আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ভোটার নিবন্ধনের পর বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে আবেদন

October 22, 2026 7:11 AM
ভোটার নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল

অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে অনলাইনে আবেদন করার পর ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য দিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় বা নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন-নতুন ভোটার হতে কী কী কাগজ লাগে? এনআইডি আবেদনের নিয়ম জানুন

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে কী হবে?

নতুন ভোটার নিবন্ধন কিংবা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করার পর আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও এসব তথ্য জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় বা নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হয়ে ছবি তুলতে হবে এবং আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য দিতে হবে। শুধু অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না।

তবে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য ঠিক কত দিন সময় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদনকারীদের নিজেদের আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।

কেন এ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন?

নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে দীর্ঘদিন ধরে অনেক অসম্পূর্ণ আবেদন পড়ে রয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য জমা না দেওয়ায় এসব আবেদনের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইসির নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের ঝুলে থাকা আবেদন কমানো এবং নিবন্ধন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না পড়লে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের ব্যবস্থা চালু হলে দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকা আবেদন নিষ্পত্তি করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনলাইনে আবেদনকারীদের এখন কী করণীয়?

যাঁরা ইতিমধ্যে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা উচিত। বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা বা নির্ধারিত তারিখ দেওয়া হয়ে থাকলে তা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন করার পর এখনো ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশের তথ্য না দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নেওয়া ভালো। আবেদনসংক্রান্ত স্লিপ বা রেফারেন্স নম্বর থাকলে সেটিও সঙ্গে রাখুন।

নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরও মনে রাখতে হবে, অনলাইন ফরম পূরণ নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার একটি অংশমাত্র। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই এবং বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে নিবন্ধন চূড়ান্ত হবে না।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনলাইনে আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক তথ্য না দেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। তাই নতুন ভোটার হতে বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করতে আগ্রহীদের ফরম পূরণের পরই দায়িত্ব শেষ হয়েছে মনে না করে পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত

এদিকে, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত পুরোনো নথিপত্র এবং অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০১২ সাল থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২-এর কাগজের কপি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারদের ফরম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া নিষ্পত্তিযোগ্য কাগজপত্র খোলাবাজারে বিক্রি না করে সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির জন্য পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

Sobujar Alam

প্রযুক্তি, অনলাইন সেবা ও নাগরিক সুবিধাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করি। সরকারি ভাতা, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজ ভাষায় সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির নতুন আপডেট, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য তথ্য প্রকাশ করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিয়মিত গাইডধর্মী ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now