আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ফেস লকে বড় ঝুঁকি সামান্য ভুলেই হ্যাক হতে পারে স্মার্টফোন

ফেস লকে বড় ঝুঁকি সামান্য ভুলেই হ্যাক হতে পারে স্মার্টফোন

স্মার্টফোন দ্রুত আনলক করার জন্য বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযুক্তিগুলোর একটি হলো ফেস লক বা ফেস আইডি। শুধু মুখ দেখিয়েই মুহূর্তের মধ্যে ফোন আনলক করা যায় বলে অনেক ব্যবহারকারী এখন পিন বা পাসওয়ার্ডের বদলে এই সুবিধার ওপর নির্ভর করছেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব স্মার্টফোনের ফেস লক প্রযুক্তি সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কমদামি অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহৃত ফেস আনলক সিস্টেম কেবল ২ডি ছবির ওপর নির্ভর করে তৈরি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ছবি বা ভিডিও দেখিয়েও ফোন আনলক করা সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন-চ্যাটজিপিটি, জেমিনি নাকি নোটবুকএলএম কোন এআই টুল কোন কাজে সেরা?

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন ইনফ্রারেড সেন্সর এবং ৩ডি ডেপথ ম্যাপিং প্রযুক্তি। এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর মুখের গভীরতা ও ত্রিমাত্রিক গঠন বিশ্লেষণ করে। কিন্তু অনেক ফোনে এই সুবিধা না থাকায় নিরাপত্তা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। সাইবার অপরাধীরা সেই ছবি ব্যবহার করেও কিছু দুর্বল ফেস লক সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

আরও একটি বড় ঝুঁকির বিষয় হলো ‘Eyes Must Be Open’ বা চোখ খোলা থাকার নিরাপত্তা অপশন। অনেক ব্যবহারকারী এই সেটিংস চালু রাখেন না। ফলে ব্যবহারকারী ঘুমিয়ে থাকলেও অন্য কেউ তার মুখ সামনে ধরেই ফোন আনলক করতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং অ্যাপ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকলে শুধু ফেস লকের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি সাধারণত ফেস লকের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ এটি প্রতিটি মানুষের জন্য আলাদা এবং ছবি বা ভিডিও দিয়ে সহজে নকল করা যায় না।

নিরাপদ থাকতে ব্যবহারকারীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, স্মার্টফোনের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। কারণ নতুন আপডেটে অনেক সময় নিরাপত্তা দুর্বলতা ঠিক করা হয়।

দ্বিতীয়ত, ফেস আইডি সেটিংসে গিয়ে চোখ খোলা রাখার অপশনটি সক্রিয় রাখা জরুরি। এতে ব্যবহারকারী সচেতনভাবে ফোনের দিকে না তাকালে ডিভাইস আনলক হবে না।

বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে যমজ ভাইবোন বা দেখতে খুব মিল আছে এমন মানুষের ক্ষেত্রে ফেস লক প্রযুক্তি অনেক সময় বিভ্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে কম উন্নত প্রযুক্তির ফোনে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

বর্তমানে স্মার্টফোনে বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হলেও সাইবার হামলার কৌশলও একইসঙ্গে উন্নত হচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সচেতন থাকাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, শুধু দ্রুত আনলকের সুবিধার কথা ভেবে নিরাপত্তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ একটি স্মার্টফোনেই এখন ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংক তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষিত থাকে।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফেস লক ব্যবহার করলেও বাড়তি নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা উচিত।

সূত্র: Google Android Security, Apple Face ID Security

আরও পড়ুন-নেটফ্লিক্সে এলো টিকটক স্টাইল ফিচার, স্ক্রল করেই মিলবে সিনেমা-সিরিজ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now