জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে চরম সমন্বয়হীনতা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরীর স্কুল-কলেজে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।
শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার কথা জানান। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে, কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যাবে—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন-শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা শুরু ৩০ এপ্রিল
সরকারি ঘোষণার পর রাজধানীর কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা বলা হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই বুঝতে পারছে না তারা কোন পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনা করবে।
শুধু অনলাইন নয়, অফলাইন ক্লাস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যেতে চায় না, তারা কি নিয়মিত ক্লাস চালাবে—এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর নেই। এতে করে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো পৌঁছায়নি।
ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি। ফলে তারা নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্লাস পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, মন্ত্রীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যাবে, আবার কখনো পুরো মহানগরীর কথা বলা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই ধরনের অস্পষ্ট অবস্থান শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া অনলাইন ক্লাস চালু করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শিখন ঘাটতি’ তৈরি হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবর রহমান মনে করেন, পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।
তার মতে, সংকটকালে একটি সুস্পষ্ট বিকল্প শিক্ষা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতি না থাকায় অনলাইন-অফলাইন ক্লাস নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।
অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ডিজিটাল বৈষম্য। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্ট ডিভাইস নেই, আবার কারও রয়েছে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ। ডেটা খরচও একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ফলে একদল শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারলেও অন্যরা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
অনলাইন ক্লাস নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষার্থীরাও দোটানায় পড়েছে। তারা বুঝতে পারছে না, ক্লাসে উপস্থিত হতে হবে নাকি বাসা থেকেই অংশ নিতে হবে।
অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, সন্তানের পড়াশোনা এবং নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত একটি পরিষ্কার ও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একই শহরে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে ক্লাস পরিচালনা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। কেউ সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস করবে, আবার কেউ পাঁচ দিন—এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে তা এখন প্রশ্নের মুখে। দ্রুত স্পষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা না এলে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও মান—দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উদ্যোগ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










