আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

১৮০ টাকার মোবাইল সেবায় গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স

১৮০ টাকার মোবাইল সেবায় গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স

দেশে মোবাইল ফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষা, ব্যবসা, ব্যাংকিং এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে মোবাইল সেবা ব্যবহারে কর ও ভ্যাটের বাড়তি চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের দাবি, বর্তমানে ১৮০ টাকার মোবাইল সেবার বিপরীতে গ্রাহকদের প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট ও ট্যাক্স গুনতে হচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল সেবার ওপর একাধিক স্তরে কর আরোপের ফলে সাধারণ গ্রাহকের ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ভয়েস কল, ইন্টারনেট প্যাকেজ এবং মোবাইল রিচার্জে যুক্ত ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ মিলিয়ে প্রকৃত খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন-কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে মিলতে পারে স্বস্তি, কমছে করের চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল খাত বর্তমানে দেশের অন্যতম বেশি কর নির্ভর খাতে পরিণত হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী মোবাইল রিচার্জ করার সময় সরাসরি যে টাকা পরিশোধ করেন, তার বড় একটি অংশ কর হিসেবে সরকারের কোষাগারে জমা হয়।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে মোবাইল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য কর মিলিয়ে মোট করের হার অনেক বেশি। ফলে একজন গ্রাহক ১০০ টাকার সেবা নিতে গিয়ে বাস্তবে আরও বেশি টাকা ব্যয় করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাড়তি করের চাপ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ও নিম্নআয়ের ব্যবহারকারীদের ওপর। কারণ বর্তমানে অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ করের কারণে অনেক ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় ডেটা প্যাকেজ কিনতেও সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ইন্টারনেটের বাড়তি খরচ ডিজিটাল সেবায় অংশগ্রহণ কমিয়ে দিতে পারে।

টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল সেবায় কর কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, করের চাপ কমানো হলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ডেটা ব্যবহার বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণে মোবাইল ইন্টারনেটকে আরও সাশ্রয়ী করা জরুরি। কারণ বর্তমানে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী স্মার্টফোন ও মোবাইল ডেটার মাধ্যমে অনলাইন সেবায় যুক্ত হচ্ছে।

এদিকে মোবাইল অপারেটরগুলোর দাবি, উচ্চ করের কারণে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগেও চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন টাওয়ার স্থাপন, ৪জি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ৫জি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও করের বোঝা সেই গতি কমিয়ে দিতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মোবাইল সেবায় করের হার তুলনামূলক বেশি। ফলে গ্রাহকদের প্রকৃত ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, অনলাইন উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিজিটাল অর্থনীতির বড় অংশই মোবাইল ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের রাজস্ব আহরণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও একইসঙ্গে ডিজিটাল সেবাকে সহজলভ্য রাখাও জরুরি। অন্যথায় ডিজিটাল বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে মোবাইল সেবায় বাড়তি ভ্যাট ও করের চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এখন মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাকে আরও সাশ্রয়ী করার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)

আরও পড়ুন-মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর কমতে পারে কল ও ডেটার খরচ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now