আজকের ডিজিটাল সমাজে মোবাইল সিম কার্ড ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন। আমরা ফোনে কথা বলি, ইন্টারনেট চালাই, অফিসের কাজ করি, ব্যাংকিং করি — সবই সিম-এর মাধ্যমে। তাই সিম কেনা ও নিবন্ধনের নিয়মগুলো সবার জানা জরুরি।
সম্প্রতি বাংলাদেশে মোবাইল সিম কার্ড কেনা ও রেজিস্ট্রেশনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নতুন নিয়ম এসেছে, যেগুলো সাধারণ গ্রাহকসহ ব্যবসায়ী, স্টুডেন্ট এবং সকল মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য জরুরি। চলুন এক-একটা নিয়ম সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে জানি ।
আরও পড়ুন-কিস্তিতে মোবাইল কোথায় পাবেন বাংলাদেশ ২০২৬: সহজ পদ্ধতি ও সেরা অফার
সিম কার্ড নিবন্ধনের সর্বশেষ সীমা (কতগুলো সিম নিবন্ধন করা যাবে)
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) মোবাইল সিম কার্ড নিবন্ধন নিয়ে নতুন শর্ত দিয়েছে:
📍 প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দ্বারা সর্বোচ্চ ১০টি সিম কার্ড নিবন্ধন করা যাবে।
আগে এটি ছিল ১৫টি, পরে কমে ১০টি হয়েছে।
📍 অতিরিক্ত সিমগুলো যদি থাকে, তাহলে সেগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে বা বন্ধ করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীদেরকে নিজেই Customer Care-এ গিয়ে অতিরিক্ত সিমগুলো ডিঅ্যাক্টিভেট বা Ownership Transfer করতে বলা হয়েছে।
👉 এর উদ্দেশ্য হলো:
✔️ সিম-মিষ্ট্রি, জালিয়াতি ও অপরাধের সংখ্যা কমানো
✔️ সিম-ভিত্তিক প্রতারণা ও স্ক্যাম রোধ করা
✔️ মোবাইল নিরাপত্তা আরও দৃঢ় করা
⚠️ তবে কিছু মিডিয়ায় বলা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫টি সিম করা হবে, সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। কিন্তু BTRC এই তথ্যটি ভুল বা গুজব বলে জানিয়েছে।
সিম কেনার আগে কী কী লাগবে?
মোবাইল সিম কার্ড নেওয়ার জন্য এখন নিম্নের বিষয়গুলো যুক্ত করা হচ্ছে:
✅ অনলাইন বা ডিজিটাল KYC (Know Your Customer) বাধ্যতামূলক হবে।
অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হয়েছে ই-KYC বা অন-লাইনে পরিচয় যাচাই। পুরনো সময়ের মতো শুধুমাত্র কাগজপত্র দেখালেই হবে না।
✅ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা বাধ্যতামূলক — সিম নিবন্ধনের জন্য NID ছাড়া সিম দেওয়া হবে না।
👉 ****
💡 এর ফলে মাইগ্রেশন বা ই-SIM নিলেও NID ছাড়া সিম রেজিস্ট্রেশন অসম্ভব।
📌 এই নিয়ম অপরাধী বা জাল পরিচয়ের মাধ্যমে সিম বানানো রোধ করবে।
NEIR (National Equipment Identity Register) সিস্টেম
জাতীয় মোবাইল নিরাপত্তা তৈরির অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে NEIR সিস্টেম, যা মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর ও সিমের তথ্যকে এক-একটি ডাটাবেসে সংযুক্ত করে রাখবে।
🔎 এর মাধ্যমে:
✔️ শুধুমাত্র বৈধ ফোন ও বৈধ সিমই বাংলাদেশে কাজ করবে।
✔️ অবৈধ বা চোরাই ফোনগুলো নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে না।
✔️ অপরাধীদের ফোনে সিম ব্যবহারের সুযোগ কমবে।
📌 NEIR সিস্টেমটি ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাস্তবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এবং এটি বর্তমানে চালু করা হয়েছে বা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ ও ডিঅ্যাক্টিভেট
অনেক সময় আমরা ভুলে যাই সংস্কার বা পুরনো নম্বরগুলো রেখে দিতে। কিন্তু এখন:
📍 যদি আপনার নামে ১০টির বেশি সিম থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ করা হবে।
