দেশের বেকার তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী কয়েক বছরে হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে দক্ষ করে তোলা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারে।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মো. আমিনুল হক।
আরও পড়ুন-১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ একদিনেই নতুন তালিকা প্রকাশ
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা অনলাইনে অংশ নেন।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং খাতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও প্রশস্ত হবে।
প্রকল্পটির আওতায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে মোট ৩৬ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
বর্তমান ব্যাচে ৬৪টি জেলায় প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রতি তরুণদের আগ্রহ অত্যন্ত বেশি। বর্তমান ব্যাচে অংশ নিতে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে, যা এই উদ্যোগের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
তিন মাসব্যাপী এই কোর্সে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
- কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন।
- ফ্রিল্যান্সিং স্কিল।
- বেসিক ইংরেজি।
- ডিজিটাল মার্কেটিং।
- গ্রাফিক্স ডিজাইন।
- ভিডিও এডিটিং।
এছাড়াও সফট স্কিল এবং স্মার্টফোন ব্যবহার করে কাজ করার মতো বাস্তবভিত্তিক বিষয় শেখানো হবে, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এতে তাদের দক্ষতা, অগ্রগতি ও আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাচে ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। তাদের সম্মিলিত আয় ইতোমধ্যে কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হবে সরকারি সনদপত্র, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









