বায়োমেট্রিক জটিলতায় সিম নিবন্ধন বা পুনরায় চালু করতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন অনেক গ্রাহক। বিশেষ করে আঙুলের ছাপ না মেলা, মালিক বিদেশে থাকা কিংবা মৃত্যুর পর সিম হস্তান্তরের মতো সমস্যায় পড়লে সহজ সমাধান মিলত না। এবার এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে তিন ধরনের বায়োমেট্রিক জটিলতার ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ সিম ইস্যু বা হস্তান্তর করা যাবে। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-টেলিটক সিম কত দিন বন্ধ রাখলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায়টেলিটক সিম কত দিন বন্ধ রাখলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায়
কোন তিন ক্ষেত্রে মিলবে বিশেষ সুবিধা
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সুবিধা দেওয়া হবে—
প্রথমত, মূল সিম গ্রাহক বিদেশে থাকলে তার মনোনীত ব্যক্তির কাছে সিম হস্তান্তর করা যাবে।
দ্বিতীয়ত, বয়স্ক, অসুস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ বায়োমেট্রিকে না মিললে বিকল্প পদ্ধতিতে সিম দেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, কোনো গ্রাহকের মৃত্যুর পর তার বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে সিমের মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন ছিল না। ফলে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল ছিল।
গত এক বছরে চারটি মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে এ ধরনের ৮৮টি আবেদন অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৫১টি ছিল সিম রিপ্লেসমেন্ট, ৮টি নতুন সিম নিবন্ধন এবং ২৯টি মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত।
এতে দেখা গেছে, অপারেটরদের নিজস্ব পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। তাই সরাসরি কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে থাকা গ্রাহকের ক্ষেত্রে যা লাগবে
যদি মূল গ্রাহক দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে সিম পুনরায় চালু বা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজন হবে—
- পাসপোর্ট ও ভিসার কপি
- কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- মনোনীত ব্যক্তির পরিচয়পত্র
এছাড়া যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মূল গ্রাহকের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করা হবে।
আঙুলের ছাপ না মিললে করণীয়
বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মিললে সিম নিতে প্রয়োজন হবে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- মেডিক্যাল বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র
এই নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে সিম প্রদান করা হবে।
মৃত্যুর পর সিম হস্তান্তরের নিয়ম
কোনো গ্রাহক মারা গেলে তার সিম উত্তরাধিকারীর নামে নিতে হলে জমা দিতে হবে—
- মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র
- মৃত্যুসনদ
- ওয়ারিশনামা
- উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র
সব নথি যাচাই শেষে বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে সিম হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হবে।
ভোগান্তি কমাতেই উদ্যোগ
কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, আগে এসব সমস্যার সমাধান আলাদাভাবে করা হলেও এখন তা আনুষ্ঠানিক গাইডলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা
বায়োমেট্রিক সমস্যার কারণে অনেকেই দীর্ঘদিন সিম ব্যবহার করতে পারেননি। কেউ আঙুলের ছাপ না মেলায় সিম নিতে পারেননি, আবার কারও ক্ষেত্রে মালিক বিদেশে থাকায় সিম বন্ধ হয়ে গেছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এমন সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
বায়োমেট্রিক জটিলতায় সিম ব্যবহারে যে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ছিল, নতুন এই সিদ্ধান্ত তা অনেকটাই কমিয়ে আনবে। নির্দিষ্ট নিয়ম ও কাগজপত্রের মাধ্যমে এখন সহজেই সমাধান পাওয়া যাবে, যা টেলিযোগাযোগ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে বাংলালিংক সিম ক্রয় ২০২৬ সকল ধাপ ও নিয়ম
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










