বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ChatGPT, Google Gemini-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন কোটি কোটি প্রশ্ন করা হচ্ছে। তবে এই সহজ ও দ্রুত সেবার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় বাস্তবতা—বিদ্যুৎ খরচ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাধারণ এআই প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে প্রায় ২ থেকে ১০ ওয়াট-ঘণ্টা (Wh) পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। বিষয়টি শুনতে খুব বেশি মনে না হলেও, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে লক্ষ-কোটি প্রশ্নের হিসেবে এটি বিশাল পরিমাণ শক্তি ব্যবহারে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন-চ্যাটজিপিটিতে নতুন ‘লাইব্রেরি’ ফিচার, ফাইল সংরক্ষণ হবে আরও সহজ
এআই কোনো সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন নয়। এটি শুধু তথ্য খুঁজে দেয় না, বরং ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বুঝে নতুন করে উত্তর তৈরি করে। এই কাজের জন্য প্রয়োজন হয় শক্তিশালী সার্ভার, উন্নত প্রসেসর এবং জটিল অ্যালগরিদম।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন OpenAI এবং Google তাদের এআই সেবা চালাতে বিশাল ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে। এসব ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার সার্ভার একসঙ্গে কাজ করে, যা চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
এর পাশাপাশি, সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে শক্তিশালী কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়।
একটি সাধারণ গুগল সার্চ করতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তার তুলনায় এআই প্রশ্নের খরচ অনেক বেশি। গড়ে একটি সার্চে প্রায় ০.৩ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ লাগে, যেখানে এআই প্রশ্নে লাগে কয়েক গুণ বেশি।এর মূল কারণ হলো—সার্চ ইঞ্জিন তথ্য খুঁজে দেয়,এআই নতুন করে উত্তর তৈরি করে ।এই ‘জেনারেটিভ’ প্রক্রিয়াটিই বেশি শক্তি খরচ করে।
এআই ব্যবহারের এই বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে। কারণ, অধিকাংশ বিদ্যুৎ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন হয়, যা কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়।
এছাড়া ডেটা সেন্টারগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানি ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও এখন আলোচনা বাড়ছে।
এআই প্রযুক্তি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই সমস্যা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার,আরও দক্ষ সার্ভার তৈরি,কম শক্তি খরচে এআই মডেল উন্নয়ন।
বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলো সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় বা একই ধরনের প্রশ্ন বারবার করা এড়িয়ে চললে সামগ্রিকভাবে শক্তি সাশ্রয় সম্ভব।
ছোট, নির্দিষ্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করলে এআই সিস্টেম কম সময় ও শক্তি ব্যবহার করে উত্তর দিতে পারে।
এআই প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনকে সহজ ও দ্রুততর করেছে। তবে এর পেছনের শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘লিও’ আনছে অ্যামাজন, ২০২৬-এ চালু
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







