দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (Grameenphone) তার সাম্প্রতিক অর্থবছরের বার্ষিক আয়ের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিট মুনাফা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকার থেকেও নীচে নেমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকায়।
এই মুনাফা হ্রাসের ফলে গত এক বছরে মোট ৬৭৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে কোম্পানির মুনাফায়, যা প্রায় ১৮.৫ শতাংশের বেশি কমেছে। অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের খরচ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কারণ এই কমতির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন-গ্রামীণফোন গ্রাহকদের জন্য নতুন ফ্যামিলি প্যাক সুবিধা ও দাম
গ্রামীণফোনের বার্ষিক আর্থিক ফলাফলে প্রধান দিকগুলো
গ্রামীণফোনের ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে—
-
নিট মুনাফা: ২,৯৫৮ কোটি টাকা।
-
পূর্ববর্তী বছরের নিট মুনাফা: ৩,৬৩১ কোটি টাকা।
-
মুনাফা হ্রাস: মোট ৬৭৩ কোটি টাকা।
-
হ্রাসের পরিমাণ: প্রায় ১৮.৫%।
এই ফলাফল আট বছরের মধ্যে কোম্পানিটির সবচেয়ে কম মুনাফা হিসেবে গণনা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের রেকর্ডে উল্লেখযোগ্য পতন নির্দেশ করে।
মুনাফা কমানোর পেছনের মূল কারণগুলো
অর্থনীতির বিভিন্ন চাপ ও ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির লাভের মার্জিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষত—
-
ঋণের সুদ খরচ বেড়ে গেছে যা কোম্পানির মোট আর্থিক ব্যয়ে বোঝা সৃষ্টি করেছে।
-
ডলারের বিনিময় মূল্যজনিত খরচ বৃদ্ধি কোম্পানির ব্যয় বাড়িয়েছে।
-
সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই সব কারণে গ্রামীণফোনের লাভের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং এর ফলশ্রুতিতে কোম্পানির বার্ষিক নিট মুনাফায় বড় পতন ঘটেছে।
গ্রাহক সংখ্যা ও আয়ের অন্যান্য দিক
যদিও মুনাফা কমেছে, গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ও আয়ের কিছু পরিমাণ স্থিতিশীল থাকার খবরও পাওয়া গেছে।
-
Q3 2025-এ কোম্পানির আয়ের কিছুটা বেড়ে ৪,০১০ কোটি টাকা হয়েছে।
-
গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৩৯ লাখে পৌঁছেছে।
এই দিকগুলো কোম্পানির ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও পুনরুদ্ধারের কিছু সংকেত দিচ্ছে, যদিও বার্ষিক আয়ের কমতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠা হয়নি।
লভ্যাংশ ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নীতি
গ্রামীণফোন বিগত বছরেই শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ২১৫% লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত।
এই লভ্যাংশ ঘোষণার মাধ্যমে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যা ব্যবসার মন্দা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ
বিশ্বমন্ডল ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে অর্থনৈতিক চাপ ও কম প্যাকেজ করা ব্যয় ধারা কোম্পানির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে টেলিকম সেবার চাহিদায় ধীরগতি লক্ষ করা গেছে, যা আয় ও আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক ইম্প্যাক্ট ফেলে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির মুনাফায় পুনরুদ্ধারের গতি ধীর থাকতে পারে।
উপসংহার
এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা প্রায় ৬৭৩ কোটি টাকা কমেছে, যা প্রায় অষ্ট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা নির্দেশ করে। ঋণের খরচ, বিনিময় হার ও অর্থনৈতিক চাপ এই পতনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং কোম্পানির আয় ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-রবি ইন্টারনেট অফার ও সিমে এমবি কেনার সহজ নিয়ম ২০২৬
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









