আলহামদুলিল্লাহ, দেখা গেল রজবের চাঁদ। এর মাধ্যমে শুরু হলো ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় সময়—পবিত্র তিন মাস: রজব, শাবান ও রমজান। এই তিনটি মাস একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ।
রজব মাসকে বলা হয় আল্লাহর মাস, শাবান রাসূল ﷺ–এর মাস এবং রমজান উম্মতের মাস। তাই রজবের চাঁদ দেখা মানেই রমজানের প্রস্তুতির ঘন্টা বেজে ওঠা। অনেক মুসলমানই জানতে চান—এই মাসের ফজিলত কী, কী কী আমল করা উত্তম, কোন কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি।
আর পড়ুন-টেকনো মোবাইল দাম বাংলাদেশ ২০২৬
রজব মাস কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রজব হলো হিজরি সালের সপ্তম মাস। এটি চারটি সম্মানিত মাসের (আশহুরে হুরুম) একটি। কুরআনে যেসব মাসকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, রজব তাদের অন্তর্ভুক্ত।
এই মাসে:
-
গুনাহের শাস্তি বেশি কঠিন।
-
নেক আমলের সওয়াব বেশি।
-
যুদ্ধ-বিবাদ নিষিদ্ধ ছিল (জাহেলি যুগেও)।
এ মাসেই সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মিরাজের ঘটনা, যা মুসলমানদের ঈমানকে আরও মজবুত করে।
রজব মাসের ফজিলত
১️.সম্মানিত মাস হওয়া
রজব এমন একটি মাস যেখানে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিশেষভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসার সুযোগ দেন।
২️.তওবার উত্তম সময়
যারা দীর্ঘদিন গুনাহে ডুবে ছিল, তাদের জন্য রজব মাস এক নতুন সূচনা।
৩️.রমজানের প্রস্তুতির মাস
রজব ও শাবান হচ্ছে রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি। এখন থেকেই ইবাদতে অভ্যস্ত হলে রমজান সুন্দরভাবে কাটে।
রজব মাসে করণীয় আমল
১. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার
এই মাসে অন্তর থেকে তওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
👉 “আস্তাগফিরুল্লাহ” বেশি বেশি পড়া উচিত।
২. নফল নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত
নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ এবং প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. নফল রোজা
নির্দিষ্ট কোনো দিনের বাধ্যতামূলক রোজা নেই, তবে সামর্থ্য অনুযায়ী নফল রোজা রাখা উত্তম।
৪. দরুদ শরিফ পাঠ
রাসূল ﷺ–এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৫. রমজানের পরিকল্পনা করা
কুরআন খতম, রোজা, সদকা—সব কিছুর একটি পরিকল্পনা এখনই করে ফেলুন।
রজব মাসে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত
❌ ভিত্তিহীন বিদআত আমল
❌ নির্দিষ্ট তারিখে বিশেষ নামাজ বা রোজাকে ফরজ মনে করা
❌ গুনাহকে হালকা ভাবে নেওয়া
❌ অহেতুক ঝগড়া ও হিংসা
ইসলামে প্রমাণ ছাড়া কোনো আমল করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
রজব মাসের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
রজব মাস শুরু হলে রাসূল ﷺ এই দোয়াটি পড়তেন—
“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।”
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
শাবান মাস কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শাবান হলো হিজরি সালের অষ্টম মাস। এই মাসটি রমজানের ঠিক আগের মাস হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে, মানুষ সাধারণত রজব ও রমজানের মাঝে থাকা এই মাসকে অবহেলা করে।
এই মাসে:
-
আমলসমূহ আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।
-
রাসূল ﷺ বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন।
-
রমজানের জন্য আত্মিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শাবান মাসের ফজিলত
১️.আমল আল্লাহর কাছে উঠানোর মাস
শাবান মাসে বান্দার সারা বছরের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই এই সময় নেক আমলে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২️.রাসূল ﷺ–এর বিশেষ আমল
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন।
৩️.ক্ষমা ও রহমতের সুযোগ
এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অনেককে ক্ষমা করে দেন।
শাবান মাসে করণীয় আমল
✅ ১. নফল রোজা রাখা
পুরো মাস বা অধিকাংশ দিন নফল রোজা রাখা উত্তম। বিশেষ করে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা ভালো।
✅ ২. বেশি বেশি নফল ইবাদত
নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া উচিত।
✅ ৩. দরুদ ও ইস্তিগফার
রাসূল ﷺ–এর ওপর দরুদ পাঠ এবং ইস্তিগফার এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
✅ ৪. রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি
কুরআন খতমের পরিকল্পনা, রোজার নিয়ত, সদকার প্রস্তুতি—সব কিছু এখন থেকেই গুছিয়ে নেওয়া উচিত।
শবে বরাত: সঠিক ধারণা
শাবান মাসের একটি আলোচিত রাত হলো শবে বরাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা বহু বান্দাকে ক্ষমা করেন—এমন বর্ণনা পাওয়া যায়।
তবে মনে রাখতে হবে—
❌ নির্দিষ্ট পদ্ধতির বিশেষ নামাজকে ফরজ বা সুন্নত মনে করা ঠিক নয়
✅ সাধারণ নফল ইবাদত ও দোয়া করা যেতে পারে
ইবাদতে বাড়াবাড়ি বা বিদআত থেকে বিরত থাকা জরুরি।
শাবান মাসে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত
❌ গুনাহে লিপ্ত থাকা।
❌ ভিত্তিহীন আমল প্রচলন করা।
❌ শবে বরাতকে উৎসবে পরিণত করা।
❌ রমজানের আগে ইবাদতে আলসেমি করা।
এই মাস সংযম ও প্রস্তুতির মাস—অবহেলা নয়।
শাবান মাসের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি বেশি পড়তেন—
“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।”
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের জন্য শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
প্রশ্ন–উত্তর
❓ রজব মাসে কি নির্দিষ্ট কোনো রোজা ফরজ?
না, রজব মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ রোজা নেই। তবে নফল রোজা রাখা যায়।
❓ রজব মাসে কি শবে মিরাজ পালন করা জরুরি?
শবে মিরাজের ঘটনা সত্য, তবে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পালন করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
❓ রজব মাসে গুনাহ করলে কি শাস্তি বেশি?
হ্যাঁ, সম্মানিত মাস হওয়ায় গুনাহের গুরুত্ব ও শাস্তি বেশি।
উপসংহার
দেখা গেল রজবের চাঁদ—এটি শুধু একটি মাস শুরু হওয়ার খবর নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধির ডাক। এই মাস আমাদের শেখায় কীভাবে রমজানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়।
আসুন, এই বরকতময় মাসকে অবহেলা না করে—
✔ গুনাহ ছেড়ে।
✔ ইবাদতে মনোযোগী হয়ে।
✔ আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে।
একটি সুন্দর রমজানের পথে এগিয়ে যাই।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রজব, শাবান ও রমজান মাসের পূর্ণ বরকত নসিব করুন। আমিন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-মাত্র ২ মিনিটে Google Map দিয়ে মোবাইল লোকেশন বের করার সহজ কৌশল (আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










