আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

স্মার্টফোন কেনার আগে শুধু র‌্যাম নয়,এর বাইরেও যে ৭ বিষয় দেখবেন

November 4, 2026 6:37 AM
স্মার্টফোনের র‌্যাম, প্রসেসর, স্টোরেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফিচার

স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র‌্যাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। ফোনের পারফরম্যান্স নির্ভর করে প্রসেসর, স্টোরেজ প্রযুক্তি, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনসহ আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তাই নতুন ফোন কেনার আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি, জেনে নিন।

আরও পড়ুন- ফিজিক্যাল সিম নাকি ই-সিম,ফোন কেনার আগে জেনে নিন কোনটি ব্যবহার করবেন?

নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রথমেই জানতে চান, ফোনটিতে কত জিবি র‌্যাম রয়েছে। ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র‌্যামের বিজ্ঞাপনও এখন বেশ চোখে পড়ে। ফলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, র‌্যাম যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি হবে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। একটি স্মার্টফোন কতটা দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করবে, তা শুধু র‌্যামের ওপর নির্ভর করে না। প্রসেসর, স্টোরেজ, সফটওয়্যারসহ আরও বেশ কিছু বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই ফোন কেনার সময় র‌্যামের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর কাজ এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলোও জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

১. প্রসেসরের মডেল ও সক্ষমতা

স্মার্টফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নির্ধারণে প্রসেসর বা চিপসেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ চালানো, গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজগুলো কত দ্রুত হবে, তার বড় একটি অংশ প্রসেসরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

এ কারণে ৮ জিবি র‌্যাম থাকা পুরোনো চিপসেটের ফোনের তুলনায় ৬ জিবি র‌্যামের আধুনিক প্রসেসরযুক্ত ফোন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করে নির্দিষ্ট প্রসেসর, ফোনের সফটওয়্যার ও অন্যান্য হার্ডওয়্যারের ওপর।

ফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসরের ব্র্যান্ড নয়, নির্দিষ্ট মডেল, প্রজন্ম ও সক্ষমতাও যাচাই করা উচিত। স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোসের বিভিন্ন চিপসেটের মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ফোন কিনলে চিপসেটের বাস্তব পারফরম্যান্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।

২. স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ও গতি

ফোনের স্টোরেজ বলতে সাধারণত ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখার জায়গাকে বোঝানো হয়। তবে স্টোরেজের ধারণক্ষমতার পাশাপাশি এর প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে স্মার্টফোনে ইএমএমসি ও ইউএফএসের মতো বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ইএমএমসি তুলনামূলক ধীরগতির। অন্যদিকে ইউএফএস ২.২, ইউএফএস ৩.১ ও ইউএফএস ৪.০-এর মতো প্রযুক্তি সাধারণত আরও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধা দেয়।

দ্রুত স্টোরেজ থাকলে অ্যাপ চালু করা, বড় ফাইল স্থানান্তর এবং গেম লোড করার মতো কাজ দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। ফলে বেশি র‌্যাম থাকা সত্ত্বেও ধীরগতির স্টোরেজযুক্ত ফোনে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে।

৩. সফটওয়্যার ও অপটিমাইজেশন

একই পরিমাণ র‌্যাম ও কাছাকাছি হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও দুটি ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন।

ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপগুলো র‌্যাম ও প্রসেসরের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু ফোনে অতিরিক্ত প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ এবং ভারী ইউজার ইন্টারফেস থাকায় সিস্টেমের রিসোর্স বেশি ব্যবহার হতে পারে।

অন্যদিকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা সফটওয়্যার তুলনামূলক সীমিত হার্ডওয়্যারেও সাবলীল অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এ কারণেই শুধু র‌্যামের পরিমাণ দিয়ে দুটি ফোনের পারফরম্যান্স তুলনা করা যথেষ্ট নয়।

ফোন কেনার আগে সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আপডেট সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো।

৪. ভার্চুয়াল র‌্যাম কতটা কার্যকর

বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে ৮ জিবি র‌্যামের পাশাপাশি আরও ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল র‌্যামের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে মোট ১৬ জিবি র‌্যাম মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়।

ভার্চুয়াল র‌্যাম তৈরির জন্য ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অস্থায়ী মেমোরির মতো কাজ করতে পারে। তবে স্টোরেজের গতি প্রকৃত র‌্যামের তুলনায় অনেক কম।

ফলে ভার্চুয়াল র‌্যাম কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করলেও এটি প্রকৃত র‌্যামের বিকল্প নয়। তাই ৮ জিবি র‌্যামের ফোনে ভার্চুয়াল র‌্যাম যোগ করে ১৬ জিবি হিসেবে প্রচার করা হলে সেটিকে আসল ১৬ জিবি র‌্যাম মনে করা ঠিক হবে না।

৫. ডিসপ্লের মান ও রিফ্রেশ রেট

স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার বড় একটি অংশ নির্ভর করে ডিসপ্লের ওপর। শুধু পর্দার আকার বড় হলেই ডিসপ্লে ভালো হয় না। রেজল্যুশন, প্যানেলের ধরন, উজ্জ্বলতা, রঙের মান এবং রিফ্রেশ রেটও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লেতে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন তুলনামূলক মসৃণ দেখাতে পারে। তবে শুধু ৯০ বা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকলেই ডিসপ্লে ভালো হবে, এমন নয়। প্যানেলের মান, রঙের নির্ভুলতা ও সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ।

৬. ব্যাটারি ও চার্জিং সুবিধা

ফোন কেনার আগে ব্যাটারির ধারণক্ষমতার পাশাপাশি বাস্তবে কতক্ষণ ব্যাকআপ পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি। একই ধারণক্ষমতার দুটি ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ এক রকম নাও হতে পারে। প্রসেসর, ডিসপ্লে, সফটওয়্যার এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর ব্যাটারির স্থায়িত্ব নির্ভর করে।

এ ছাড়া ফোনে কত ওয়াটের চার্জিং সুবিধা রয়েছে, চার্জার বাক্সে দেওয়া হয় কি না এবং ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে, সেগুলোও যাচাই করা উচিত।

৭. সফটওয়্যার আপডেট, ওয়ারেন্টি ও বাস্তব রিভিউ

একটি স্মার্টফোন কেনার পর সেটি কত দিন ব্যবহার করা যাবে, তা শুধু হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করে না। নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফোন কেনার আগে নির্মাতা কত বছর অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট দেবে, তা জেনে নেওয়া ভালো।

পাশাপাশি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা বিবেচনা করুন। কেনার আগে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের রিভিউ দেখুন। সম্ভব হলে দোকানে ফোনটি নিজে ব্যবহার করে দেখুন।

স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র‌্যাম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই সবকিছু নয়। শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুত স্টোরেজ, উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং মানসম্মত ডিসপ্লে একসঙ্গে কাজ করেই একটি ফোনকে ভালো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

তাই শুধু বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা র‌্যামের সংখ্যা দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের ব্যবহারের ধরন, প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক সমন্বয়ের ফোন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

সূত্র: যুগান্তর নিউজ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

Sobujar Alam

প্রযুক্তি, অনলাইন সেবা ও নাগরিক সুবিধাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করি। সরকারি ভাতা, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজ ভাষায় সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির নতুন আপডেট, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য তথ্য প্রকাশ করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিয়মিত গাইডধর্মী ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now