দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চা বাড়াতে সারাদেশে বই পড়ার প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা
ড. জাহেদ উর রহমান জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এ উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সরকারের এই উদ্যোগ শুধু প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।
উপদেষ্টা আরও জানান, অতীতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার যে প্রচেষ্টা ছিল, সেটিকে এবার আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ‘নতুন কুঁড়ি’ নামে একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালু হয়েছিল, যা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগেও সেই ধারার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।
এবারের কর্মসূচিতে শুধু বই পড়াই নয়, বরং খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। ফলে এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি তাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, কল্পনাশক্তি ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হবে।
এছাড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এতে করে তারা একদিকে যেমন বই পড়ায় উৎসাহী হবে, অন্যদিকে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে জ্ঞানচর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্টদের নজর আগামী ৩০ এপ্রিলের উদ্বোধনের দিকে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







