বাংলাদেশে মোবাইল ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে NEIR (National Equipment Identity Register) এর মাধ্যমে, যা IMEI-ভিত্তিক নিবন্ধন নিশ্চিত করে বৈধ ও অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে। এই সিস্টেমের উদ্দেশ্য মোবাইল নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা, কর আদায় ও অবৈধ ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে NEIR-এর কার্যক্রম নিয়ে নতুন আপডেট এসেছে, যা মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আর পড়ুন-বাংলাদেশে NEIR বন্ধ ৯০ দিন মোবাইল গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
NEIR ২০২৬-এ কী আপডেট হয়েছে
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে NEIR কার্যক্রমটি শুরু করার কথা থাকলেও পরে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) ঘোষণা করেছে যে NEIR সিস্টেমের পূর্ণ প্রয়োগ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে, যা আগে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে মোবাইল ট্রেডারদের আমদানিকৃত স্টকে থাকা সিম ছাড়া ফোনগুলোর IMEI তথ্য সিস্টেমে আপলোড করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, সরকার ৩ মাসের অনুগত্য সময় (grace period) দিয়েছে এবং অপরিবর্তিত হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য সময় বাড়িয়ে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে, যাতে রিটেইলার ও গ্রাহকরা সব অবৈধ বা অননিবন্ধিত ফোন দ্রুত সিস্টেমে রেজিস্টার করতে পারে।
NEIR এর লক্ষ্য ও কারণ
NEIR সিস্টেম চালুর উদ্দেশ্য হলো—
-
অবৈধ, ক্লোন বা নকল মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো।
-
মোবাইল ডিজিটাল ফ্রড ও টেলিকম-ভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ করা।
-
বৈধভাবে আমদানি হওয়া ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত ফোনগুলোর খাত ঠিক রাখা।
-
কর ফাঁকি প্রতিরোধ করা ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করা।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যেসব হ্যান্ডসেট বৈধ না, সেগুলো নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা আসতে পারে।
২০২৬ এ NEIR-এর বাস্তব প্রভাব
NEIR কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই কিছু বড় তথ্য উঠে এসেছে। NEIR ডাটাবেস বিশ্লেষণে দেখা গেছে দেশে ক্লোন বা নকল IMEI-র ব্যবহার ব্যাপক পরিমাণে চলছে, যেগুলোর সংখ্যা লক্ষাধিক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অবস্থানগুলো চিহ্নিত করা হলেও অনেক নকল IMEI-কে “গ্রে” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যাতে গ্রাহকদের ওপর তাড়াতাড়ি প্রভাব না পড়ে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হলো, NEIR সিস্টেম চালুর কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও গ্রাহক তাদের অবৈধ IMEI-সম্পন্ন ফোন জানিয়ে দিয়েছে যে তারা নেটওয়ার্কে ব্যবহার চালিয়ে রাখতে চাইবে, ফলে রেজিস্ট্রেশন ও ডেটা আপডেট কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের জন্য কি পরিবর্তন আসবে
NEIR সিস্টেম চালু হলে—
-
নতুন বা বিদেশ থেকে আনা ফোনগুলোর IMEI নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে।
-
অবৈধ IMEI-সহ ফোন নেটওয়ার্কে ব্যবহার সীমিত হবে।
-
বৈধভাবে নিবন্ধন ছাড়াই নেটওয়ার্ক সংযোগ চলবে না।
-
রিটেইলারদের জন্য ডেটা জমা ও রেজিস্ট্রেশন কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিবর্তনগুলি মোবাইল বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং অবৈধ ফোন ব্যবহারের হার কমাবে।
জনপ্রধান বার্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা
BTRC-এর পক্ষ থেকে ফোন ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে যে তারা IMEI তথ্য ও আনুসাঙ্গিক ডেটা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জমা দিয়ে দিতে হবে যাতে ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পর থেকে ফোনগুলো NEIR-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই আপডেটের ফলে সরকারের তথ্যভিত্তিক নজরদারি অনেক শক্তিশালী হবে এবং মোবাইল চোরাই বা কর ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১। প্রশ্নঃ NEIR কী?
উত্তরঃ NEIR হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, যার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর নিবন্ধন ও যাচাই করা হয়।
২। প্রশ্নঃ ২০২৬ সালে NEIR ব্যবস্থায় কী নতুন আপডেট এসেছে?
উত্তরঃ ২০২৬ সালে NEIR ব্যবস্থায় যাচাই প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে এবং অবৈধ বা নকল IMEI ফোন দ্রুত শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
৩। প্রশ্নঃ NEIR আপডেটের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী সুবিধা হবে?
উত্তরঃ এই আপডেটের ফলে বৈধ মোবাইল ব্যবহারকারীরা নিরাপদ নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবেন এবং চোরাই বা নকল ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি কমবে।
৪। প্রশ্নঃ ২০২৬ সালে নিবন্ধনহীন মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?
উত্তরঃ নিবন্ধনহীন বা অবৈধ IMEI যুক্ত মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।
৫। প্রশ্নঃ বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন কি NEIR-এ নিবন্ধন করতে হবে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে NEIR-এ IMEI নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
৬। প্রশ্নঃ NEIR আপডেট কি মোবাইল ফোনের দাম বা বাজারে প্রভাব ফেলবে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অবৈধ ফোন বন্ধ হওয়ায় বৈধ ও রেজিস্টার্ড মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়তে পারে এবং বাজার আরও নিয়ন্ত্রিত হবে।
উপসংহার
২০২৬ সালের NEIR আপডেট মোবাইল ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। NEIR-এর পূর্ণ প্রয়োগ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ফোন ব্যবসায়ীসহ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ম ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন মোবাইল নেটওয়ার্ককে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আইনগতভাবে শক্তিশালী করবে, বিশেষত বৈধ ও অবৈধ হাতের সেটগুলোর ব্যবহারে পার্থক্য স্পষ্ট করবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-মোবাইল ক্রেতাদের জন্য বড় সুখবর
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










