ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে শবে বরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত এই রাতকে অনেক মুসলমান ইবাদত, নফল নামাজ, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন। এ সময় অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যায়—শবে বরাতের নামাজের নিয়ত কীভাবে করতে হয়। কারণ শবে বরাতের নামাজ মূলত নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব বিধান নেই। তবুও সঠিক নিয়ত ও নিয়ম জেনে ইবাদত করা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন-২০২৬ সালের শবে বরাত, রমজান, শবে কদর ও ঈদ কবে-পূর্ণ তথ্য
শবে বরাত কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
শবে বরাত শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ মুক্তি বা পরিত্রাণের রাত। ইসলামি পরিভাষায় এটি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে বোঝায়। অনেক মুসলমান বিশ্বাস করেন, এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন এবং আগামীর জন্য ফয়সালা নির্ধারণ করেন।
এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে মুসলমানরা এ রাতে—
-
নফল নামাজ আদায় করেন।
-
কুরআন তিলাওয়াত করেন।
-
দোয়া ও ইস্তিগফার করেন।
-
আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
শবে বরাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব
শবে বরাতের রাতে যে নামাজ পড়া হয়, তা নফল নামাজ হিসেবে আদায় করা হয়। ইসলামে নফল নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শবে বরাতের রাতে নফল ইবাদত করলে সওয়াব পাওয়ার আশা করা হয়—এমন বিশ্বাস বহু মুসলমানের মধ্যে প্রচলিত।
তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা নির্দিষ্ট রাকাআতের বাধ্যবাধকতা নেই। বরং সাধারণ নফল নামাজ হিসেবেই এই রাতে নামাজ আদায় করা হয়।
শবে বরাতের নামাজের নিয়ত কেন জানা জরুরি
নিয়ত নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়ত ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না। অনেকেই মনে করেন, শবে বরাতের নামাজের জন্য আলাদা কোনো আরবি নিয়ত মুখস্থ করতে হয়। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্প। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল নামাজ আদায় করার সিদ্ধান্তই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট।
শবে বরাতের নামাজের নিয়ত কীভাবে করবেন
শবে বরাতের নামাজ আদায়ের সময় সাধারণ নফল নামাজের নিয়তই করতে হয়।
বাংলায় নিয়ত
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শবে বরাতের নফল নামাজ দুই রাকাআত আদায় করার নিয়ত করছি।”
আরবি নিয়ত (যদি কেউ পড়তে চান)
নফল নামাজের সাধারণ নিয়তই প্রযোজ্য। নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসভিত্তিক আলাদা নিয়ত বর্ণিত নেই।
এখানে মনে রাখতে হবে—
-
নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়
-
অন্তরে ইচ্ছা থাকলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়
শবে বরাতে কত রাকাআত নামাজ পড়তে হয়
শবে বরাতের নামাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রাকাআতের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণত মুসলমানরা—
-
২ রাকাআত করে নফল নামাজ।
-
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একাধিকবার আদায় করেন।
কেউ ২ রাকাআত, কেউ ৪ রাকাআত, আবার কেউ তার বেশি রাকাআত নফল নামাজ আদায় করেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইবাদতের বিষয়।
শবে বরাতের নামাজ কখন পড়বেন
শবে বরাতের নামাজ পড়ার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেই। সাধারণত—
-
মাগরিবের পর থেকে
-
ইশার নামাজের পর
-
মধ্যরাতের পর
-
ফজরের আগে পর্যন্ত
এই সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় নফল নামাজ আদায় করা যায়।
শবে বরাতের নামাজ আদায়ের নিয়ম
শবে বরাতের নামাজ সাধারণ নফল নামাজের মতোই আদায় করতে হয়।
নিয়ম সংক্ষেপে—
-
দুই রাকাআত করে নামাজ আদায়।
-
সুরা ফাতিহার পর যেকোনো সুরা পাঠ।
-
রুকু, সিজদা ও তাশাহহুদ স্বাভাবিক নিয়মে আদায়।
-
সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ।
নামাজ শেষে দোয়া ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে।
শবে বরাতে নামাজের সঙ্গে আর কী ইবাদত করা যায়
শবে বরাতের রাতে শুধু নামাজ নয়, আরও কিছু ইবাদত করা যায়—
-
কুরআন তিলাওয়াত
-
দরুদ শরিফ পাঠ
-
তাসবিহ ও জিকির
-
নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া
-
মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া
এসব ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
শবে বরাত নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
শবে বরাত নিয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে—
-
নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাআত পড়তেই হবে—এমন ধারণা।
-
নির্দিষ্ট সুরা পড়া বাধ্যতামূলক—এমন বিশ্বাস।
-
শুধু এই রাতেই ক্ষমা পাওয়া যায়—এমন ধারণা।
ইসলামি দৃষ্টিতে এগুলোর কোনো বাধ্যতামূলক ভিত্তি নেই। ইবাদত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।
FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
প্রশ্ন ১: শবে বরাতের নামাজ কি ফরজ?
উত্তর: না, শবে বরাতের নামাজ ফরজ নয়। এটি নফল ইবাদত।
প্রশ্ন ২: শবে বরাতের জন্য কি আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজ আছে?
উত্তর: না, নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা রাকাআতের বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রশ্ন ৩: শবে বরাতের নামাজের নিয়ত কি আরবিতে করতে হবে?
উত্তর: না, নিয়ত অন্তরের ইচ্ছা। বাংলায় বা মনে মনে করলেই যথেষ্ট।
প্রশ্ন ৪: শবে বরাতে কত রাকাআত নামাজ পড়া ভালো?
উত্তর: নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ২ রাকাআত করে পড়া যায়।
প্রশ্ন ৫: শবে বরাতের নামাজ কি জামাতে পড়া যায়?
উত্তর: সাধারণত নফল নামাজ একাকী পড়াই উত্তম। জামাতে পড়া বাধ্যতামূলক নয়।
প্রশ্ন ৬: নামাজ ছাড়া কি শুধু দোয়া করলে হবে?
উত্তর: দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
উপসংহার
শবে বরাতের নামাজের নিয়ত মূলত সাধারণ নফল নামাজের নিয়তই। এই রাতে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আত্মশুদ্ধি। নির্দিষ্ট নিয়ম বা সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সহজভাবে নফল নামাজ, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে এই রাত কাটানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-রোজা রাখার নিয়ত করা জটিল নয়! জানুন সঠিক নিয়ত, দোয়া ও ফজিলত
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥









