আজকের ডিজিটাল যুগে ব্যাংকিং এবং লেনদেনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিকাশ (bKash) অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস। যারা বিকাশ ব্যবহার করেন না, তাদের জন্য একাউন্ট খোলা কখনও কখনও একটু জটিল মনে হতে পারে। তবে আসলেই এটি খুবই সহজ এবং দ্রুত সম্পন্নযোগ্য।
এই গাইডে আমরা দেখাবো কীভাবে ধাপে ধাপে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, সিমের ধরন, ও নিরাপত্তা বিষয়ক টিপস। এই ব্লগটি বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষভাবে লেখা, তাই আপনি সহজেই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে পারবেন।
আর পড়ুন- মোবাইল সিম হারিয়ে গেলে বা ব্যবহার না করলে কীভাবে সিম বন্ধ করবেন?
বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ:
-
বয়স: আপনার বয়স হতে হবে ১৮ বছর বা তার বেশি।
-
ন্যাশনাল আইডি (NID): সঠিকভাবে যাচাই করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
-
সিম কার্ড: বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য বাংলাদেশী মোবাইল নেটওয়ার্কের সক্রিয় সিম কার্ড প্রয়োজন।
-
স্মার্টফোন বা মোবাইল: যদিও অনেক ফিচার ফোনেই খোলা যায়, স্মার্টফোন হলে আরও সুবিধা পাওয়া যায়।
বিকাশ একাউন্ট খোলার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: বিকাশ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের কাছে যান। এজেন্টরা আপনার সিম এবং NID যাচাই করে একাউন্ট খোলার কাজ শুরু করবেন।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
-
মোবাইল সিম কার্ড (যেটিতে আপনি একাউন্ট চালাবেন)
এজেন্ট আপনার পরিচয়পত্র যাচাই করার পর একটি রেজিস্ট্রেশন ফর্ম প্রদান করবেন।
ধাপ ৩: রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করুন
ফর্মে আপনার পুরো নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নাম্বার, ঠিকানা প্রভৃতি তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। ভুল তথ্য দিলে একাউন্ট খোলা ব্যর্থ হতে পারে।
ধাপ ৪: একাউন্ট ভেরিফিকেশন এবং পিন সেট করুন
ফর্ম জমা দেওয়ার পর, এজেন্ট আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবেন। কোডটি দিয়ে ভেরিফাই করুন এবং পরে ৪ বা ৫ অঙ্কের পিন সেট করুন। এই পিনটি ব্যবহার করে আপনি বিকাশ অ্যাপে লগইন করতে পারবেন।
ধাপ ৫: একাউন্ট চালু করুন এবং ব্যবহার শুরু করুন
সফলভাবে ভেরিফিকেশন শেষ হলে, আপনার বিকাশ একাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে। এখন আপনি টাকা পাঠানো, রিচার্জ, বিল পেমেন্ট, পেমেন্ট রিসিভ সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন।
বিকাশ একাউন্ট খোলার সময় নিরাপত্তা টিপস:
-
পিন কাউকে জানান না: বিকাশ পিন কাউকে জানানোর দরকার নেই।
-
OTP গোপন রাখুন: মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে আসা OTP কাউকে দেখাবেন না।
-
অফিশিয়াল এজেন্টের মাধ্যমে খুলুন: শুধু বিকাশের প্রামাণিক এজেন্টের মাধ্যমে একাউন্ট খুলুন।
বিকাশ একাউন্ট খোলার সুবিধা:
-
টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা সহজ ।
-
মাসিক বিল ও রিচার্জের সুবিধা ।
-
ব্যাংক লেনদেনের চেয়ে দ্রুত ।
-
যে কোন সময় ২৪/৭ লেনদেন সম্ভব ।
কি ধরনের সিম দরকার বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য?
