২০২৬ সালের শুরু থেকেই মোবাইল যোগাযোগ খাতে একটি চাঞ্চল্যকর খবর দেখা দিয়েছে—দেশে জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক সিম বন্ধ হওয়ার ঘটনা সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে বিশ্লেষক ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়ে নিয়েছে।
বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা জানাচ্ছেন, এই সিম বন্ধের পেছনে মূল কারণ হলো সিম নিবন্ধন ও NEIR প্রকল্পের আওতায় পুরোনো ও অনিয়মিত সিমগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ও সঠিক ডেটা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর পড়ুন-BTRC-এর নতুন নির্দেশনা ২০২৬ সালে সিম কেনার নতুন নিয়ম
কেন ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ হলো
বিটিআরসি ও অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হওয়া সিমগুলোর একাধিক কারণ রয়েছে—
-
পুরোনো ও অনির্দিষ্ট তথ্যসহ সিম।
-
NEIR (National Equipment Identity Register) অনুপযুক্ত বা অবৈধ IMEI-সহ ডিভাইসের কারণে।
-
দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া সিম।
-
ফাঁকা বা ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন হওয়া সিম।
এসব কারণে মোবাইল অপারেটর ও BTRC মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কী পরিবর্তন আসছে
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো—
১. প্রায় ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা
যেসব সিম—
-
দীর্ঘদিন ব্যবহার হয় না।
-
মালিকানা অস্পষ্ট।
-
একজনের নামে অতিরিক্ত সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
২. *১৬০০১# ডায়াল করে জানা যাবে আপনার সিমের সংখ্যা
আপনার নামে কতটি সিম রেজিস্ট্রেশন আছে, তা জানতে—
📱 মোবাইল থেকে ডায়াল করুন:
👉 *১৬০০১#
ডায়াল করার পর—
-
একটি ফ্রি SMS আসবে।
-
সেখানে আপনার NID-তে রেজিস্টার্ড মোট সিমের সংখ্যা লেখা থাকবে।
এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সব অপারেটরের জন্য প্রযোজ্য।
সিম বন্ধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব কোথায় পড়েছে
ইন্ডাস্ট্রি পর্যবেক্ষকরা বলছেন—
-
গ্রামীণফোন, রবী, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকদের মধ্যে এই বন্ধের হার প্রায় সমান হলেও দুর্বল নিবন্ধন তথ্যযুক্ত সিমগুলোতে বেশি ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
-
এসব সিম মূলত ২জি/৩জি প্রজন্মের পুরোনো ডিভাইসে ব্যবহৃত হত বা দীর্ঘদিন অচল ছিল।
সিম বন্ধের ফলে গ্রাহকদের করণীয়
যেসব গ্রাহক তাদের সিম আচমকাই বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের করণীয় হলো—
-
অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার-এ যোগাযোগ করা।
-
NID/পাসপোর্ট বা প্রমাণপত্র নিয়ে যাচাই করানো।
-
প্রয়োজন হলে নতুন সিম বা মালিকানা পরিবর্তন করানো।
এতে দ্রুত আবার সিম সচল করা যায়।
কাস্টমার কেয়ারে গেলে কী লাগবে
অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করতে গেলে সাধারণত লাগবে—
-
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
-
যে নম্বরগুলো বন্ধ করতে চান তার তথ্য।
-
নিজে উপস্থিত থাকা (মালিক ছাড়া বন্ধ হয় না)।
সিম বন্ধের প্রভাব কি সাধারণ ব্যবহারকারীর ওপর পড়বে
বর্তমানে নেটওয়ার্ক অপারেটররা জানিয়েছেন, শুধু ভুল তথ্য বা পুরোনো সিম বন্ধ করা হয়েছে—সেজন্য সাধারণভাবে সক্রিয় গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব নেই। তবে যাদের সিম বন্ধ হয়েছে তারা দ্রুত কাস্টমার কেয়ারে যাওয়া উচিত।
প্রশ্ন–উত্তর
১. প্রশ্নঃ কেন জানুয়ারি থেকে ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ হলো?
উত্তর: পুরোনো, অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত তথ্যসহ সিমগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
২. প্রশ্নঃ NEIR কি এই বন্ধে ভূমিকা রাখে?
উত্তর: হ্যাঁ, NEIR সিস্টেম দিয়ে অননুমোদিত IMEI ও সিম শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
৩. প্রশ্নঃ বন্ধ হওয়া সিম কি আবার চালু হবে?
উত্তর: উপযুক্ত তথ্য ও যাচাই হলে পুনরায় সচল করা যেতে পারে।
৪. প্রশ্নঃ কবে বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল?
উত্তর: ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই প্রক্রিয়া গতি পায়।
৫. প্রশ্নঃ সাধারণ ব্যবহারকারীদের কি প্রভাব পড়বে?
উত্তর: না, শুধুমাত্র ভুল বা পুরোনো সিমগুলোই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
৬. প্রশ্নঃ বন্ধ হওয়া সিম যাচাই করতে কি করা উচিত?
উত্তর: নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার বা USSD কোডে যাচাই করতে পারেন।
উপসংহার
দেশের মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ সিম বন্ধ করা হয়েছে। NEIR ও সিম নিবন্ধনের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মোবাইল নেটওয়ার্ককে আরও স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত করবে। ব্যবহারকারীদের উচিত নিয়মিত নিজের সিম তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন করানো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-মোবাইল সিমের মালিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম (আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










