ভোটের দিন শুধু ভোট দেওয়াই দায়িত্ব নয়—বরং সঠিক নিয়ম মেনে ভোট দেওয়া ও নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা করাও নাগরিক দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের জন্য স্পষ্ট কিছু বিধিনিষেধ নির্ধারণ করেছে। এই নিয়মগুলো না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
তাই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে জেনে নিন—কে কী করতে পারবেন, আর কী করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুরুসরাসরি ইসিতে অভিযোগ করা যাবে—এমন ৫টি নম্বর জেনে নিন
প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ
ভোটের দিন প্রার্থীদের আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে কার্যকর থাকে।
যা করা যাবে না:
-
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো।
-
মাইকিং, পোস্টার প্রদর্শন বা শোডাউন করা।
-
ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা।
-
ভোটকেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় ভিড় সৃষ্টি করা।
-
ভোটার পরিবহনের জন্য যানবাহন সরবরাহ (নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া)।
যা করা যাবে:
-
নিজের নির্ধারিত পোলিং এজেন্ট নিয়োগ।
-
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন (আইন অনুযায়ী)।
-
অনিয়ম হলে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
পোলিং এজেন্টদের জন্য নিয়ম
পোলিং এজেন্টরা প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের দায়িত্ব ও আচরণে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
যা করা যাবে না:
-
ভোটারদের ভোটদানে প্রভাবিত করা।
-
ভোট গোপনীয়তা ভঙ্গ করা।
-
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অযথা বাধা দেওয়া।
-
প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশ অমান্য করা।
যা করা যাবে:
-
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ।
-
সন্দেহজনক ঘটনার প্রতিবেদন করা।
-
ভোট গণনা পর্যায়ে উপস্থিত থাকা।
ভোটারদের জন্য বিধিনিষেধ
ভোটারদের কিছু মৌলিক নিয়ম মানতে হয় যাতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।
যা করা যাবে না:
-
গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার।
-
ব্যালট/ইভিএমের ছবি বা ভিডিও ধারণ।
-
ভোটকেন্দ্রে অযথা ভিড় করা।
-
লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।
-
অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা।
যা করা যাবে:
-
জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার স্লিপ সঙ্গে নেওয়া।
-
নিজের ভোট গোপনে প্রদান।
-
অনিয়ম দেখলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো।
৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে—
-
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
-
প্রচার সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ
-
লাঠিসোঁটা বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ
-
দলীয় স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই এলাকা তদারকি করে থাকে।
বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি?
-
তাৎক্ষণিক জরিমানা
-
কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার
-
প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা
-
নির্বাচনী ফল বাতিলের সুপারিশ
নির্বাচন কমিশন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
কেন এসব নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ?
- ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে।
- প্রভাবমুক্ত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে।
- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বজায় রাখতে।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
নিয়ম মেনে চললে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য।
উপসংহার
ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট এবং ভোটার—সবার দায়িত্ব নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি শুধু আইনি কাঠামো নয়, এটি একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ভিত্তি। সচেতন অংশগ্রহণই পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-নির্বাচন কমিশনের Smart Election Management BD অ্যাপ | ভোটারদের অফিসিয়াল গাইড
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