১. সক্রিয় বাংলাদেশী মোবাইল সিম
-
বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো মোবাইল অপারেটরের সক্রিয় সিম কার্ড থাকা লাগবে।
-
এটি হতে পারে গ্রামিনফোন (GP), রবি, বাংলালিংক, টেলিটক, অথবা অরেঞ্জের সাবস্ক্রিপশন সিম।
২. নিজের নামের সিম
-
বিকাশ একাউন্ট সাধারণত নিজের নামে থাকা সিম দিয়ে খোলা হয়।
-
যদি সিম অন্য কারো নামে থাকে, তবে বিকাশ একাউন্ট খোলার সময় সমস্যা হতে পারে।
৩. সিমে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা (যদি প্রয়োজন হয়)
-
একাউন্ট খোলার জন্য সাধারণত অতিরিক্ত ব্যালেন্স দরকার হয় না।
-
তবে অ্যাক্টিভেশন বা প্রথম লেনদেনের জন্য সামান্য ব্যালেন্স থাকা ভালো।
৪. নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকা
-
সিমটির নেটওয়ার্ক সক্রিয় ও ঠিকমতো কাজ করা উচিত।
-
বিকাশের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক বা এসএমএস/কল ফাংশন ঠিকমতো কাজ করতে হবে ।
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে পিন পরিবর্তন
-
আপনার মোবাইলে bKash অ্যাপ ওপেন করুন।
-
লগইন করুন আপনার পুরানো পিন দিয়ে।
-
অ্যাপের মেনুতে যান এবং ‘Settings’ বা ‘Security’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।
-
সেখানে ‘Change PIN’ অপশনটি পাবেন।
-
পুরানো পিন লিখে দিন এবং নতুন ৪ বা ৫ অঙ্কের পিন সেট করুন।
-
নতুন পিন নিশ্চিত করার জন্য আবার লিখুন।
-
পরিবর্তন সম্পন্ন হলে, অ্যাপ একটি কনফার্মেশন মেসেজ দেখাবে।
বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে পিন পরিবর্তন
-
নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের দোকানে যান।
-
আপনার NID এবং সিম সঙ্গে নিয়ে যান।
-
এজেন্টকে বলুন আপনি পিন পরিবর্তন করতে চান।
-
এজেন্ট আপনার তথ্য যাচাই করার পর নতুন পিন সেট করে দিবেন।
পিন পরিবর্তনের সময় সতর্কতা
-
পিন কাউকে কখনও জানান না।
-
অজানা ও অনলাইন থার্ড পার্টি অ্যাপের মাধ্যমে পিন পরিবর্তন করবেন না।
-
পিনের জন্য সহজ অনুমেয় সংখ্যা ব্যবহার করবেন না, যেমন 1234 বা 0000।
প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য কতদিন লাগে?
উত্তর: সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার বিকাশ একাউন্ট চালু হয়ে যায়।
প্রশ্ন ২: কি ধরনের সিম দরকার বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য?
উত্তর: যে কোনো বাংলাদেশী মোবাইল অপারেটরের সক্রিয় সিম।
প্রশ্ন ৩: বিকাশ একাউন্ট কি ফ্রিতে খোলা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, একাউন্ট খোলা ফ্রি। তবে কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: কিভাবে পিন পরিবর্তন করব?
উত্তর: বিকাশ অ্যাপে লগইন করে অথবা নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে পিন পরিবর্তন করা যায়।
উপসংহার:
বিকাশ একাউন্ট খোলা এখন অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত। শুধুমাত্র প্রয়োজন ন্যাশনাল আইডি ও সক্রিয় সিম। একবার একাউন্ট খুলে নিলে আপনি ব্যাংকিং লেনদেন, রিচার্জ, বিল পেমেন্টসহ আরও অনেক সুবিধা পাবেন। নিরাপত্তা বজায় রেখে নিয়মিত ব্যবহার করুন, আর ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা উপভোগ করুন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে? ১ মিনিটেই জানুন সহজ উপায়
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


