জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাংলাদেশের নাগরিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। ব্যাংকিং, পাসপোর্ট, সিম রেজিস্ট্রেশন, চাকরি, ভিসা আবেদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি বাধ্যতামূলক।
তবে অনেক সময় দেখা যায়—
-
ছবিটি খুব পুরোনো
-
ছবির মান খারাপ বা ঝাপসা
-
বর্তমান চেহারার সাথে মিল নেই
-
KYC যাচাইয়ে সমস্যা হচ্ছে
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চান: ভোটার আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম কী? কত টাকা লাগে? কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
এই গাইডে সব তথ্য ধাপে ধাপে জানানো হলো।
আরও পড়ুন-এনআইডি হারানো গেলে থানায় জিডি লাগবে না: নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ
ভোটার আইডি কার্ডের ছবি কি অনলাইনে পরিবর্তন করা যায়?
সংক্ষেপে উত্তর: না।
সরাসরি অনলাইনে নিজের ছবি আপলোড করে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কারণ NID ছবিটি বায়োমেট্রিক তথ্যের অংশ। তাই নির্বাচন অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নতুন ছবি তুলতে হয়।
অফিসিয়াল পোর্টাল:
https://services.nidw.gov.bd/
ধাপে ধাপে ছবি পরিবর্তনের সঠিক নিয়ম
ধাপ ১: সংশোধন আবেদন শুরু
প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
- সংশোধন ফরম-২ সংগ্রহ করুন।
- অথবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন।
কারণ অংশে লিখুন:
“ছবি বর্তমান চেহারার সাথে মিল নেই”
অথবা
“ছবি অস্পষ্ট”
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
ছবি পরিবর্তনের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—
-
পুরাতন NID কার্ডের কপি
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ
-
শিক্ষাগত সনদ (যদি থাকে)
-
পাসপোর্ট (যদি থাকে)
-
আবেদন ফরম
সব কাগজপত্র স্পষ্ট ও সঠিক হওয়া জরুরি।
ধাপ ৩: নির্বাচন অফিসে উপস্থিতি
এটি বাধ্যতামূলক ধাপ।
- নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।
- বায়োমেট্রিক যাচাই হবে।
- অফিসের ক্যামেরায় নতুন ছবি তোলা হবে।
নিজস্ব স্টুডিও ছবি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
ধাপ ৪: ফি পরিশোধ
সম্ভাব্য খরচ:
| আবেদন ধরণ | আনুমানিক ফি |
|---|---|
| সাধারণ আবেদন | ২০০–২৫০ টাকা |
| জরুরি আবেদন | ৩৫০–৪৫০ টাকা |
স্থানভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
ধাপ ৫: আবেদন ট্র্যাকিং
ফি পরিশোধের পর—
-
একটি রসিদ পাবেন
-
SMS নোটিফিকেশন পেতে পারেন
-
নির্ধারিত সময় পর স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন
কতদিনে ছবি আপডেট হয়?
- সাধারণ আবেদন: ১৫–৩০ কার্যদিবস
- জরুরি আবেদন: ৭–১০ কার্যদিবস
কাজের চাপ অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কেন?
নিচের ক্ষেত্রে ছবি পরিবর্তন জরুরি—
- ব্যাংক KYC সমস্যা
- পাসপোর্ট যাচাই সমস্যা
- বিমান ভ্রমণ যাচাই
- বয়সজনিত বড় পরিবর্তন
- ছবির মান খারাপ
আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ
-
ভুল তথ্য
-
অসম্পূর্ণ কাগজপত্র
-
ফি জমা না দেওয়া
-
অন্য কারো মাধ্যমে আবেদন
সবসময় নিজে অফিসে যান।
⚠ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
-
অনলাইনে ছবি আপলোড সার্ভিস নামে প্রতারণা থেকে সাবধান
-
দালালের মাধ্যমে আবেদন করবেন না
-
অফিসিয়াল নির্বাচন অফিস ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করবেন না
FAQ
প্রশ্ন ১: অনলাইনে কি ভোটার আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন করা যায়?
না। নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে নতুন ছবি তুলতে হয়।
প্রশ্ন ২: কত টাকা লাগে?
সাধারণত ২০০–২৫০ টাকা। জরুরি সার্ভিসে ৩৫০–৪৫০ টাকা।
প্রশ্ন ৩: কতদিন লাগে?
১৫–৩০ কার্যদিবস। জরুরি হলে ৭–১০ দিন।
প্রশ্ন ৪: নিজে না গেলে কি হবে?
না। বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের জন্য উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৫: নতুন কার্ড পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, তথ্য আপডেটের পর নতুন কার্ড ইস্যু হতে পারে।
উপসংহার
ভোটার আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম, খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ।
মনে রাখবেন—
- অনলাইনে সরাসরি ছবি আপলোড করা যায় না।
- নিজে নির্বাচন অফিসে যেতে হবে।
- বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক।
- নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।
সঠিকভাবে আবেদন করলে ২–৪ সপ্তাহের মধ্যে আপডেট সম্পন্ন হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের নিয়ম ২০২৬ | অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










