মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের ওঠানামার মধ্যেও দেশের ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিল সরকার। আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বুধবার রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ইঙ্গিত দেন। এতে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন-ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ২৪.৫৯ টাকা বৃদ্ধি প্রভাব পড়বে শিল্প ও বিদ্যুতে
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ থাকলেও সরকার এখনই জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর পথে হাঁটতে চায় না। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম চালু রাখা, শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা জরুরি।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ থাকলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেই পথে যাচ্ছে না বলে জানান তিতুমীর।
তার ভাষায়, “সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করতে হবে, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে।” এই অবস্থানে থেকে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই একটি চাপের মুখে থাকা অর্থনীতির সম্মুখীন হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, যা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিতুমীর জানান, সরকার ইতোমধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উল্লেখযোগ্য, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত বা গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত ও গণমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে।
এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর এই ইঙ্গিত শিল্প ও ব্যবসা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকতে পারে।
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাতাসের চেয়েও হালকা কঠিন পদার্থ গ্রাফিন অ্যারোজেলের বিস্ময়কর ক্ষমতা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








