বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং সেবা, সামাজিক যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষণের একটি প্রধান মাধ্যম। ফলে একটি মোবাইল ফোন কার নামে নিবন্ধিত রয়েছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনা-বেচার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশে প্রতিটি মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট IMEI নম্বরের মাধ্যমে একটি জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আপনি যদি ব্যবহৃত মোবাইল বিক্রি করেন কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে দেন, অথচ ফোনটি আপনার নামেই রেজিস্ট্রেশন থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ফোন দিয়ে কোনো অনৈতিক বা অবৈধ কাজ হলে তার দায় আপনার ওপরও পড়তে পারে। এই ঝুঁকি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করা।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে ২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা মোবাইল ফোন ২০২৬
মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন কী
মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর পূর্ববর্তী মালিকের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত তথ্য বাতিল করা হয়। এর ফলে ফোনটির মালিকানা পুরোনো ব্যবহারকারীর সঙ্গে আর সংযুক্ত থাকে না এবং নতুন মালিক চাইলে নিজের নামে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন কেন জরুরি
-
ফোনের মালিকানা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে।
-
ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে।
-
মোবাইল অপব্যবহারের দায় থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে।
-
আইনগত ঝুঁকি ও হয়রানি এড়াতে।
-
নতুন মালিকের জন্য ফোন ব্যবহারে কোনো বাধা না রাখতে।
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করার আগে যা করবেন
-
ফোনের ভেতরের সব ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও ফাইল মুছে ফেলুন।
-
গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে লগআউট করুন।
-
ফোনে ফ্যাক্টরি রিসেট দিন।
-
সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড খুলে নিন।
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন যেভাবে ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন
IMEI নম্বর সংগ্রহ করার পদ্ধতি
ডি-রেজিস্ট্রেশন করার জন্য প্রথমেই ফোনটির IMEI নম্বর জানা প্রয়োজন। সাধারণত—
-
ফোনে *#06# ডায়াল করলে IMEI নম্বর দেখা যায়।
-
ফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে IMEI নম্বর পাওয়া যায়।
-
মোবাইল ফোনের বক্স বা রসিদেও IMEI নম্বর উল্লেখ থাকে।
অনলাইনে ডি-রেজিস্ট্রেশন করার পদ্ধতি
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এই প্রক্রিয়ায়—
-
নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হয়।
-
ফোনের IMEI নম্বর প্রদান করতে হয়।
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে যাচাই করতে হয়।
-
ডি-রেজিস্ট্রেশন আবেদন সাবমিট করতে হয়।
সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে ফোনটি আপনার নাম থেকে বাতিল হয়ে যায়।
গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে ডি-রেজিস্ট্রেশন
যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাঁরা নিকটস্থ মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়েও ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। সেখানে—
-
জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।
-
ফোনের IMEI নম্বর প্রদান করতে হয়।
-
কর্তৃপক্ষ যাচাই শেষে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেয়।
অনলাইনে ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে কত সময় লাগে
অনলাইনে মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে সাধারণত খুব বেশি সময় লাগে না। সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্ট প্রস্তুত থাকলে প্রায় কয়েক মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়।
প্রক্রিয়াটি শুরু করার সময়ে আপনি প্রথমে IMEI নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডেটা অনলাইনে সাবমিট করবেন। সঠিক তথ্য দিলে সিস্টেম সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করে এবং সফলভাবে ডি-রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। কোনো
ত্রুটি বা তথ্য মিল না থাকলে বা প্রয়োজনীয় যাচাই আরও সময় নিলে সম্পন্ন হতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।অতএব, অনলাইনে ডি-রেজিস্ট্রেশন সাধারণভাবে দ্রুত ও কার্যকর, এবং কোনো অবস্থাতেই এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী বা জটিল প্রক্রিয়া নয়।
ঘরে বসে ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন যেভাবে
-
প্রথমে আপনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটির IMEI নম্বর সংগ্রহ করুন।
-
ফোনে *#06# ডায়াল করে স্ক্রিনে দেখানো IMEI নম্বরটি নোট করে রাখুন।
-
এরপর সরকার নির্ধারিত অনলাইন মোবাইল রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে প্রবেশ করুন।
-
ডি-রেজিস্ট্রেশন বা মোবাইল মালিকানা বাতিল সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন।
-
নির্ধারিত ফর্মে ফোনের IMEI নম্বর সঠিকভাবে লিখুন।
-
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
-
সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন।
-
অনলাইন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই করবে।
-
তথ্য সঠিক থাকলে ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
-
কিছু সময় পর এসএমএস বা অনলাইন নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যাবে।
-
নিশ্চিতকরণ পাওয়ার পর বুঝতে হবে ফোনটি আপনার নাম থেকে বাতিল হয়েছে।
-
শেষে ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে সব ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলুন।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: আইনগতভাবে সরাসরি বাধ্যতামূলক না হলেও নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ আইনি ঝামেলা এড়াতে ডি-রেজিস্ট্রেশন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রশ্ন ২: ডি-রেজিস্ট্রেশন না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: ফোনটি দিয়ে কোনো অপরাধ হলে বা অপব্যবহার হলে পূর্ববর্তী মালিক হিসেবে আপনাকেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: অনলাইনে ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে কত সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত তথ্য সঠিক থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন ৪: একাধিক ব্যবহৃত ফোন একসঙ্গে ডি-রেজিস্ট্রেশন করা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রয়োজনীয় IMEI নম্বর ও তথ্য থাকলে একাধিক ফোন একসঙ্গে ডি-রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
প্রশ্ন ৫: ডি-রেজিস্ট্রেশন করার পর নতুন মালিক কী করতে পারবেন?
উত্তর: নতুন মালিক নিজের জাতীয় পরিচয় দিয়ে ফোনটি পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
উপসংহার
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করা একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। এটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আইনগত ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষা দেয়। সঠিক নিয়মে ও সময়মতো ডি-রেজিস্ট্রেশন করলে মোবাইল ফোন কেনাবেচা আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হয়। তাই পুরোনো মোবাইল ছাড়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-আইফোন 16 বনাম আইফোন 17 তুলনামূলক বিশ্লেষণ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






