চলতি বছর বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান Omdia–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
যন্ত্রাংশের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টফোন উৎপাদনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন-৭২০০mAh ব্যাটারি ও Sony ক্যামেরা নিয়ে এলো iQOO Z11x
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে একটি স্মার্টফোন তৈরির মোট খরচের বড় একটি অংশই ব্যয় হচ্ছে মেমোরি চিপের পেছনে। এর ফলে নির্মাতা কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের স্মার্টফোনের দাম বাড়াতে শুরু করেছে।
তবে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাজারে স্মার্টফোনের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে, যেখানে ক্রেতারা দামের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, সেখানে বিক্রিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি মেমোরি চিপের দাম আরও বাড়তে থাকে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সার্ভারের চাহিদার কারণে চিপ সংকট তীব্র হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এটি ২০২২ সালের বাজার মন্দাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বাড়ার মতো বিষয়গুলোও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, যা স্মার্টফোন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই সংকট সব ধরনের স্মার্টফোনে সমানভাবে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। Jaker Li জানান, ১০০ ডলার বা তার কম দামের বাজেট স্মার্টফোনের বিক্রি প্রায় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কারণ এ ধরনের ফোনে মুনাফার পরিমাণ খুবই কম থাকে, ফলে যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর জন্য সেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ৮০০ ডলারের বেশি দামের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজার উল্টো কিছুটা বাড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সেগমেন্টে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Apple এবং Samsung–এর মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এই সংকট তুলনামূলকভাবে সহজে মোকাবিলা করতে পারবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমানো এবং নতুন মডেল পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। এর প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও পড়তে পারে।
কারণ ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের স্মার্টফোন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-টেলিটক Cloud 4G হ্যান্ডসেট ২,৪৯৯ টাকায় ২GB ডেটা ফ্রি
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






