বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে ইরানের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি। এবার সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিশানা করার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব দেওয়া হবে। সেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবার মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক অফিসকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
আরও পড়ুন-এপ্রিলে অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম ডিজেল ১০০ পেট্রল ১১৬ টাকা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে হামলার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বতন্ত্র নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Google, Meta, Microsoft, Apple এবং Intel।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে IBM, Dell, Tesla, NVIDIA, Boeing, HP, Cisco, Oracle, Palantir, JPMorgan Chase, General Electric, Spear Solutions এবং G42।
ইরান এই সংস্থাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দাবি করেছে, যুদ্ধ পরিচালনায় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু অস্ত্রের লড়াই নয়; তথ্য ও প্রযুক্তিও বড় ভূমিকা রাখছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং কৌশল নির্ধারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ক্লাউড সিস্টেমের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ কারণেই এসব কোম্পানিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইরান।
তবে ইরানের এই হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। White House জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সক্ষম। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি কোম্পানিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। যদিও বাস্তবে হামলা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত; তবে এই হুমকি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নজরে রাখছে পুরো বিশ্ব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