📍 মোবাইল সিম প্রতি ৩০ দিনে নিয়মিত কাজ না করলে তা বাতিল হওয়ার সুযোগ থাকে (যেমন রিচার্জ না করলে)।
📍 আপনার কোন অজানা সিম আপনার NID দিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
📲 নিজের কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে তা আপনি জানতে পারেন:
➡️ *Dial 16001# এবং শেষে NID-এর শেষ ৪ সংখ্যা লিখে।
এতে আপনি দ্রুত তালিকা পেয়ে যাবেন।
ভুল করলে কী হবে? (জরিমানা বা সিম বন্ধ)
⚠️ ভুল তথ্য দিয়ে সিম নিবন্ধন করলে (যেমন জাল NID ব্যবহার করা), তাহলে:
✔️ সিম বাতিল করা হতে পারে।
✔️ জরিমানা অথবা আইনি কাজের সম্মুখীন হতে হতে পারে।
✔️ তাছাড়া অনলাইন বা ডিজিটাল KYC না করলে নতুন সিম দেওয়া হবে না।
👉 তাই সঠিক তথ্য দিয়ে সিম নিবন্ধন করা সব সময় আবশ্যক।
বিশেষ সিম: IoT & Smart Device এর জন্য আলাদা নিয়ম
বর্তমানে IoT (Internet of Things) ডিভাইস বা Smart Gadgets-এর জন্য আলাদা সিম সিরিজ চালু করার পরিকল্পনা এসেছে — সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের মতো নয়।
📍 এই সিমগুলো হবে বিশেষ উদ্দেশ্যে —
✔️ ডাটা-ভিত্তিক।
✔️ ভয়েস বা কল সিম নয়।
✔️ Smart Device বা Machine-to-Machine (M2M) ব্যবহারের জন।
👉 এটি ভবিষ্যতের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য একটি প্রস্তুতি।
প্রশ্ন ও উত্তর
Q1: মোবাইল সিম নিতে কি NID ছাড়া দেয়া হবে?
🔹 না, এখন NID ছাড়া নিয়মিত সিম প্রদান হয় না।
Q2: আমি যদি ৬টার বেশি সিম নিবন্ধন করি, কি হবে?
🔹 ১০টি পর্যন্ত নেওয়া যাবে; এর বেশি থাকলে অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ বা ডিঅ্যাক্টিভেট হবে।
Q3: আমার কাছে পুরনো অব্যবহৃত সিম আছে, কি করবো?
🔹 Customer Care-এ যোগাযোগ করে ডিঅ্যাক্টিভেট করে নিতে পারেন।
Q4: IoT ডিভাইসের সিম কি মোবাইল সিমের মতো?
🔹 না, এটি আলাদা সিরিজ এবং শুধুমাত্র Smart Device ব্যবহারের জন্য।
উপসংহার
বাংলাদেশে মোবাইল সিম কার্ড কেনা ও নিবন্ধনের নতুন নিয়মগুলো মূলত নিরাপদ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রতারণা ও অপরাধ কমানো এবং ডিজিটাল সেবা আরও নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। এখন থেকে সিম কিনতে হলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে, নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি সিম রাখা যাবে না, এবং ডিজিটাল KYC ও NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে সিম ও মোবাইল ডিভাইস যাচাই করা হবে।
এই পরিবর্তনগুলো প্রথমে কিছুটা ঝামেলার মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যই উপকারী। কারণ এতে করে ভুয়া সিম, জালিয়াতি কল, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ও অপরাধমূলক কার্যক্রম অনেকটাই কমে যাবে। তাই একজন সচেতন মোবাইল ব্যবহারকারী হিসেবে নিজের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে তা যাচাই করা, অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করা এবং নতুন নিয়ম মেনে সিম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, নতুন সিম কার্ড নীতিমালা শুধু নিয়ম নয়—এটি নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়ম মেনে সিম ব্যবহার করলে আপনি যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-TP-Link Router কেন বাংলাদেশে এত জনপ্রিয়? দাম, মডেল ও সেটআপ গাইড ২০২6
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


