দেশে আবারও বাড়তে থাকা হাম রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারিত করা হবে।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, রবিবার সকাল ৯টা থেকে দেশজুড়ে একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
আরও পড়ুন-এসএলই কী কেন হয় এই জটিল দীর্ঘমেয়াদি রোগ সম্পর্কে জানুন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যেসব উপজেলাকে ‘হাই রিস্ক হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি উপজেলা, পাবনা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৩০টি উপজেলা। এসব এলাকায় হাম সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে সরকারের সমন্বিত প্রস্তুতি ও গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। শিশু আগে টিকা নিয়েছে কি না, সেটি বিবেচ্য নয়—সব শিশুকেই এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে, যাতে কোনো শিশু সুরক্ষার বাইরে না থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সময়মতো টিকা দেওয়া হলে এই রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য অভিভাবকদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, যেসব শিশু বর্তমানে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।
এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী ২১ মে’র মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর আগে ধাপে ধাপে দেশের সব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ এবং কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
সবশেষে তিনি অভিভাবক, গণমাধ্যম এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে গুজব থেকে দূরে থাকার এবং সঠিক তথ্য প্রচারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







