ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় ঝুঁকি এখন ভুয়া ও সন্দেহজনক ওয়েবসাইট। অসতর্কভাবে কোনো লিংকে ক্লিক করলেই ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং ডেটা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তাই ডেটা চুরি হওয়ার আগেই কীভাবে সুরক্ষিত থাকা যায়, তা জানা জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও কিছু সহজ সেটিংস ব্যবহার করলেই অনলাইন ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিচে ধাপে ধাপে নিরাপদ থাকার কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-জিমেইল পাসওয়ার্ড কিভাবে দেখবো নিরাপদ উপায় ও সহজ
সন্দেহজনক ওয়েবসাইট চেনার উপায়
অনেক সময় ওয়েবসাইট দেখতে একদম আসল সাইটের মতো হলেও ভেতরে ফিশিং ফাঁদ থাকে। তাই কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা জরুরি।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
১। ওয়েবসাইটের ঠিকানায় বানান ভুল বা অস্বাভাবিক শব্দ।
২। https না থেকে শুধু http থাকা।
৩। অযথা ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি চাওয়া।
৪। অতিরিক্ত পপ-আপ বা অদ্ভুত বিজ্ঞাপন।
৫। জরুরি ভিত্তিতে টাকা বা তথ্য দেওয়ার চাপ।
এসব লক্ষণ দেখলেই সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
ব্রাউজারের সিকিউরিটি সেটিংস চালু রাখুন
আধুনিক ব্রাউজারগুলোতে বিল্ট-ইন সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। যেমন Google Chrome এবং Safari–তে ফিশিং ও ম্যালওয়্যার সুরক্ষা রয়েছে।
করণীয়
১। ব্রাউজারের সেটিংসে গিয়ে “Safe Browsing” বা সমমানের অপশন চালু করুন।
২। নিয়মিত ব্রাউজার আপডেট রাখুন।
৩। অচেনা এক্সটেনশন ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।
এতে ক্ষতিকর সাইটে ঢোকার আগে সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার
একই পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটে ব্যবহার করা বড় ঝুঁকি। হ্যাকাররা একটি সাইট থেকে তথ্য পেলে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশ করতে পারে।
নিরাপদ পদ্ধতি
১। প্রতিটি সাইটে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
২। বড় হাতের অক্ষর ছোট হাতের অক্ষর সংখ্যা ও চিহ্ন মিলিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।
৩। সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন।
বিশেষ করে Google অ্যাকাউন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে এই ব্যবস্থা জরুরি।
অজানা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন
ইমেইল এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা অচেনা লিংক বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক সময় এগুলো ফিশিং সাইটে নিয়ে যায়।
সতর্ক থাকবেন যেভাবে
১। প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করুন।
২। অজানা লিংক কপি করে সরাসরি ব্রাউজারে না খুলে আগে যাচাই করুন।
৩। সন্দেহ হলে সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
অ্যান্টিভাইরাস ও সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার
মোবাইল ও কম্পিউটারে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার রাখা নিরাপত্তা বাড়ায়। এটি ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও ম্যালওয়্যার ব্লক করতে সাহায্য করে।
বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া অ্যাপ ইনস্টল না করাই ভালো। বিশেষ করে অজানা APK ফাইল ব্যবহার করলে ঝুঁকি বাড়ে।
পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সতর্কতা
পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংবেদনশীল তথ্য প্রবেশ করানো ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কেউ ডেটা নজরদারি করতে পারে।
করণীয়
১। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে ব্যাংকিং বা পেমেন্ট সাইট এড়িয়ে চলুন।
২। প্রয়োজন হলে VPN ব্যবহার করুন।
৩। কাজ শেষে লগ আউট করতে ভুলবেন না।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ আপডেট না রাখলে নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। আপডেটে সাধারণত সিকিউরিটি প্যাচ যুক্ত থাকে, যা নতুন হুমকি মোকাবিলা করে।
উপসংহার
সন্দেহজনক ও খারাপ ওয়েবসাইট থেকে ডেটা সুরক্ষিত রাখতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান খুব বেশি প্রয়োজন নেই। সচেতনতা, সঠিক সেটিংস এবং নিয়মিত আপডেট রাখলেই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সবসময় ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-কল এলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় কারণ ও সমাধান জানুন
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








