দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজন ব্যক্তির নামে একাধিক সিম নিবন্ধিত আছে, যেগুলোর সবগুলো নিয়মিত ব্যবহার হয় না। এসব অপ্রয়োজনীয় বা অচল সিম ভবিষ্যতে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকার ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে—অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা কেন জরুরি, কীভাবে বন্ধ করবেন এবং এতে কী সুবিধা পাওয়া যাবে।
আর পড়ুন-মোবাইল সিমে নেটওয়ার্ক পায় না ঘরে বসেই সমাধান করুন
অতিরিক্ত সিম বলতে কী বোঝায়
অতিরিক্ত সিম বলতে বোঝায় এমন সিম কার্ড, যেগুলো একজন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত থাকলেও নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না বা একেবারেই প্রয়োজন নেই। অনেক সময় পুরোনো ফোন, ডাটা সিম কিংবা অন্যের প্রয়োজনে নেওয়া সিমও এই তালিকায় পড়ে।
কেন অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা জরুরি
অপ্রয়োজনীয় সিম চালু থাকলে তা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো সিম দিয়ে যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, তাহলে সিমটি যার নামে নিবন্ধিত, তারই জবাবদিহি করতে হতে পারে। এ কারণে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
একজন ব্যক্তির নামে কয়টি সিম রাখা বৈধ
বর্তমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সংখ্যক মোবাইল সিম নিবন্ধন করতে পারেন। এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সিমের অপব্যবহার রোধ এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১৫টি মোবাইল সিম নিবন্ধন রাখা বৈধ। নির্ধারিত সীমার বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
আপনার নামে কতটি সিম আছে কীভাবে জানবেন
-
নির্দিষ্ট শর্টকোড ডায়াল করে
মোবাইল ফোন থেকে নির্ধারিত শর্টকোড ডায়াল করলে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জানা যায়। -
নিজ নিজ অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার থেকে
গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক বা টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে কল করে আপনার নামে কয়টি সিম রয়েছে তা জানতে পারবেন। -
কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে সরাসরি গিয়ে
নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরাসরি তথ্য যাচাই করা যায়। -
অপারেটরের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করে
কিছু অপারেটরের অ্যাপে লগইন করলে আপনার নামে নিবন্ধিত সিমের তথ্য দেখা যায়। -
অনলাইন সিম যাচাই সেবার মাধ্যমে
নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে আপনার নামে থাকা সব সিমের তালিকা যাচাই করা সম্ভব।
অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার ধাপ
ধাপ ১: আপনার নামে নিবন্ধিত সব সিমের তালিকা সংগ্রহ করুন
প্রথমে নিশ্চিত করুন, আপনার নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে এবং কোনগুলো ব্যবহার করছেন না।
ধাপ ২: কোন সিম বন্ধ করবেন তা নির্ধারণ করুন
যেসব সিম দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন না বা ভবিষ্যতেও প্রয়োজন নেই, সেগুলো আলাদা করুন।
ধাপ ৩: অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন
গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক বা টেলিটক—যে অপারেটরের সিম বন্ধ করবেন, তাদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
ধাপ ৪: পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করুন
জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখিয়ে মালিকানা যাচাই করতে হবে।
ধাপ ৫: সিম বন্ধের আবেদন করুন
কাস্টমার কেয়ারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে সিম বন্ধের আবেদন জমা দিন।
ধাপ ৬: নিশ্চিতকরণ বার্তা গ্রহণ করুন
সিম বন্ধ হলে সাধারণত এসএমএস বা মৌখিকভাবে আপনাকে নিশ্চিত করা হয়।
অনলাইনে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার সুযোগ
কিছু অপারেটর সীমিত পরিসরে অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে সিম ব্যবস্থাপনার সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে স্থায়ীভাবে সিম বন্ধ করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় কাস্টমার কেয়ার ভিজিট করা প্রয়োজন হয়।
অতিরিক্ত সিম বন্ধ করলে কী সুবিধা পাওয়া যাবে
অতিরিক্ত সিম বন্ধ করলে—
-
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ে।
-
আইনি ঝুঁকি কমে।
-
অপ্রয়োজনীয় ব্যালেন্স বা চার্জের ঝামেলা থাকে না।
-
জাতীয় সিম নিবন্ধন নীতিমালা মেনে চলা সহজ হয়।
অতিরিক্ত সিম বন্ধ না করলে কী সমস্যা হতে পারে
অপ্রয়োজনীয় সিম চালু থাকলে ভবিষ্যতে—
-
সিমের অপব্যবহার হতে পারে।
-
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসার মুখে পড়তে হতে পারে।
-
নতুন সিম কেনার সময় সীমাবদ্ধতায় পড়তে পারেন।
প্রশ্ন–উত্তর
১। প্রশ্নঃ অতিরিক্ত সিম বলতে কোন সিমগুলো বোঝায়?
উত্তর: যেসব সিম আপনার নামে নিবন্ধিত কিন্তু নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না, সেগুলোই অতিরিক্ত সিম।
২। প্রশ্নঃ অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: নিরাপত্তা ও নীতিমালার কারণে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৩। প্রশ্নঃ সিম বন্ধ করতে কি ফি লাগে?
উত্তর: সাধারণত সিম বন্ধ করতে কোনো ফি লাগে না।
৪। প্রশ্নঃ অনলাইনে কি সিম বন্ধ করা যায়?
উত্তর: কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কাস্টমার কেয়ার ভিজিট করতে হয়।
৫। প্রশ্নঃ সিম বন্ধ করলে নম্বর কি আবার পাওয়া যাবে?
উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে নম্বর ফেরত পাওয়া যায় না।
৬। প্রশ্নঃ বিদেশে থাকা অবস্থায় সিম বন্ধ করা সম্ভব?
উত্তর: কিছু অপারেটরের ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।
উপসংহার
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল সিম শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। একজন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত প্রতিটি সিমের দায়ভার আইনগতভাবে সেই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়। তাই নিজের নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে তা জানা এবং অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত সিম চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর্থিক ক্ষতি, তথ্য চুরি বা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সচেতন ব্যবহারকারীদের উচিত নিয়মিতভাবে নিজের সিমের তথ্য যাচাই করা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-BTRC-এর নতুন নির্দেশনা: ২০২৬ সালে সিম কেনার নতুন নিয়ম
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










