্থিকভাবে অসচ্ছল হতে হবে
বয়স্ক ভাতা মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও উপার্জনে অক্ষম প্রবীণদের জন্য। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হালনাগাদ কর্মসূচির তথ্যে বার্ষিক গড় আয়ের সীমা সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণের সময় কার্যকর নীতিমালায় আয়সংক্রান্ত শর্ত যাচাই করতে হবে।
৪. অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলে সুবিধা হতে পারে
নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতাহীন, নিঃস্ব, ভূমিহীন এবং সামাজিকভাবে অসহায় ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিধবা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থাও বিবেচনায় আসতে পারে।
৫. সরকারি বাছাইয়ে নির্বাচিত হতে হবে
বয়স ও আয়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
মনে রাখবেন: যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করলেও আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নেই। নতুন অর্থবছরের বিজ্ঞপ্তি ও কার্যকর নীতিমালাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
বয়স্ক ভাতা পেতে কারা অযোগ্য হতে পারেন?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা বা আর্থিক সহায়তা গ্রহণকারীরা বয়স্ক ভাতার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- সরকারি কর্মচারী হিসেবে পেনশন গ্রহণকারী ব্যক্তি।
- দুস্থ মহিলা হিসেবে ভিজিডি কার্ডধারী ব্যক্তি।
- অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি অনুদান বা ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তি।
- কোনো বেসরকারি সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান বা ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তি।
এসব শর্তের প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির কার্যকর নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
বয়স্ক ভাতা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
নতুন আবেদন গ্রহণের সময়সীমা চালু থাকলে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আবেদন করা যায়। পোর্টালের ফরম ও নির্দেশনা পরিবর্তিত হলে সেখানে প্রদর্শিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
ধাপ ১: সরকারি আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করুন।
লিংক: https://dss.bhata.gov.bd/online-application
পোর্টালটি না খুললে বিকল্প সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে দেখুন। আবেদন গ্রহণ চলছে কি না, তা সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ২: বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি নির্বাচন করুন
পোর্টালে একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন অপশন থাকতে পারে। সেখান থেকে বয়স্ক ভাতা নির্বাচন করুন।
ভুল কর্মসূচি নির্বাচন করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই ফরম পূরণের আগে নির্বাচিত কর্মসূচির নাম যাচাই করুন।
ধাপ ৩: জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিন
আবেদন ফরমে যাচাইয়ের ধরন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। পোর্টালে যে পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখানো হবে, সেটি ব্যবহার করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের নম্বর দেওয়ার সময় প্রতিটি সংখ্যা ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
ধাপ ৪: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
ফরমে আবেদনকারীর নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, লিঙ্গ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হতে পারে।
পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য পূরণ করুন। নিজের পরিচয় গোপন করা বা অন্য ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
ধাপ ৫: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লিখুন
আবেদনকারীর বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বা পৌরসভা এবং গ্রাম বা এলাকার তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার আলাদা ঘর থাকলে উভয়টি পূরণ করুন।
ঠিকানা ভুল হলে স্থানীয় পর্যায়ে আবেদন যাচাই বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই জমা দেওয়ার আগে ঠিকানা পুনরায় পরীক্ষা করুন।
ধাপ ৬: মোবাইল নম্বর ও অর্থ গ্রহণের তথ্য দিন
আবেদন ফরমে যে মোবাইল নম্বর এবং অর্থ গ্রহণের তথ্য চাওয়া হবে, সেগুলো নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভাতার অর্থ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর ও অর্থ গ্রহণের হিসাব ব্যবহার করতে হবে। অন্যের হিসাব ব্যবহার করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম জেনে নিন।
ধাপ ৭: প্রয়োজনীয় তথ্য ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করুন
অনলাইন ফরমে পরিবার, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, বাসস্থান এবং অন্যান্য সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্য চাওয়া হতে পারে। এসব তথ্য উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
প্রতিটি প্রশ্নের সত্য ও সঠিক উত্তর দিন। কোনো তথ্য না বুঝলে অনুমান করে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তা নিন।
ধাপ ৮: আবেদন জমা দিন ও প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই করুন। কোনো ভুল থাকলে জমা দেওয়ার আগে সংশোধন করুন।
এরপর পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিন। আবেদন সফল হলে ট্র্যাকিং নম্বর বা আবেদনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে সেটি সংরক্ষণ করুন। পরে আবেদনের অবস্থা জানতে এই তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
বয়স্ক ভাতার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। তবে কোন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা সরকারি ফরম ও নতুন বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করবে।
সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা গ্রহণযোগ্য জন্মনিবন্ধনের তথ্য।
২. আবেদনকারীর সঠিক জন্মতারিখ ও ব্যক্তিগত তথ্য।
৩. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার বিবরণ।
৪. সচল মোবাইল নম্বর।
৫. পোর্টালে চাওয়া আবেদনকারীর ছবি।
৬. ভাতার টাকা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য।
৭. পোর্টালে বা সংশ্লিষ্ট অফিসে চাওয়া অতিরিক্ত নথি।
সব আবেদনকারীর জন্য সব নথি লাগবে, এমন নয়। সরকারি পোর্টালে নির্ধারিত প্রয়োজনীয়তাই অনুসরণ করুন।
বয়স্ক ভাতা মাসে কত টাকা পাওয়া যায়?
