বাংলাদেশে একজন নাগরিক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি সরকারিভাবে স্বীকৃত ডকুমেন্টই নয় — এর মাধ্যমে তুমি পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, স্কুল ভর্তি, ভোটার আইডি, চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অনেক অফিস-ডকুমেন্টে স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে পারবে।
সুতরাং জন্মের ঠিক সময়ে (সাধারণত ৪৫ দিনের মধ্যে) জন্ম নিবন্ধন করা সর্বোত্তম, যদিও বয়স অনুসারে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন চেক করবেন যেভাবে – ঘরে বসেই
জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে (দরকারি কাগজপত্র)
নিচে বয়সভেদে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
০ থেকে ৪৫ দিনের শিশুর জন্ম নিবন্ধন
এই বয়সে সবচেয়ে সহজ — নিম্নলিখিত কাগজপত্র লাগবে:
✔️ ইপিআই (EPI) টিকা কার্ড বা হাসপাতালের ছাড়পত্র (জন্মের তারিখের প্রমাণ)।
✔️ পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ফটোকপি।
✔️ হোল্ডিং নম্বর এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ।
✔️ আবেদনকারী পিতা/মাতার সচল মোবাইল নম্বর।
✔️ ১-২ কপি রিসেন্ট পাসপোর্ট সাইজ ফটো।
ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হাসপাতালের ছাড়পত্র বা EPI কার্ড থাকলে আবেদন করা সবচেয়ে সহজ।
৪৬ দিন থেকে ৫ বছর
গত ৪৫ দিনের পরে কিছু অতিরিক্ত প্রমাণ দরকার হয়:
✔️ EPI কার্ড অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়ন (সিগনেচার ও সীলসহ)।
✔️ পিতা-মাতার NID/জন্ম সনদ
✔️ স্কুল/প্রথম বিদ্যালয়ের প্রধানের সীল-স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন (যদি বিদ্যালয়ে থাকে)।
✔️ হোল্ডিং নম্বর ও ট্যাক্স রশ।
✔️ মোবাইল নম্বর।
✔️ পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৫ বছরের বেশি বয়স
আরেকটু জটিল — জন্মের সঠিক তারিখ প্রমাণ করতে নিচের কাগজপত্র দরকার:
✔️ সরকারি বা স্বীকৃত চিকিৎসকের বয়স প্রমাণ সনদ
✔️ PSC, JSC বা SSC পরীক্ষার সার্টিফিকেট (যেখানে জন্ম তারিখ উল্লেখ থাকে)
✔️ পিতা-মাতার NID / জন্ম সনদ
✔️ হোল্ডিং নম্বর ও ট্যাক্স রসিদ
✔️ মোবাইল নম্বর
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার সহজ উপায় ২০২৬
কীভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করবেন
বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করা যায় — এটি সহজ ও দ্রুত। 👇
-
প্রথমে BDRIS ওয়েবসাইটে যান:
https://bdris.gov.bd/br/application -
ফরমটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
-
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে আপলোড করুন।
-
আবেদনটি সাবমিট করুন ও কনফার্মেশন পেজটি প্রিন্ট করে রাখুন।
-
অনেক ক্ষেত্রে আপনি নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও আবেদন করতে পারেন।
মনে রাখবেন — অনলাইনে ফাইল আপলোডের জন্য ফটো/ডকুমেন্টের সাইজ সাধারণত ১০০ KB এর নিচে হতে হয়।
আবেদন জমা ও আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী
✔️ অনলাইনে ডাটা সাবমিট করার পর ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটিটিজেন সার্ভিস সেন্টার-এ যাচাই করা হতে পারে।
✔️ অনেক ক্ষেত্রে জন্ম সনদ সংগ্রহের আগে অভিভাবকের জন্ম সনদের অনলাইন রেকর্ড থাকা সুবিধাজনক।
জন্ম নিবন্ধন সনদ একটি সরকারি আইনি ডকুমেন্ট — এটি শিক্ষাগত, সরকারি, ব্যাংক, ভিসা/পাসপোর্টসহ নানা কাজে বাধ্যতামূলক।
জটিল পরিস্থিতি
✴️ পিতা-মাতা উভয়ের জন্ম সনদ না থাকলে কখনো কখনো ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা প্রত্যয়ন চাওয়া হতে পারে।
✴️ ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়।
✴️ কখনো কখনো ডাক্তার/হেলথওয়ার্কার/স্কুল প্রধানের সার্টিফিকেট প্রমাণ হিসেবে চাওয়া হতে পারে।
খুবই সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন কোন বয়সে করানো উচিত?
➡️ সাধারণত ৪৫ দিনের মধ্যে করানো শ্রেয়, কারণ পরে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট লাগতে পারে।
প্রশ্ন: কি-কি কাগজপত্র লাগবে?
➡️ বয়সভেদে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো উপরে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: অনলাইনেই কি সম্পূর্ণ আবেদন করা যায়?
➡️ হ্যাঁ, অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং পরে যাচাই/ডকুমেন্ট চেকিং হতে পারে।
প্রশ্ন: মোবাইল নম্বর এবং হোল্ডিং রসিদ কেন লাগে?
➡️ কারণ এগুলো স্থায়ী ঠিকানা ও যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন করার শেষ সময় কত দিন? দেরি করলে যে সমস্যায় পড়বেন!
উপসংহার
জন্ম নিবন্ধন একটি অনন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি নাগরিকের জীবনে বহু কাজে লাগে। বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের জন্য কিছু মূল কাগজপত্র যেমন EPI কার্ড / হাসপাতালের ছাড়পত্র, পিতা-মাতার NID, হোল্ডিং নম্বর ও ট্যাক্স রশিদ, মোবাইল নম্বর, বয়স প্রমাণ (যদি বয়স বেশি হয়) প্রয়োজন। বয়স অনুসারে ডকুমেন্টের ধরন পরিবর্তিত হয় এবং অনলাইনে আবেদন করাটা এখন অনেক সহজ হয়েছে।


