দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে Banglalink। বিশ্বের শীর্ষ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক প্রদানকারী Starlink-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে ‘স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল’ প্রযুক্তি দেশে চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা পাওয়া যাবে, যা প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারনির্ভর ব্যবস্থার বাইরে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
আরও পড়ুন-হাইস্পিড ইন্টারনেটের স্বপ্ন বাস্তব ঢাকায় ৫জি, ছড়াচ্ছে সারাদেশে
নতুন এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা একেবারেই নেই, সেসব ‘ডেড জোন’-এও যোগাযোগ সম্ভব হবে। পার্বত্য অঞ্চল, নদীবেষ্টিত চর, উপকূলীয় দ্বীপ কিংবা সমুদ্রের অফশোর এলাকাগুলোতে যেখানে প্রচলিত নেটওয়ার্ক স্থাপন কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইট সংযোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলালিংক জানিয়েছে, আকাশ দেখা যায়—এমন যেকোনো স্থান থেকেই ব্যবহারকারীরা টেক্সট মেসেজ পাঠাতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের আওতায় আসবেন।
প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং দিয়ে এই সেবা চালু করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভয়েস কল ও ডাটা সুবিধাও যুক্ত করা হবে।
এর ফলে ব্যবহারকারীরা শুধু বার্তা আদান-প্রদানই নয়, ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও পাবেন—যা গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল সেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতেও যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হবে, যা দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারী নয়, জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।
বাংলালিংক বলছে, তাদের ‘পিপল ফার্স্ট’ দর্শনের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষকে ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনার লক্ষ্যেই তারা স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত করছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Erik Aas (নোট: এখানে প্রকৃত নাম ইয়োহান বুসে) বলেন, সংযোগ মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা। বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে এখনো অনেক এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। স্যাটেলাইট কভারেজের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করাই তাদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে Starlink-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে লাখো মানুষ প্রথমবারের মতো নির্ভরযোগ্য মোবাইল সংযোগের সুযোগ পাবে।
এই প্রকল্পটি মূলত VEON এবং স্টারলিংকের যৌথ উদ্যোগের অংশ। ইতোমধ্যে ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে এই প্রযুক্তি সফলভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশ হবে এই উদ্যোগের তৃতীয় দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি চালু হলে দেশের ডিজিটাল বৈষম্য কমবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও অনলাইন সেবার প্রসার আরও বাড়বে।
তবে সেবাটি চালুর আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে খুব শিগগিরই এই সেবা চালু করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক।
সব মিলিয়ে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি চালুর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুত্রঃ Dhaka Mail
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-দেশেই তৈরি হবে RFL এর Wi-Fi রাউটার, প্রাণ-আরএফএল ও জাস টেকনোলজির উদ্যোগ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