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার হার ছিল জনপ্রতি মাসে ৬৫০ টাকা। এই হার ওই অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য তথ্য।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের ভাতার পরিমাণ নতুন সরকারি ঘোষণা ছাড়া একই রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়। নতুন আবেদনকারী বা বর্তমান উপকারভোগীরা সর্বশেষ হার জানতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
বয়স্ক ভাতার অর্থ সাধারণত সরকারি G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ দেওয়া যেতে পারে।
বয়স্ক ভাতার আবেদনের অবস্থা কীভাবে দেখবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি যাচাই হয়েছে কি না, অনুমোদন পেয়েছে কি না অথবা অন্য কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না, তা জানার জন্য সরকারি স্ট্যাটাস পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।
আবেদনের অবস্থা যাচাইয়ের লিংক:
https://mis.bhata.gov.bd/application-status
সাধারণত নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর।
- জন্মতারিখ।
- আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর, যদি থাকে।
পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন। তথ্য পাওয়া না গেলে আবেদন জমা হয়নি—এমন সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গে নেবেন না। তথ্য হালনাগাদ হতে সময় লাগতে পারে অথবা সঠিক পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
সমস্যা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন।
বয়স্ক ভাতার টাকা কোন মাধ্যমে পাওয়া যায়?
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতার অর্থ প্রদানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থ গ্রহণের তথ্য দেওয়ার সময় নিশ্চিত করুন:
- হিসাবটি সচল রয়েছে।
- হিসাবের মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য সঠিক।
- মোবাইল নম্বর বা হিসাবের তথ্য ভুল নয়।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধনের তথ্য মিল রয়েছে।
ভাতার টাকা জমা না হলে প্রথমে হিসাবের তথ্য ও আবেদন অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিস বা অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিন।
বয়স্ক ভাতার আবেদন বাতিল বা আটকে গেলে কী করবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাইয়ে অসামঞ্জস্য, ভুল তথ্য অথবা যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে সমস্যা হতে পারে।
পরিচয়পত্রের তথ্য ভুল হলে
জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও আবেদন ফরমের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করুন।
আবেদন অনুমোদন না হলে
স্ট্যাটাস পোর্টালে পাওয়া তথ্য পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে আবেদন নম্বরসহ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
আবেদন জমা হলেও তথ্য পাওয়া না গেলে
ট্র্যাকিং নম্বর, পরিচয়পত্রের তথ্য ও জন্মতারিখ দিয়ে আবার অনুসন্ধান করুন। আবেদনসংক্রান্ত প্রমাণ থাকলে সেটিও সংরক্ষণ করুন।
অভিযোগ কোথায় জানাবেন?
আবেদন বা ভাতা নিয়ে কোনো সমস্যা হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত অভিযোগ ব্যবস্থায় বিষয়টি জানানো যেতে পারে।
বয়স্ক ভাতা অনলাইন আবেদন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
বয়স্ক ভাতার আবেদন কি অনলাইনে করা যায়?
হ্যাঁ। নতুন আবেদন গ্রহণের সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বর্তমানে নতুন আবেদনপর্ব চালু আছে কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
বয়স্ক ভাতার বয়স কত হতে হয়?
প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী পুরুষের বয়স কমপক্ষে ৬৫ বছর এবং নারীর বয়স কমপক্ষে ৬২ বছর। তবে নতুন সরকারি নির্দেশনায় বয়সসীমা পরিবর্তিত হলে সেটিই প্রযোজ্য হবে।
বয়স্ক ভাতা মাসে কত টাকা?
২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাসিক ভাতার হার ছিল ৬৫০ টাকা। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন হার ঘোষণা হয়েছে কি না, তা সরকারি সূত্রে যাচাই করতে হবে।
আবেদন করলেই কি ভাতা পাওয়া যায়?
না। আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, যোগ্যতা পরীক্ষা এবং নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বয়স্ক ভাতার আবেদন কোথায় যাচাই করব?
https://mis.bhata.gov.bd/application-status ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অথবা ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে আবেদনের অবস্থা অনুসন্ধান করা যায়।
আবেদন করতে কি টাকা লাগে?
সরকারি অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা দালালকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবেদনসংক্রান্ত ফি আছে বলে কেউ দাবি করলে সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে নিশ্চিত হন।
আবেদনসংক্রান্ত সমস্যায় কোথায় যোগাযোগ করব?
সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আবেদনসংক্রান্ত জিজ্ঞাসা বা অভিযোগের জন্য সরকারি আবেদন পোর্টালেও সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে।
শেষ কথা
বয়স্ক ভাতা অসচ্ছল প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। আবেদন করতে হলে বয়স, নাগরিকত্ব, আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। নতুন আবেদনপর্ব চালু হলে সরকারি অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের আবেদনের সময়সীমা ৩১ আগস্ট ২০২৬-এ শেষ হয়েছে। তাই নতুন আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে নির্ধারিত স্ট্যাটাস পোর্টাল থেকে অবস্থা দেখুন এবং কোনো সমস্যা হলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন।
সরকারি আবেদন পোর্টাল: https://dss.bhata.gov.bd/online-application
আবেদনের অবস্থা: https://mis.bhata.gov.bd/application-status
নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন।










