বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল ও কলেজ স্থাপন, পাঠদান এবং একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমোদনের দায়িত্ব আর শিক্ষা বোর্ডগুলোর হাতে থাকছে না। এই ক্ষমতা আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিভাগে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন-অনলাইন ক্লাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়
নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান এবং একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমোদন ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি নীতিমালা-২০২২’ এবং সংশোধিত ২০২৩ সালের নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হবে।
বিশেষ করে নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১৭ (খ) অনুযায়ী এই ক্ষমতা এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা বোর্ডগুলো আর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
এর আগে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের অনুমোদনের দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল।
সেই অনুযায়ী, প্রায় চার বছর ধরে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও স্বীকৃতির বিষয়ে বোর্ডগুলো সরাসরি কাজ করে আসছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে সেই দায়িত্ব আবারও মন্ত্রণালয়ের হাতে ফিরে এলো।
যদিও আদেশে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকলে—নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা সহজ হবে,অনিয়ম বা অসঙ্গতি কমানো সম্ভব হবে,নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদনে স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে একইসঙ্গে তারা মনে করছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যেখানে বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত, এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
কিছু শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করছেন, বোর্ডের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দক্ষতা নির্ভর করবে প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর।
সব মিলিয়ে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপর।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









